Facebook Pixel

'Y' দেশে ২০১৫ সালে খাদ্যশস্যের পর্যাপ্ত মজুদ ছিল। কিন্তু বেকার সমস্যা ছিল প্রকট। জনগণের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ ছিল না। ফলে সে সময় দেশের অনেক লোক ক্ষুধায় কষ্ট পায়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার খাদ্য আমদানি বৃদ্ধি এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ভেজালবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করে। ক. নিরাপদ খাদ্য কী? খ. 'খাদ্য নিরাপদকরণে জনসাধারণের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।'- ব্যাখ্যা করো। গ. 'Y' দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় কোন দিকটি বিঘ্নিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকের উল্লিখিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় গৃহীত সরকারি পদক্ষেপসমূহের যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৫ঃ খাদ্য নিরাপত্তা

উৎস: Board Exam Question RB 2017

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. যে খাদ্য উৎপাদনক্ষেত্র থেকে শুরু করে ভোক্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত কোনোভাবেই কলুষিত (Contaminated) হয় না এবং স্বাস্থ্যের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়ায় না তাকে নিরাপদ খাদ্য বলা যায়। খ. সাধারণ জনগণ খাদ্যে ভেজাল মেশানো পছন্দ করে না। খাদ্যে ভেজাল মেশানো যে অনৈতিক এবং দণ্ডনীয় অপরাধ তা অনেকেই জানে না। তাদেরকে এ বিষয়গুলো সাধারণ জনগণ জানতে পারে, ভেজালবিরোধী আইন প্রয়োগে সরকারকে তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে পারে। ভেজালের ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে সকলকে উদ্বুদ্ধ করতে পারে। কেউ খাদ্যে ভেজাল মেশালে তাদেরকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে তুলে দিতে পারে। ভেজালযুক্ত খাদ্য ক্রয় থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারে। গ. 'Y' দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় খাদ্যের ক্রয়যোগ্যতার দিকটি বিঘ্নিত হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন তিনটি মৌলিক বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল। যথা- ১. পর্যাপ্ত খাদ্য সরবরাহ, ২. খাদ্য ক্রয়ের প্রয়োজনীয় ক্ষমতা ও ৩. খাদ্যের সদ্ব্যবহার। খাদ্যের ক্রয়যোগ্যতার পূর্বশর্ত খাদ্য প্রাপ্যতা। কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর নির্দিষ্ট দামে, নির্দিষ্ট পরিমাণ, দ্রব্য ক্রয়ের যোগ্যতাকেই খাদ্যের ক্রয়যোগ্যতা বলে। খাদ্য সংগ্রহের ক্ষমতা অনেকটাই পরিবারের ক্রয়ক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল। এটি বাজারের ধরন, দাম নীতি এবং সময়ভেদে বাজার অবস্থা দ্বারা খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রিত হয়। যদি জনসাধারণ উন্নত জীবনযাত্রায় প্রবেশ করে, তবে তাদের খাদ্যের ক্রয়যোগ্যতাও উন্নতি ঘটে। খাদ্যের ক্রয়যোগ্যতার অন্যতম নিয়ামক ব্যক্তির আয়। যদি ব্যক্তির আয় কম হয় তবে তার ক্রয়যোগ্যতাও কমে যায়। আবার কোনো ব্যক্তির আয়ের স্তর বৃদ্ধি পেলে তার খাদ্যের ক্রয়ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। এ প্রেক্ষিতে বলা যায়, আন্তর্জাতিক বা জাতীয় পর্যায়ে খাদ্যের পর্যাপ্ত যোগান পারিবারিক পর্যায়ে খাদ্যের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদান করে না। খাদ্য নিরাপত্তার ব্যাপারে তখনই নিশ্চিত হওয়া যায় যখন, পরিবারসমূহ ক্রয়, গৃহে উৎপাদন, বিনিময়, দান, ঋণ কিংবা সাহায্যের মাধ্যমে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্য সংগ্রহের ক্ষমতা রাখে। উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, 'Y' দেশে ২০১৫ সালে খাদ্যশস্যের মজুদ পর্যাপ্ত থাকলেও জনগণের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ ছিল না। এর ফলে তারা প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য ক্রয় করতে ব্যর্থ হয়। এ কারণে সে সময় 'Y' দেশের অনেক লোক ক্ষুধায় কষ্ট পায়। ঘ. উদ্দীপকের উল্লিখিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় গৃহীত সরকারি পদক্ষেপসমূহ হলো- দারিদ্র্য নিরসন: দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে উন্নত খাদ্যের যোগান থাকা সত্ত্বেও দেখা যায়, অনেক লোক খাদ্যাভাবে অনাহার ও অপুষ্টিতে ভুগছে। খাদ্য ক্রয়ের অক্ষমতার জন্যই এমনটি হয়। আর এজন্য দারিদ্র্যই দায়ী। তাই দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে দারিদ্র্য নিরসন করতে হবে। এ উদ্দেশ্যে সরকারের করণীয়গুলো হলো: দেশের দরিদ্র লোকদের জন্য কাজের সুযোগ সৃষ্টি। কৃষির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি। খাস জমি বিতরণে ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষকদেরকে অগ্রাধিকার প্রদান। দরিদ্রদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়নের ব্যবস্থা করা। দরিদ্রদের জন্য কর্মোপযোগী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। দারিদ্র্য বিমোচনে গৃহীত সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদারকরণ ইত্যাদি। দরিদ্র লোকদের খাদ্য সহায়তা: কাবিখা, টিআর, ভিজিএফ, ভিজিডি, জিআর ও অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে খাদ্যক্রয়ে অক্ষম লোকদের খাদ্য সহায়তা দেওয়া। ভেজালবিরোধী অভিযান: সরকার খাদ্য নিরাপদ তথা ভেজাল দূর করার জন্য যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ব্যবস্থা করেছে তা সব মহলে দারুণ প্রশংসিত হয়েছে। এ অভিযানটি মোবাইল কোর্ট নামে পরিচিত। খাদ্য নিরাপদকরণে এ অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এ প্রতিষ্ঠানটির কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য সরকারের প্রয়োজন: সৎ ও যোগ্য লোকের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা। মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী অফিসারদের সাথে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও ব্যবসায়ীদের যেকোনো আর্থিক সম্পর্ক যাতে না গড়ে ওঠে সেদিকে লক্ষ রাখা।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenRajshahi Board (2017)

'Y' দেশে ২০১৫ সালে খাদ্যশস্যের পর্যাপ্ত মজুদ ছিল। কিন্তু বেকার সমস্যা ছিল প্রকট। জনগণের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ ছিল না। ফলে সে সময় দেশের অনেক লোক ক্ষুধায় কষ্ট পায়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার খাদ্য আমদানি বৃদ্ধি এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ভেজালবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করে।

ক.

নিরাপদ খাদ্য কী?

খ.

'খাদ্য নিরাপদকরণে জনসাধারণের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।'- ব্যাখ্যা করো।

গ.

'Y' দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় কোন দিকটি বিঘ্নিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ.

উদ্দীপকের উল্লিখিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় গৃহীত সরকারি পদক্ষেপসমূহের যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

FAO অর্থ কী?

FAO কোন ধরনের সংস্থা?

OMS-এর পূর্ণরূপ কী?

TCB-এর পূর্ণরূপ কোনটি?

A দেশের জনগণ অতি দরিদ্র। খাদ্যসামগ্রীও প্রয়োজনের তুলনায় স্বল্প। A দেশে প্রতিবছর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে প্রচুর ফসলহানি হয়। কি...

BSTI-এর পূর্ণরূপ কী?

ক. খাদ্য নিরাপত্তা কী? খ. খাদ্যের ক্রয় যোগ্যতার ওপর খাদ্য নিরাপত্তা নির্ভরশীল ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকের প্রশ্নচিহ্নিত ব...

ক. ভেজাল খাদ্য কী? খ. খাদ্য সংরক্ষণ করার প্রয়োজন কেন? ব্যাখ্যা কর। গ. ভোক্তার আয়ের সাথে উদ্দীপকের কোন বিষয়টি অধিক সম্পর্...

খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম পূর্বশর্ত কী?

খাদ্য ভেজাল নিরসনে প্রয়োজন? i. কঠোর ভেজাল বিরোধী আইন ii. জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি iii. সরকারের আন্তরিকতা নিচের কোনটি সঠিক?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।