ক.
কযে খাদ্য উৎপাদনক্ষেত্র থেকে শুরু করে ভোক্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত কোনোভাবেই কলুষিত হয় না এবং স্বাস্থ্যের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়ায় না তাকে নিরাপদ খাদ্য বলা যায়।
খ.
একটি দেশের সার্বিক প্রাপ্যতা তথা খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখতে মজুদের ভূমিকা অপরিসীম।
খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম অত্যাবশ্যক দিক হলো খাদ্যের প্রাপ্যতা। আর এই প্রাপ্যতাকে পর্যাপ্ত রাখার জন্য খাদ্য মজুদ রাখা। এর ফলে আপদকালীন খাদ্য ঘাটতি মোকাবিলা করা যায়। মূলত সরকারের অভ্যন্তরীণ খাদ্য সংগ্রহ, আমদানি এবং খাদ্য সাহায্যকে অবলম্বন করে খাদ্যের মজুদ গড়ে ওঠে। যেমন- বাংলাদেশে সরকার প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য মজুদ রাখে। যা দেশের খাদ্যের প্রাপ্যতা তথা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। কাজেই বলা যায়, মজুদের ওপর খাদ্য নিরাপত্তা নির্ভর করে।
গ.
খাদ্য নিরাপত্তার প্রধান তিনটি দিক হলো খাদ্যের প্রাপ্যতা, খাদ্যের ক্রয়যোগ্যতা ও খাদ্যের ব্যবহার। এর যেকোনো একটি দিক নিশ্চিত না হলেই খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়।
সামঞ্জস্যের ভিত্তিতে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্য প্রাপ্তিকে খাদ্যের প্রাপ্যতা বলে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে মোট দেশজ উৎপাদন কম হলে সরকার দেশের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য মজুদ করতে ব্যর্থ হয়। এতে
খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়। আবার, পুষ্টিকর খাদ্যের জন্য উপযুক্ত খাদ্য প্রাপ্তির নিমিত্তে পর্যাপ্ত সম্পদ থাকাকে খাদ্যের ক্রয়যোগ্যতা বলে। খাদ্য নিরাপত্তা তখনই নিশ্চিত হবে, যখন দেশের প্রতিটি পরিবার বা ব্যক্তির হাতে পুষ্টিকর প্রয়োজনীয় খাদ্য ক্রয়ের জন্য পর্যাপ্ত সম্পদ বা অর্থ থাকবে। দেশে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, নিম্ন আয় ইত্যাদি কারণে জনগণ প্রয়োজনীয় খাদ্য ক্রয় করতে না পারলে খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়। তাছাড়া, খাদ্যে ভেজাল, বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ (যেমন ফরমালিন) এর ব্যবহার নিম্ন পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্য উৎপাদন ইত্যাদি কারণেও খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়।
ঘ.
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সরকার কঠোর ও জনগণ সচেতন হলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
১ . সরকারের করণীয়: খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের কোনো পর্যায়েই যাতে কলুষিত না হয়, তা সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে। দেশের প্রয়োজনীয় খাদ্য বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগ্রহ ও সংরক্ষণের মাধ্যমে মজুদ ভাণ্ডার গড়ে তুলতে হবে। দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের প্রয়োজনীয় ঋণ ও সাহায্য প্রদান করে খাদ্য দ্রব্য উৎপাদন উৎসাহিত করা। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে খাদ্য ভেজালবিরোধী অভিজান জোদার ও কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে। টিসিবির মাধ্যমে শুধু লাইসেন্সধারীদের নিকট ফরমালিন বিক্রি নিশ্চিত করতে হবে। ভেজাল খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন ও বিক্রয়ের জন্য দণ্ডদানের ব্যবস্থা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে।
২. জনগণের ভূমিকা: খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে জনগণকে ভেজাল ও অনিরাপদ খাদ্য সম্পর্কে সচেতন থাকবে। ভেজাল খাদ্য গ্রহণে ক্ষতিকর দিক ও নিরাপদ খাদ্য গ্রহণের উপকারিতা সম্পর্কে জানতে হবে। খাদ্য দ্রব্যের উৎপাদক ও বিক্রেতাদেরকে সাময়িক লাভের আশায় ভেজাল খাদ্য উৎপাদন ও বিক্রি করা হতে বিরত থাকতে হবে। প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে দেশের স্বার্থে খাদ্যে ভেজাল ও ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য প্রয়োগ বিষয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান, বিজ্ঞাপন ও তথ্যচিত্র প্রচার করতে হবে।
কাজেই বলা যায়, উপর্যুক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হলে দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে আমি মনে করি।