ক.
মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ এবং ক্ষতিকর প্রভাব মুক্ত খাদ্য হলো নিরাপদ খাদ্য ।
খ.
বাংলাদেশের কৃষিতে সনাতন পদ্ধতি প্রচলিত থাকলেও ইদানীং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে । নতুন ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহারের মধ্যে পরমাণু ও বায়োটেকনোলজি পদ্ধতি প্ৰয়োগ অন্যতম। গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত বিভিন্ন ধরনের উন্নত বীজের ব্যবহার এদেশের কৃষিতে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সবচেয়ে লক্ষণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ দিক। কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণের সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতাও সরকার থেকে দেওয়া হচ্ছে। কৃষকদের মাঝে নতুন ধরনের উদ্ভাবিত বীজ, কীটনাশক ইত্যাদি সরবরাহ করা হচ্ছে বিধায় কৃষকরা অধিক পরিমাণে শস্য উৎপাদন করতে সক্ষম হচ্ছে। এসব দিক বিবেচনায় বলা যায় যে, বাংলাদেশের কৃষিতে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে ।
গ.
উদ্দীপকে খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের লক্ষ্যে যেসব সকল কর্মসূচির কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলো বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বাংলাদেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সরকার নানামুখী কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এর ফলশ্রুতিতে খাদ্য উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া মোকাবিলায় বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও অধিক তাপমাত্রা সহিষ্ণু ফসলের জাত উদ্ভাবনে ব্যাপক গবেষণা চলানো হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় ধান, গম, ইক্ষু ও বিভিন্ন ফসলের উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ত এলাকায় ব্রি-ধান-৪৭ ও বিনা ধান-৮ এবং রংপুরের মঙ্গা এলাকার বিনা ধান-৭ ও ব্রি-ধান-৩৩ সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এগুলো কৃষিমন্ত্রণালয়ের অভিযোজন কার্যক্রমের সফলতারই দৃষ্টান্ত। খাদ্যশস্যের উৎপাদন বৃদ্ধি করার জন্য আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রয়োগ কৃষকদেরকে সাশ্রয়কৃত দামে সেচযন্ত্র, সার, কীটনাশক ইত্যাদি উপকরণ প্রাপ্তির ব্যবস্থাও করে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর করার মাধ্যমে খাদ্যশস্য আমদানি করা, অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে চাল ও গম সংগ্রহ করা, নতুন নতুন ফসলের জাত উদ্ভাবনের জন্য কৃষি গবেষণা ইত্যাদির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে যা খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ।
ঘ.
উদ্দীপকে উল্লিখিত নিরাপদ খাদ্য কর্মসূচি খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বিধায় এ ধরনের কর্মসূচির যথার্থতা রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার অনেক আগে থেকেই এমন সব কার্যক্রম গ্রহণ করে আসছে যা এদেশে খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে সহায়ক। নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সরকার ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছে। উদ্দীপকে বাংলাদেশের কৃষিতে নীরব বিপ্লব সাধিত হওয়ার চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে। লবণাক্ততা সহিষ্ণু ফসলের জাত উদ্ভাবনের ফলে উপকূলীয় এলাকা ধান চাষের আওতায় আসা, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে মঙ্গা দূর হওয়া, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়া, খাদ্য নিরাপত্তার জন্য খাদ্যশস্য আমদানি, অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ ও কৃষি গবেষণার ওপর গুরুত্ব দেওয়া ইত্যাদি কর্মসূচি গ্রহণের ফলে বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সরকার সফলতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশ সরকার অনেক আগে থেকেই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নানামুখী কার্যক্রম গ্রহণ করে আসছে। এর মধ্যে রয়েছে— লবণাক্ততা ও অধিক তাপমাত্রা সহিষ্ণু ফসলের জাত উদ্ভাবন করা, খাদ্যশস্যের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে কৃষকদেরকে উন্নত উপকরণ প্রদান করার মাধ্যমে কৃষিতে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা, বিভিন্ন দেশের সাথে বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর করার মাধ্যমে খাদ্যশস্য আমদানি করা, অভ্যন্তরীণ উৎস হতে চাল ও গম সংগ্রহ করা, কৃষি গবেষণার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা ইত্যাদি অন্যতম। উপরিউক্ত কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অনেকাংশে সম্ভব হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত নিরাপদ খাদ্য কর্মসূচির যথার্থতা রয়েছে। উক্ত কর্মসূচির ফলেই বাংলাদেশের কৃষিতে ফলন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে।