ক.
খাদ্য নিরাপত্তা হলো এমন এক অবস্থা যেখানে দেশের সব মানুষ সবসময় বাহ্যিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে তাদের প্রয়োজনমাফিক খাদ্য সংগ্রহের ক্ষমতা রাখে।
খ.
জনসংখ্যা ও খাদ্য উৎপাদনের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করা যেকোনো দেশের জন্য অতি আবশ্যক।
কোনো দেশের উৎপাদিত মোট খাদ্য দ্বারা যদি সেই দেশের সকল জনগণের খাদ্যের চাহিদা পূরণ করা যায় তাহলে উৎপাদিত খাদ্য ও জনসংখ্যার মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে বলে ধরে নেয়া যায়। তবে জনসংখ্যা যে হারে বৃদ্ধি পায় খাদ্য উৎপাদন তার চেয়ে কম হারে বাড়ে। ফলে অনেক সময় দেশে খাদ্য ঘাটতি দেখা দেয়, যা পূরণ করার জন্য সরকারকে খাদ্য আমদানির পথ বেছে নিতে হয়। যা একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য মোটেই কাম্য নয়। তাই দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে হলে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে যাতে এটি প্রয়োজনীয় খাদ্যের যোগান দিতে পারে। সুতরাং, আমদানি ব্যয় কমাতে ও দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে গড়ে তুলতে জনসংখ্যা ও খাদ্য উৎপাদনের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করা অতি আবশ্যক।
গ.
বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। উদ্দীপকের আলোকে তা আলোচনা করা হলো- খাদ্য নিরাপত্তা হলো এমন এক অবস্থা যেখানে দেশের সকল জনগণ তাদের প্রয়োজনীয় খাদ্য সংগ্রহের ক্ষমতা রাখে। এক্ষেত্রে দেশে উৎপাদিত খাদ্যের পর্যাপ্ত মজুদ ও সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে খাদ্য উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধি করতে হয়, যাতে উৎপাদিত খাদ্য দ্বারা দেশে খাদ্যের সামগ্রিক চাহিদা সম্পূর্ণরূপে মেটানো যায়। সরকার কৃষিখাতকে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কৃষিতে ভর্তুকি ও সুদমুক্ত ঋণ এর ব্যবস্থা করে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার কৃষকদের বিনামূল্যে সার ও উন্নত বীজ সরবরাহ করছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের ভর্তুকিসহ কৃষিবান্ধব বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে অভিনব পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদনের ব্যবস্থা করে থাকে। ফলে উৎপাদনশীলতা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়নের জন্য নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কৃষিকে আধুনিকায়নের জন্য তথা স্বল্প পরিমাণ জমিতে অধিক ফলনের আশায় কৃষি গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এতে ফসলের উৎপাদন বেড়ে যায়।
উদ্দীপকের আলোকে বলা যায় যে, বিগত দশকে সরকার কৃষিখাতের উন্নয়নের জন্য নানান কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কৃষিতে ভর্তুকিসহ কৃষকদের মাঝে স্বল্পমূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ করায় পূর্বের তুলনায় উৎপাদন বহুগুণে বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। ফলে প্রচুর পরিমাণে খাদ্যশস্য আমদানি হ্রাস পেয়েছে। এমনকি সরকার বিদেশে চাল রপ্তানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের এ সকল কর্মসূচির যথাযথ বাস্তবায়ন ঘটলে অতিশীঘ্রই বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।
ঘ.
হ্যাঁ, উদ্দীপকে গৃহীত তথা কৃষিবান্ধব কর্মসূচি গ্রহণ করার কারণেই বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে সক্ষম হচ্ছে।
সরকার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে কৃষিতে ভর্তুকিসহ কৃষিবান্ধব নানান কর্মসূচি গ্রহণ করে। খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার সাম্প্রতিক বাজেটগুলোতে কৃষিক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বরাদ্দের ব্যবস্থা করে। দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করে। কৃষক পর্যায়ে স্বল্পমূল্যে উন্নত বীজ, সার, কীটনাশক ইত্যাদি সরবরাহ করায় দ্রুত ফলন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষিক্ষেত্রকে সম্প্রসারিত করতে সরকার বিনাসুদে ও সহজশর্তে মৌসুমি ঋণসহ বিভিন্ন রকম ঋণের ব্যবস্থা করেছে। কৃষি আধুনিকায়নের জন্য সরকার নানা রকম কৃষি যন্ত্রপাতি অতি স্বল্পমূল্যে সরবরাহ করছে এবং কৃষক সম্প্রদায় যাতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফলন বৃদ্ধি করতে পারে সে জন্য প্রত্যেক গ্রামে কৃষি অধিদপ্তর থেকে কৃষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তাছাড়া খাদ্যশস্য ছাড়াও মৎস্য ও প্রাণী সম্পদের উন্নয়নেও সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বেসরকারি উদ্যোগে খামার তৈরি করাকে সরকার বিশেষভাবে উৎসাহিত করেছে। এতে পূর্বের তুলনায় খাদ্য উৎপাদন বহুগুণে বেড়ে যাচ্ছে। ফলে আমদানির পরিমাণ অনেকখানি কমে গিয়েছে এবং বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
উদ্দীপকের আলোকে বলা যায় যে, বিগত দশকে কৃষিখাতের উন্নয়নের জন্য সরকার কৃষকদের মাঝে স্বল্পমূল্যে বীজ, সার, কীটনাশক ইত্যাদিতে ভর্তুকি প্রদান করে। তাছাড়া বিভিন্ন কৃষিবান্ধব কর্মসূচি যেমন- সমব্যয়ী খামার প্রতিষ্ঠায় উৎসাহিত, কৃষি যান্ত্রিকীকরণের লক্ষ্যে স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ, শস্য বহুমুখীকরণে ও উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ইত্যাদি গ্রহণ করে। ফলে উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধি পাচ্ছে ও আমদানি নির্ভরতা হ্রাস পাচ্ছে। ইতোমধ্যে সরকার চাল রপ্তানির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
সুতরাং, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে গড়ে তুলতে সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ সত্যিই প্রশংসনীয়। এর ফলে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে সক্ষম হচ্ছে।