ক.
বেশি লাভের আশায় আসল খাদ্যের সাথে যখন নিম্নমানের, ক্ষতিকর বা নিষিদ্ধ কোনো রাসায়নিক দ্রব্য মেশানো হয় এবং খাদ্যের প্রকৃত গুণগত মান নষ্ট করা হয়, তখন তাকে ভেজাল খাদ্য বলে।
খ.
পচনশীল খাদ্যদ্রব্যকে নষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে দীর্ঘকাল খাওয়ার উপযোগী রাখাকেই খাদ্য সংরক্ষণ বলে।
কৃষিপণ্য সাধারণত নির্দিষ্ট মৌসুমে উৎপাদিত হয় এবং এর বড় একটি অংশ পচনশীল। সারা বছর ধরে মানুষের জন্য খাদ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে, অফ-সিজনে বা বন্যা-খরার মতো দুর্যোগকালীন সময়ে খাদ্যাভাব দূর করতে এবং বাজারে দামের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য বৈজ্ঞানিক উপায়ে খাদ্য সংরক্ষণের প্রয়োজন অপরিসীম।
গ.
ভোক্তার আয়ের সাথে উদ্দীপকের 'খাদ্যের ক্রয়যোগ্যতা' বিষয়টি অধিক সম্পর্কিত।
খাদ্যের ক্রয়যোগ্যতা বলতে বাজারে পর্যাপ্ত খাদ্য থাকার পাশাপাশি সেই খাদ্য কিনে খাওয়ার মতো মানুষের আর্থিক সামর্থ্য বা ক্রয়ক্ষমতা থাকাকে বোঝায়। বাজারে প্রচুর খাদ্যদ্রব্য মজুদ থাকলেও ভোক্তার আয় যদি কম হয়, তবে সে তার প্রয়োজনীয় খাদ্য ক্রয় করতে পারে না। অর্থাৎ, আয় কম হলে ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতা কমে যায় এবং সে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। বিপরীতক্রমে, ভোক্তার আয় বৃদ্ধি পেলে তার খাদ্যের ক্রয়যোগ্যতা বাড়ে এবং সে তার পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় ও পুষ্টিকর খাদ্য সহজে সংগ্রহ করতে পারে। তাই বলা যায়, ভোক্তার আয়ের হ্রাস-বৃদ্ধির প্রত্যক্ষ প্রভাব খাদ্যের ক্রয়যোগ্যতার ওপরই সবচেয়ে বেশি পড়ে।
ঘ.
উদ্দীপকে উল্লিখিত তিনটি উপাদান (প্রাপ্যতা, ক্রয়যোগ্যতা ও ব্যবহার) মূলত 'খাদ্য নিরাপত্তা' -এর তিনটি প্রধান স্তম্ভ। "শুধু উৎপাদন বৃদ্ধিই নয় বরং সঠিক বণ্টন এবং ক্রয়ক্ষমতা নিশ্চিত করাই খাদ্য নিরাপত্তার মূল চাবিকাঠি"— মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ। নিচে এর যৌক্তিকতা মূল্যায়ন করা হলো:
খাদ্য নিরাপত্তার প্রথম শর্ত হলো দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য থাকা বা খাদ্যের প্রাপ্যতা। এর জন্য দেশে কৃষিখাতে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু শুধু উৎপাদন বাড়িয়ে খাদ্যের পাহাড় গড়ে তুললেই দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। উৎপাদিত খাদ্য দেশের সব অঞ্চলে এবং সব শ্রেণির মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রয়োজন একটি সুষম বণ্টন ব্যবস্থা। দেশের যোগাযোগ ও বণ্টন ব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ হলে এক অঞ্চলে খাদ্যের প্রাচুর্য থাকলেও অন্য অঞ্চলে তীব্র খাদ্যাভাব দেখা দিতে পারে।
অন্যদিকে, বাজারে বা দোকানে পর্যাপ্ত খাদ্য থাকলেও দরিদ্র মানুষের যদি সেই খাদ্য কেনার মতো সামর্থ্য বা ক্রয়ক্ষমতা না থাকে, তবে তারা অনাহারেই থাকবে। উদ্দীপকের 'খাদ্যের ক্রয়যোগ্যতা' মূলত এই বিষয়টিকেই নির্দেশ করে। মানুষের আয়, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমেই কেবল এই ক্রয়ক্ষমতা বা ক্রয়যোগ্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব।
পরিশেষে বলা যায়, একটি দেশের সার্বিক খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে কেবল উৎপাদন বৃদ্ধি বা খাদ্যের প্রাপ্যতাই যথেষ্ট নয়; বরং সুষম বণ্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে তা সবার নাগালে পৌঁছানো এবং মানুষের আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্যের ক্রয়যোগ্যতা নিশ্চিত করাও সমানভাবে অপরিহার্য। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত যৌক্তিক।