Facebook Pixel

বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের বরেন্দ্র অঞ্চলের জেলাগুলোতে একটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বাস। এরা আদি অস্ট্রেলীয়। এদের গায়ের রং কালো, নাক চ্যাপ্টা, অধিকাংশের জীবিকা কৃষি এবং এরা নিজেদেরকে 'হোড়' বলে পরিচয় দেয়। এদের মূলভিত্তি হলো গ্রাম পঞ্চায়েত আর পঞ্চায়েত প্রধান হলো মাঝি। ক. আদাম কী? খ. সিন্ধু সভ্যতার নগর জীবন সম্পর্কে বুঝিয়ে লেখ। গ. উদ্দীপকে কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর চিত্র ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উক্ত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনধারা বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ বাংলাদেশের নৃগােষ্ঠীর জীবনধারা

উৎস: Board Exam Question JB 2025

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. আদাম বলতে কতকগুলো চাকমা পরিবারের সমন্বয়ে গঠিত সংগঠনকে বোঝায়। খ. সিন্ধু সভ্যতা নদীবেষ্টিত হওয়ায় কৃষি ছিল এর প্রধান অর্থনৈতিক ভিত্তি। যা উৎপাদনের মাধ্যমে গড়ে তোলে সুশৃঙ্খল ও সমৃদ্ধ নগর জীবন। সিন্ধু সভ্যতার নগরগুলো ছিল সুষ্ঠু পরিকল্পনা নির্ভর। নগরের রাস্তাগুলো ছিল বেশ প্রশস্ত। প্রশস্ত রাস্তা ছাড়াও ছিল ছোট-ছোট গলি- রাস্তা। নগরের ভবনগুলো ছিল পোড়ানো শক্ত ইটের তৈরি। একটি স্বাস্থ্যকর নাগরিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক গোসলখানা, পয়প্রণালী তথা নর্দমার সুযোগ-সুবিধা বর্তমান ছিল। রাস্তায় নিয়মিত ব্যবধানে 'ল্যাম্পপোস্টের' ব্যবস্থা ছিল। সেখানে পৌর সভার অস্তিত্ব ছিল যা একটি উন্নতমানের প্রশাসন, রুচিবোধ, সাংস্কৃতিক তথা নগর সমাজজীবনের ইঙ্গিত বহন করে। গ. উদ্দীপকে সাঁওতাল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর চিত্র ফুটে উঠেছে। নৃতত্ত্ববিদদের ধারণা সাঁওতালরা ভারতবর্ষের আদিম অধিবাসীদের মধ্যে অন্যতম। তাদের নামকরণ নিয়ে বেশ দ্বিমত রয়েছে। তারা নিজেদের 'হোড়' বলে। 'হোড়' অর্থ হলো মানুষ। ধারণা করা হয়, তাদের পূর্বপুরুষগণ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার রাজ্য ও অন্যান্য পার্বত্য অঞ্চল থেকে বালাদেশের উত্তরাঞ্চল তথা বৃহত্তর রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগরসহ অন্যান্য জেলায় বসতি স্থাপন করে। নৃগোষ্ঠীগত বিচারে তারা আদি অস্ট্রেলীয়। তাদের গায়ের রং কালো এবং নাক নিগ্রোদের মতো চ্যাপ্টা, মাথার খুলি গোলাকার, মুখগহ্বর বড়, চুল কালো এবং কোঁকড়ানো। দেহের উচ্চতা মাঝারি ধরনের। সাঁওতাল সমাজের মূলভিত্তি হলো গ্রাম পঞ্চায়েত। পঞ্চায়েত পরিচালনার জন্য সাতজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি থাকেন। যাদের মধ্যে 'মানযহি' বা 'মাঝি' হলেন গ্রাম প্রধান। সাঁওতালদের মধ্যে অধিকাংশই কৃষিজীবী। তাদের সমাজে নারীদের উর্বরাশক্তির প্রতীক বলে গণ্য করা হয়। তাদের বিশ্বাস নারীরাই প্রথম কৃষির আবিষ্কার করেছিল। তারা কৃষিক্ষেত্রে ধান, সরিষা, তামাক, মরিচ, ইক্ষু প্রভৃতি ফসল উৎপাদন করে। উদ্দীপকে দেখা যায়, বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের বরেন্দ্র অঞ্চলের জেলাগুলোতে একটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বাস করে। তারা আদি অস্ট্রেলীয়। তাদের গায়ের রং কালো, নাক চ্যাপ্টা, অধিকাংশের জীবীকা কৃষি এবং তারা নিজেদের 'হোড়' বলে পরিচয় দেয়। তাদের মূল ভিত্তি হলো গ্রাম পঞ্চায়েত, যার প্রধান হলো মাঝি। এসব আলোচ্য বিষয় উপরে বর্ণিত সাঁওতাল সম্প্রদায়ের সাথে পুরোপুরি মিলে যায়। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে সাঁওতাল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। ঘ. উক্ত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী তথা সাঁওতালদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনধারা বেশ বৈচিত্র্যময়। সাঁওতালদের সমাজের মূল ভিত্তি হলো গ্রাম পঞ্চায়েত। প্রতিটি গ্রামেই পঞ্চায়েত রয়েছে। পঞ্চায়েত পরিচালনার জন্য সাতজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি থাকেন। তাদের মধ্যে 'মানযহি' বা মাঝি হলেন গ্রাম প্রধান। তার নেতৃত্বেই গ্রামের যাবতীয় কার্যকলাপ সম্পাদিত হয়। তাদের মধ্যে ১২টি গোত্র রয়েছে। সাঁওতালদের মধ্যে অন্তঃগোত্রীয় বিবাহ নিষিদ্ধ। অর্থাৎ নিজ গোত্রের বাইরে অন্য গোত্রের সদস্যকে তাদের বিয়ে করতে হয়। তাদের মধ্যে বিধবা বিবাহ ও তালাকপ্রাপ্তদের বিয়েও প্রচলিত রয়েছে। তাদেরমধ্যে পিতৃসূত্রীয় পরিবার ব্যবস্থা বিদ্যমান। অর্থাৎ, পিতার সূত্রেই সন্তানের পরিচয় নির্ধারিত হয়। তাদের মধ্যে অধিকাংশ অধিবাসিই কৃষিজীবী। তারা কৃষিক্ষেত্রে ধান, সরিষা, তামাক, মরিচ, ভুট্টা, ইক্ষু প্রভৃতি ফসল উৎপাদন করে। সাঁওতালদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যও বেশ আকর্ষণীয়। তাদের নিজস্ব উৎসবের মধ্যে বাহা, সোহরায় ও এরো উল্লেখযোগ্য। ঐতিহাসিক কাল থেকে তাদের সমাজে যে উৎসবটি পালিত হয়ে আসছে তা হলো সোহরায়। এটি তাদের সবচেয়ে বড় ঐতিহ্যবাহী বার্ষিক উৎসব। তাদের সমাজে ঝুমুর নৃত্যগীত বেশ প্রচলিত। প্রায় সকল পূজা ও অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করা হয়ে থাকে। বিয়ে ও অন্যান্য অনুষ্ঠানে সাঁওতালরা মদ খেয়ে নৃত্য পরিবেশন করে থাকে। উৎসবের সময় সাঁওতাল মেয়েরা হাত-পা ও গলায় পিতল বা নিরেট কাসার গয়না পরে। আর পুরুষরা গলায় মালা ও হাতে বালা পরে থাকে। সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, সাঁওতালদের সমাজ ও সাংস্কৃতিক জীবন একটি নির্দিষ্ট পরিমণ্ডলে আবদ্ধ। কারণ তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস এবং সংস্কৃতি স্বতন্ত্রও আলাদা প্রকৃতির।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenJessore Board (2025)

বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের বরেন্দ্র অঞ্চলের জেলাগুলোতে একটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বাস। এরা আদি অস্ট্রেলীয়। এদের গায়ের রং কালো, নাক চ্যাপ্টা, অধিকাংশের জীবিকা কৃষি এবং এরা নিজেদেরকে 'হোড়' বলে পরিচয় দেয়। এদের মূলভিত্তি হলো গ্রাম পঞ্চায়েত আর পঞ্চায়েত প্রধান হলো মাঝি।

ক.

আদাম কী?

খ.

সিন্ধু সভ্যতার নগর জীবন সম্পর্কে বুঝিয়ে লেখ।

গ.

উদ্দীপকে কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর চিত্র ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উক্ত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনধারা বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A = বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বদিকে তিনটি জেলায় মূলত এরা বসবাস করে। এদের সাথে চীনা মাঙ্গোলয়েডের সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। B = অষ...

Ethnic Group-এর বাংলা প্রতিশব্দ কোনটি?

Ethnic Group হলো- i. বৃহৎ সমাজের খণ্ডিত অংশ ii. স্বতন্ত্র সংস্কৃতির অধিকারী iii. বৃহৎ সমাজের মূল অংশ নিচের কোনটি সঠিক?

ক. 'কাজিম পিন' কী? খ. সাঁওতালদের জীবনে উল্কি চিহ্নের প্রভাব ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকে B যে নৃগোষ্ঠী তাদের জীবনব্যবস্থা ব...

ক. চাকমা সার্কেলের প্রধান কে? খ. জুমচাষ বলতে কী বোঝায়? গ. ছকে উল্লিখিত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দী...

ক. 'পাখাংবা' কাদের পূর্বপুরুষের নাম? খ. জুম চাষকে সরকার নিরুৎসাহিত করার কারণ কী? গ. উদ্দীপকে 'A' কোন নৃগোষ্ঠী বলে চিহ্নি...

ক. চাকমা সার্কেলের প্রধান কে? খ. জুম চাষ বলতে কী বোঝায়? গ. ছকে কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দ...

ক. গারোরা কোন নৃগোষ্ঠীর অন্তর্গত? খ. সাঁওতালদের জীবনে উল্কিচিহ্নের প্রভার ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর...

ক. চাকমাদের জীবিকার প্রধান উপায় কী ? খ. মণিপুরিদের ধর্মীয় বিশ্বাস ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দপিকে চিত্র - ২ এ যে সমাজের সালিস...

ক. জনসংখ্যার দিক থেকে বৃহত্তম নৃগোষ্ঠী কোনটি? খ. জুম চাষ বলতে কী বোঝায় ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের নৃগোষ্ঠী-১ এর সংক্ষিপ্...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।