Facebook Pixel

বার্ষিক বনভোজনে কুয়াকাটা যায় রাইসা। একটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনগণকে দেখতে পায় সে। যারা পটুয়াখালী জেলায় অধিক সংখ্যায় বাস করছে। তাদের সমাজব্যবস্থা পূর্ণ গণতান্ত্রিক। তাদের নেতা নির্বাচিত হয় পুরুষদের ভোটের মাধ্যমে। নির্বাচনে নারীরা অংশগ্রহণ করতে পারে না। ক. নৃগোষ্ঠী কী? খ. জুম চাষ বলতে কী বোঝ? গ. উদ্দীপকে রাইসা কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনগণকে দেখতে পায়? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উক্ত নৃগোষ্ঠীর বিবাহ ব্যবস্থার সাথে কি আধুনিক সমাজের বিবাহ ব্যবস্থার সাদৃশ্য বিদ্যমান রয়েছে? বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ বাংলাদেশের নৃগােষ্ঠীর জীবনধারা

উৎস: Board Exam Question DB 2017

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. নৃগোষ্ঠী হচ্ছে এমন একটি মানব সম্প্রদায় যারা বংশ পরম্পরায় কিছু সাধারণ ও অভিন্ন দৈহিক বৈশিষ্ট্য ধারণ করে থাকে। খ. জুম চাষ হচ্ছে পাহাড়ি এলাকায় প্রচলিত এক ধরনের বিশেষ চাষ পদ্ধতি। সাধারণত পাহাড়ের ঢালে গাছপালা কেটে, শুকিয়ে ও পুড়িয়ে ফেলার পর মাটিতে গর্ত করে একসাথে কয়েক ধরনের বীজ বপন করা হয়। সেখান থেকে ধারাবাহিকভাবে কয়েক ধরনের ফসল সংগ্রহ করা হয়। এ পদ্ধতিতে চাষাবাদ করাকেই জুম চাষ বলে। ভারতে জুম চাষ পোড়ু, বীরা, পোনম প্রভৃতি নামে পরিচিত। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত তথ্যানুসারে রাইসা রাখাইন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনগণকে দেখতে পায়। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসরত অন্যতম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হচ্ছে রাখাইন। রাখাইনদের আদিনিবাস ছিল বর্তমান মিয়ানমারের অন্তর্ভুক্ত আরাকান রাজ্যে। অষ্টাদশ শতকে (আনুমানিক ১৭৪০-১৭৯৯ সাল) আরাকান রাজ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে রাখাইনদের অনেকেই স্বদেশ ত্যাগ করে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে (যেমন- বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, কক্সবাজার) বসতি স্থাপন করে। ঐতিহ্যবাহী ও স্বকীয় জীবনধারার অধিকারী রাখাইনদের জীবনপ্রণালি বৈচিত্র্যপূর্ণ। রাখাইনরা প্রধানত মঙ্গোলীয় নৃগোষ্ঠীভুক্ত। তাদের পরিবার ব্যবস্থা পিতৃতান্ত্রিক এবং অর্থনীতি মূলত কৃষি নির্ভর। রাখাইনদের সমাজব্যবস্থা পূর্ণ গণতান্ত্রিক। তারা তাদের নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ সদস্যদের ভোটে রাখাইনদের নেতা নির্বাচিত হন। তবে এক্ষেত্রে মহিলারা ভোট দিতে পারেন না। উদ্দীপকের রাইসা বনভোজনে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা গিয়ে যে ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর সমাজব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে পারে তা উপরে আলোচিত রাখাইন নৃগোষ্ঠীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। সুতরাং এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, রাইসা রাখাইন নামক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনগণকে দেখতে পেয়েছে। ঘ. হ্যা, আমি মনে করি, উদ্দীপক দ্বারা নির্দেশকৃত নৃগোষ্ঠী তথা রাখাইন এবং আধুনিক সমাজ বা বাঙালিদের বিবাহ ব্যবস্থার মধ্যে সামান্য ব্যতিক্রম ছাড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সাদৃশ্য বিদ্যমান। রাখাইনদের মতে, বিয়ে হচ্ছে ধর্ম পালনের অনিবার্য শর্ত। রাখাইনদের মধ্যে চাচাতো, ফুফাতো, খালাতো ভাই-বোনের বিয়ে নিষিদ্ধ হলেও মামাতো ভাই-বোনের বিয়ে বৈধ। তবে সাধারণত এ ধরনের বিয়ে করার বিষয়ে নিরুৎসাহিত করা হয়। অতীতে রাখাইন ছেলে-মেয়েরা পরিবারের পছন্দের পাত্রী বা পাত্রকেই বিবাহ করত। কিন্তু ইদানিং শিক্ষার প্রসার এবং যুগের দাবির প্রেক্ষিতে বয়ঃপ্রাপ্ত রাখাইন ছেলে- মেয়েরা অভিভাবকদের সম্মতি নিয়ে নিজেদের পছন্দমতো পাত্র বা পাত্রীকে বিয়ে করছে। রাখাইন সমাজে সাধারণত মেয়ের বাড়িতে বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। বিয়ের আগে বর ও কনের বাড়িতে বিয়েকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় পিঠা ও মজাদার খাবার। বর আসার পথে সুন্দর করে গেট সাজানো হয়। বসার জন্য প্যান্ডেল নির্মিত হয়ে থাকে। দূর থেকে আত্মীয়-পরিজনের আগমনে আনন্দঘন হয়ে ওঠে বাড়ির পরিবেশ। বর আসার পর বরের কাছ থেকে দক্ষিণা আদায়সহ বিভিন্ন রীতি-রেওয়াজ পালন করা হয়। আহার পর্ব শেষে কনেকে সাজিয়ে আনা হয়। এরপর একজন বৌদ্ধ ভিক্ষু বা ঠাকুর বর-কমনর সুখী জীবন কামনা করে 'মঙ্গলসূত্র' পাঠ করেন। সবশেষে একজন বয়স্ক মহিলা বর ও কনের হাতে হাত মিলিয়ে দেন। অন্যদিকে বাঙালি মুসলিম বা হিন্দু সমাজে পিতৃসূত্রীয় কিংবা মাতৃসূত্রীয় কাজিনদের সাথে বিবাহে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, যেমনটা রাখাইন সমাজে দেখা যায়। বর্তমানে আধুনিক বা বাঙালি সমাজেও ছেলে-মেয়েরা অভিভাবকদের সম্মতিক্রমে নিজেদের পছন্দমতো পাত্রী বা পাত্রের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। বাঙালিদের বিবাহ অনুষ্ঠানও কনের বাড়িতেই সম্পন্ন হয়ে থাকে। তবে বাঙালিদের মতো রাখাইন সমাজে বিবাহ পরবর্তী ভোজের আয়োজন করা হয় না। এ ধরনের দু'একটি ব্যতিক্রম ছাড়া বিবাহের প্রস্তাব, বিয়ের বাড়ি সজ্জিতকরণ, বরের আগমন প্রভৃতি ক্ষেত্রে আধুনিক সমাজে যে ধরনের আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়, তার সাথে রাখাইনদের বিবাহব্যবস্থার অনেকাংশেই মিল পাওয়া যায়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenDhaka Board (2017)

বার্ষিক বনভোজনে কুয়াকাটা যায় রাইসা। একটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনগণকে দেখতে পায় সে। যারা পটুয়াখালী জেলায় অধিক সংখ্যায় বাস করছে। তাদের সমাজব্যবস্থা পূর্ণ গণতান্ত্রিক। তাদের নেতা নির্বাচিত হয় পুরুষদের ভোটের মাধ্যমে। নির্বাচনে নারীরা অংশগ্রহণ করতে পারে না।

ক.

নৃগোষ্ঠী কী?

খ.

জুম চাষ বলতে কী বোঝ?

গ.

উদ্দীপকে রাইসা কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনগণকে দেখতে পায়? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উক্ত নৃগোষ্ঠীর বিবাহ ব্যবস্থার সাথে কি আধুনিক সমাজের বিবাহ ব্যবস্থার সাদৃশ্য বিদ্যমান রয়েছে? বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A = বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বদিকে তিনটি জেলায় মূলত এরা বসবাস করে। এদের সাথে চীনা মাঙ্গোলয়েডের সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। B = অষ...

Ethnic Group-এর বাংলা প্রতিশব্দ কোনটি?

Ethnic Group হলো- i. বৃহৎ সমাজের খণ্ডিত অংশ ii. স্বতন্ত্র সংস্কৃতির অধিকারী iii. বৃহৎ সমাজের মূল অংশ নিচের কোনটি সঠিক?

ক. 'কাজিম পিন' কী? খ. সাঁওতালদের জীবনে উল্কি চিহ্নের প্রভাব ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকে B যে নৃগোষ্ঠী তাদের জীবনব্যবস্থা ব...

ক. চাকমা সার্কেলের প্রধান কে? খ. জুমচাষ বলতে কী বোঝায়? গ. ছকে উল্লিখিত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দী...

ক. 'পাখাংবা' কাদের পূর্বপুরুষের নাম? খ. জুম চাষকে সরকার নিরুৎসাহিত করার কারণ কী? গ. উদ্দীপকে 'A' কোন নৃগোষ্ঠী বলে চিহ্নি...

ক. চাকমা সার্কেলের প্রধান কে? খ. জুম চাষ বলতে কী বোঝায়? গ. ছকে কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দ...

ক. গারোরা কোন নৃগোষ্ঠীর অন্তর্গত? খ. সাঁওতালদের জীবনে উল্কিচিহ্নের প্রভার ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর...

ক. চাকমাদের জীবিকার প্রধান উপায় কী ? খ. মণিপুরিদের ধর্মীয় বিশ্বাস ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দপিকে চিত্র - ২ এ যে সমাজের সালিস...

ক. জনসংখ্যার দিক থেকে বৃহত্তম নৃগোষ্ঠী কোনটি? খ. জুম চাষ বলতে কী বোঝায় ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের নৃগোষ্ঠী-১ এর সংক্ষিপ্...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।