ক.
দেশের সব মানুষ সবসময় বাহ্যিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে তাদের প্রয়োজনমাফিক খাদ্য সংগ্রহের ক্ষমতা রাখাকে খাদ্য নিরাপত্তা বলে।
খ.
খাদ্যের ক্রয়যোগ্যতা খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম প্রধানভিত্তি।
খাদ্যের ক্রয়যোগ্যতা বলতে কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর নির্দিষ্ট দামে নির্দিষ্ট পরিমাণ খাদ্য ক্রয়ের সামর্থ্যকে বোঝায়। এটি মূলত ব্যক্তির আয় এবং খাদ্যের দামের ওপর নির্ভরশীল। দেশে খাদ্য উৎপাদন পর্যাপ্ত থাকার পরও নিম্ন আয়ের কারণে জনগণ সেই খাদ্য কিনতে না পারলে তারা খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। তাই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে খাদ্যের প্রাপ্যতা ও ব্যবহারের পাশাপাশি ক্রয়ক্ষমতাও নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
গ.
উদ্দীপকের প্রশ্নচিহ্নিত বিষয়টি হলো খাদ্যের উপযোগিতা বা নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ।
খাদ্যের উপযোগিতা বলতে খাদ্যকে সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ এবং পুষ্টিমান বজায় রেখে গ্রহণ করাকে বোঝায়। এটি নিশ্চিত করে যে খাদ্য কেবল পরিমাণে পর্যাপ্ত নয়, বরং গুণগত মানসম্পন্ন, পুষ্টিকর এবং স্বাস্থ্যসম্মত হবে। এটি খাদ্য নিরাপত্তার তৃতীয় ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক।
উদ্দীপকে? চিহ্নিত বিষয়টি নিশ্চিত হলে জনগণ পুষ্টিগুণসম্পন্ন খাদ্য পাবে এবং রোগের ঝুঁকি থেকে মুক্তি লাভ করবে। অর্থাৎ, প্রশ্নচিহ্নিত বিষয়টি হলো খাদ্যের উপযোগিতা নিশ্চিতকরণ। খাদ্য ভেজালমুক্ত না হলে এবং রাসায়নিক পদার্থ দ্বারা দূষিত অথবা নিম্ন পুষ্টিমানসম্পন্ন হলে, তা গ্রহণ করে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে। ফলে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্য থাকলেও তা শরীরের কোনো কাজে আসে না, বরং স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়। মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য পুষ্টিগুণসম্পন্ন ও নিরাপদ খাদ্য অপরিহার্য। সুতরাং, উদ্দীপকের প্রশ্নচিহ্নিত খাদ্যের উপযোগিতা বা নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ খাদ্য নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।
ঘ.
উদ্দীপকের প্রশ্নচিহ্নিত বিষয়টি অর্থাৎ, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে রাষ্ট্রের ও জনগণের ভূমিকা অপরিসীম।
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ হলো খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তার টেবিল পর্যন্ত খাদ্যের গুণগত মান, পুষ্টিমান এবং ভেজালমুক্ততা বজায় রাখা। এটি খাদ্য নিরাপত্তার তিনটি স্তম্ভ তথা প্রাপ্যতা, ক্রয়যোগ্যতা, উপযোগিতা বা ব্যবহারের মধ্যে 'ব্যবহার' অংশটিকে শক্তিশালী করে।
উদ্দীপকের প্রবাহচিত্রে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ণ ও জনগণকে সচেতন হতে হবে। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রের প্রধান ভূমিকা হলো কঠোর আইন প্রণয়ন ও তার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা। খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও বিতরণের প্রতিটি স্তরে ভেজাল ও ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার রোধে রাষ্ট্রকে নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে।
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে সরকারের পাশাপাশি জনগণের সচেতনতাও সমানভাবে জরুরি। জনগণ যদি ভেজাল খাদ্য চিহ্নিত করতে না পারে বা - সস্তা ও নিম্নমানের খাদ্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়, তবে রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগ কঠিন হয়ে পড়ে। জনগণের উচিত স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা। এছাড়া, খাদ্যের উৎস সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া উচিত। রাষ্ট্র ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই পুষ্টিগুণসম্পন্ন ও রোগের ঝুঁকি মুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব। অতএব, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন ও জনগণের সচেতনতা উভয়ের ভূমিকাই অপরিহার্য।