Facebook Pixel

ফাহিমা তার বিদেশি বন্ধু পিটারকে বলছে, তোমার দেশে নাগরিকরা কি রাষ্ট্রের প্রতি তাদের কর্তব্যগুলো যথাযথভাবে পালন করে থাকে? জবাবে পিটার বলে, না আমার দেশে অনেক ক্ষেত্রেই নাগরিকরা রাষ্ট্রের আইন মেনে চলে না, শৃঙ্খলা রক্ষা করে চলে না। এ কথা শুনে ফাহিমা তার বন্ধুকে বলছে- জান, আমি যে রাষ্ট্রে বাস করি এখানকার প্রতিটি নাগরিক রাষ্ট্রের প্রতি তাদের কর্তব্যসমূহ যথাযথভাবে পালন করে থাকে। ক. মানব সমাজের সর্বোত্তম সামাজিক সংগঠন কোনটি? খ. ইসলামি অর্থব্যবস্থাকে সুষম অর্থব্যবস্থা বলা হয় কেন? গ. ফাহিমা যে রাষ্ট্রে বাস করে সে রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্যগুলো ব্যাখ্যা কর। ঘ. উক্ত রাষ্ট্রের নাগরিকদের কর্তব্যসমূহ বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৬ঃ ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থা

উৎস: Others

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. মানব সমাজের সর্বোত্তম সামাজিক সংগঠন হলো ইসলামি রাষ্ট্র। খ. ইসলামি অর্থব্যবস্থাকে সুষম অর্থব্যবস্থা বলা হয়। কারণ এ অর্থব্যবস্থায় অর্থসম্পদ জনগণের মাঝে সুষমভাবে বণ্টন করা হয়। এ ব্যবস্থায় সম্পদের মালিকানা মহান আল্লাহর ঘোষিত হলেও ব্যক্তিমালিকানা এখানে স্বীকৃত। কিন্তু ব্যক্তি আল্লাহ প্রদত্ত নীতিমালার আলোকে সম্পদের ভোগ, বণ্টন ও পরিচালনা করতে হয়। এজন্য। ধনীদের সম্পদ হতে গরিবদের প্রদানের জন্য জাকাত, সাদাকাহর। বিধান করা হয়েছে। যাতে সম্পদ শুধুমাত্র ধনীর নিকট পুঞ্জীভূত না হয় এবং সবার মাঝে সম্পদের প্রবাহ বিদ্যমান থাকে। আর এজন্যই। এটি সুষম অর্থব্যবস্থা। গ. ফাহিমা যে রাষ্ট্রে বাস করে সে রাষ্ট্রের নাগরিকেরা রাষ্ট্রের প্রতি তাদের কর্তব্যসমূহ যথাযথভাবে পালন করে। এর থেকে অনুমিত হয়, ফাহিমা ইসলামি রাষ্ট্রে বসবাস করে। কারণ নাগরিকের এরকম বৈশিষ্ট্য ইসলামি রাষ্ট্রেই পরিলক্ষিত হয়। ইসলামি রাষ্ট্রের কতকগুলো নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ইসলামি রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্যাবলি নিম্নরূপ- ১. ইসলামি রাষ্ট্রের আদর্শ হলো এর শাসনতন্ত্র, বিধি-বিধান আল্লাহ প্রদত্ত এবং রাসুল (সা.) তাঁর বাস্তব জীবনে পালন করে এর বাস্তব ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আল্লাহ প্রদত্ত বিধান ন্যায়বিচার ও ন্যায়নীতিভিত্তিক। ২. ইসলামি রাষ্ট্র কোনো ভৌগোলিক সীমারেখা, ভাষা বা বর্ণভিত্তিক নয়, এটি আদর্শিক চিন্তাভিত্তিক। ৩. ইসলামি রাষ্ট্রে আল্লাহ তায়ালার বিধিবিধানই জারি থাকবে, অন্যকোনো মানুষের নয়। সর্বোত্তম, সর্বশক্তিমান আল্লাহর বিধান সর্বোত্তম, সর্বসুন্দর নিখুঁত ও পূর্ণাঙ্গ। ৪. ইসলামি রাষ্ট্রে সকল মানুষ সমান। বর্ণ, ভাষা বা গোত্রের ভিত্তিতে কারও শ্রেষ্ঠত্ব নেই। শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি হলো জ্ঞান, বুদ্ধি, যোগ্যতা এবং সর্বোপরি তাকওয়া ও বিশ্বস্ততা। ৫. ইসলামি রাষ্ট্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো দ্বীন প্রতিষ্ঠা করা, সালাত প্রতিষ্ঠা করা, দ্বীনের আহকাম প্রতিষ্ঠা করা। ৬. ইসলামি রাষ্ট্রে সকল নাগরিকের মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ৭. ইসলামি রাষ্ট্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এটি একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র। ৮. ইসলামি রাষ্ট্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো যে, এর সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহ তায়ালার; কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সরকারের নয়। পরিশেষে বলা যায়, ইসলামি রাষ্ট্রে সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক একমাত্র আল্লাহ। মানুষ আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। নিজের মনগড়া কোনো আইন থাকবে না। এখানে সবকিছুই হবে কুরআন, সুন্নাহ তথা ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক। এগুলোই ফাহিমের রাষ্ট্র তথা ইসলামি রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য। ঘ. ইসলামি রাষ্ট্রের নাগরিকেরা হলো ইসলামি রাষ্ট্রের অতন্দ্রপ্রহরী। তারা রাষ্ট্রকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখার জন্য সর্বদা সতর্ক পথ চলে। তারা রাষ্ট্রের প্রতি তাদের কর্তব্যগুলো যথাযথভাবে পালন করে। ইসলামি রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের যেসব কর্তব্য রয়েছে তা হলো- ১. রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের সর্বপ্রথম ও প্রধান কর্তব্য আনুগত্য করা। আল্লাহ ও রাসুলের আনুগত্যের সাথে সাথে রাষ্ট্রেরও আনুগত্য করা আবশ্যক। ২. রাষ্ট্র তথা জনগণের কল্যাণের জন্য প্রণীত রাষ্ট্রের আইন মেনে চলা নাগরিকের কর্তব্য। ৩. নাগরিকগণ নিজেরা রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি থেকে বিরত থাকবে এবং অন্যদেরও বিরত রাখবে। ৪. দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করা নাগরিকের অন্যতম কর্তব্য। প্রয়োজনে জানমাল সবকিছু কুরবান করতে হবে। সাহাবিগণ (রা.) সর্বস্ব ত্যাগ করতে প্রস্তুত থাকতেন। ৫. কল্যাণ রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা, উন্নয়ন ইত্যাদি খাতে অর্থ ব্যয় করতে হয়। রাষ্ট্রের তথা জনগণের সার্বিক কল্যাণে যে কর ধার্য করা হয়, তা এবং জাকাত, সাদকাহ ইত্যাদি আদায় করা নাগরিকের কর্তব্য। ৬. প্রত্যেক নাগরিককেই রাষ্ট্রের কল্যাণকামী হতে হবে এবং দেশকে ভালোবাসতে হবে। ৭. ইসলামি রাষ্ট্র যদি রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে কোনো নাগরিকের কোনো পদে নিযুক্ত করা আবশ্যক মনে করে, তাহলে নাগরিকের ব্যক্তিগত কোনো অসুবিধা থাকা সত্ত্বেও দেশ ও জাতির কল্যাণের জন্য তা গ্রহণ করতে হবে। ৮. রাষ্ট্রের যেকোনো কল্যাণমূলক কাজে সহযোগিতা করা নাগরিকের কর্তব্য। তবে রাষ্ট্র যদি জনস্বার্থ বিরোধী কোনো কাজে সহযোগিতা চায়, তবে তাতে সহযোগিতা করা যাবে না। ৯. নাগরিক রাষ্ট্রের কোনো বেআইনি কার্যকলাপে জড়িত হবে না।যেমন- ঘুষের লেনদেন করা যাবে না। কালোবাজারি, চোরাকারবারি ইত্যাদি গর্হিত কার্যাবলি থেকে বিরত থাকতে হবে।উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে, ফাহিমা তার বন্ধুকে উদ্দেশ্য করে বলছে যে, সে যে রাষ্ট্রে বসবাস করে, সে রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক রাষ্ট্রের প্রতি কর্তব্যগুলো যথাযথভাবে পালন করে। পরিশেষে বলা যায়, ইসলামি রাষ্ট্রে মুসলিম নাগরিকের যেরূপ কর্তব্য রয়েছে তেমনি অমুসলিম নাগরিকদেরও কর্তব্য রয়েছে। দেশের সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে হলে তাদেরকে উপরিউক্ত কর্তব্য পালন করা উচিত।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenঅন্যান্য

ফাহিমা তার বিদেশি বন্ধু পিটারকে বলছে, তোমার দেশে নাগরিকরা কি রাষ্ট্রের প্রতি তাদের কর্তব্যগুলো যথাযথভাবে পালন করে থাকে? জবাবে পিটার বলে, না আমার দেশে অনেক ক্ষেত্রেই নাগরিকরা রাষ্ট্রের আইন মেনে চলে না, শৃঙ্খলা রক্ষা করে চলে না। এ কথা শুনে ফাহিমা তার বন্ধুকে বলছে- জান, আমি যে রাষ্ট্রে বাস করি এখানকার প্রতিটি নাগরিক রাষ্ট্রের প্রতি তাদের কর্তব্যসমূহ যথাযথভাবে পালন করে থাকে।

ক. মানব সমাজের সর্বোত্তম সামাজিক সংগঠন কোনটি?

খ. ইসলামি অর্থব্যবস্থাকে সুষম অর্থব্যবস্থা বলা হয় কেন?

গ. ফাহিমা যে রাষ্ট্রে বাস করে সে রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্যগুলো ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উক্ত রাষ্ট্রের নাগরিকদের কর্তব্যসমূহ বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

"A" একটি বহুজাতিক স্বাধীন রাষ্ট্র। জনগণের মধ্যে মুসলমানের সংখ্যা বেশি হলেও এদেশে নানা ধর্মের ও বর্ণের লোক বসবাস করে আসছে...

‘আল্লাহর সার্বভৌমত্ব স্বীকৃত মানবসমাজের বৃহত্তর সংগঠন' শীর্ষক একটি সেমিনারে আলোচনায় ড. ‘প’ এ সংগঠনটির...

আফসানা জাহান নামের এক মহিলা সম্প্রতি এক মুসলিম রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান হন। তার দায়িত্ব নিয়ে তিনি সুন্দরভাবে রাষ্ট্র পরিচ...

'আল্লাহর সার্বভৌমত্ব স্বীকৃত মানবসমাজের বৃহত্তর সংগঠন' শীর্ষক একটি সেমিনারে আলোচনায় ড. মারুফ এ সংগঠনটির প্রধানের দায়িত্ব...

ইসলাম যে মানবকল্যাণের ধর্ম, মদিনা সনদ তার উজ্জ্বল উদাহরণ। এটি মানব ইতিহাসের প্রথম লিখিত সংবিধান হিসেবে সর্বজন স্বীকৃত। ৬...

ইসলাম স্বভাবসম্মত জীবনব্যবস্থা ও মানবতার সার্বিক কল্যাণের নিয়ামক। ইসলাম মানুষকে অধিকার ও কর্তব্য এ দ্বৈতবন্ধনে নিবিড়ভাবে...

ইসলামি খেলাফতের স্বর্ণযুগ ছিল খুলাফায়ে রাশেদিনের যুগ। এ সময়ের খলিফাগণ ছিলেন সর্বগুণে গুণান্বিত। তাঁরা তাঁদের দায়িত্ব সম্...

ইসলামি রাষ্ট্রের নাগরিকগণ যেমন তাদের অধিকার ভোগ করবে, তেমনি রাষ্ট্রের প্রতি তাদের দায়িত্ব-কর্তব্যও সঠিকরূপে পালন করবে। য...

ইসলামি রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতার একমাত্র অধিকারী হলেন স্বয়ং আল্লাহ। ইসলামি রাষ্ট্রে যদি কেউ আল্লাহর আইন ব্যতীত অন্য আই...

ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক গঠিত ও পরিচালিত রাষ্ট্রই ইসলামি রাষ্ট্র। মহানবি (সা.) মদিনায় একটি সনদ প্রণয়নের মাধ্যমে আউস, খাযরাজ,...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।