Facebook Pixel

আজাদ সাহেব কুরআন ও হাদিসের পূর্ণ অনুসরণ করেন। তিনি মনে করেন, কুরআন ও হাদিসের বাইরে অন্য কোনো উৎস মানা বিদআত। অপরদিকে, জনাব আলিফ মনে করেন, জীবনের প্রয়োজনে বিজ্ঞানের আবিষ্কারের ফলে সমস্যার উদ্ভব হতে পারে যার সমাধান সরাসরি কুরআন ও হাদিসে আমরা খুঁজে নাও পেতে পারি। এমতাবস্থায় ইজমা ও কিয়াসের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। মহানবি (সা.) বলেন, "আমার উম্মতগণ কোনো ভ্রান্ত বিষয়ে একমত পোষণ করবে না। ক. ইজমার রুকন কয়টি? খ. মাযহাব বলতে কী বোঝ? গ. আজাদ সাহেবের মনোভাবের ত্রুটি ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব আলিফের মন্তব্যের সাথে তুমি কি একমত? তোমার মতের সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন কর।

বিষয়: ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ আল-ইজমা

উৎস: Test Exam Question BMARPCD 2025

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ইজমার রুকন দুটি। খ. মাযহাব (مَنْهَبٌ) আরবি শব্দ। আভিধানিক অর্থ হচ্ছে পথ, মত ও দল। পারিভাষিক দৃষ্টিকোণ থেকে মাযহাব বলতে বোঝায়, “ইসলামি আইনকানুন, আমল-মুআমালাত ও ইবাদত সম্পর্কিত মৌলিক বিষয়সমূহ ব্যতীত সেগুলোর শাখা-প্রশাখাতে মুসলিম পণ্ডিত তথা ইসলামি আইন বিশারদগণের বিভিন্ন চিন্তাশীল ও দার্শনিক মতবাদকে।” গ. উদ্দীপকে আজাদ সাহেব কুরআন ও হাদিসের পূর্ণ অনুসরণ করেন। তিনি মনে করেন কুরআন ও হাদিসের বাইরে অন্য কোনো উৎস মানা বিদআত। তার এ মনোভাব যথার্থ নয়। কারণ ইসলামি শরিয়তের উৎস হলো চারটি। যথা- ১. কুরআন; ২ হাদিস; ৩. ইজমা ও ৪. কিয়াস।এ চারটি উৎসের মধ্যে আজাদ সাহেব শুদ্ধ কুরআন ও হাদিসের অনুসরণ করেন। অন্য দুটি উৎস তথা ইজমা ও কিয়াসকে তিনি নব উদ্ভাবিত বিষয় বিদআত মনে করেন। অথচ ইজমা ও কিয়াস কোনো নব উদ্ভাবিত ও বিদআতি বিষয় নয় কারণ আল্লাহর তায়ালার নির্দেশে রাসুল (সা.)-এর যুগেই ইজমা ও কিয়াসের প্রবর্তন হয়েছিল। ইজমা হলো ঐকমত্যের ভিত্তিতে কোনো সমস্যার সমাধান করা কিংবা নতুন বিধান প্রবর্তন করা। রাসুল (সা.)-এর সময় হতেই ইজমার ব্যবহার বা প্রচলন লক্ষ করা যায়। রাসুল (সা.) স্বয়ং বিভিন্ন বিষয়ে সাহাবিগণের পরামর্শ নিতেন। অতঃপর তাদের মতামতের আলোকে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “আর তাদের কাজকর্ম সম্পাদিত হয় পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে।” (সূরা আশ-শুরা : ৩৮) এভাবে রাসুল (সা.) ইজমার বৈধতা, দৃষ্টান্ত ও আদর্শ প্রতিষ্ঠান করেন। অন্যদিকে, ইসলামি শরিয়তের চতুর্থ উৎস হলো কিয়াস। কুরআন, সুন্নাহ ও ইজমাতে যে সমস্যার সমাধান পাওয়া যায় না ইসলামি মূলনীতি অনুযায়ী বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করে সে সমস্যার সমাধান করাই হলো কিয়াস। আল-কুরআন ও হাদিসে কিয়াসকে শরিয়তের উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “অতএব, হে চক্ষু মানষগণ! তোমরা শিক্ষা গ্রহণ কর। (সূরা আল-হাশর: ২)সুতরাং বলা যায় যে, ইজমা ও কিয়াস কোনো বিদআতি নয় বরং ইসলামি শরিয়তের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। যা অনুসরণ করা অবশ্য কর্তব্য। ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব আরিফের মন্তব্যের সাথে আমি একমত পোষণ করছি।উদ্দীপকে ইজমার বৈধতা দিয়ে রাসুল (সা.)-এর একটি হাদিস ও জনাব আলিফের যে মন্তব্য ওঠে এসেছে সেটি হলো- "আমার উম্মতগণ কোনো ভ্রান্ত বিষয়ে একমত পোষণ করবে না।” মানবজীবন ও সমাজ প্রগতিশীল। ইসলামি সমাজও এ ধারার ব্যতিক্রম নয়। সমাজ সভ্যতার নিত্যনতুন পরিবর্তন তথা আবিষ্কারের ফলে মানুষ নতুন নতুন যুগ জিজ্ঞাসার তথা সমস্যার সম্মুখীন হয়, যার সমাধানের সুস্পষ্ট নির্দেশ কুরআন ও হাদিসে না পাওয়া গেলেও তার মূলনীতি কুরআন ও হাদিসে বিদ্যমান। কারণ পবিত্র কুরআনে আল্লাহ মানুষের জন্য সবকিছু বর্ণনা করে দিয়েছেন। যেমন- আল্লাহ ঘোষণা "আমি কুরআনে কোনোকিছু বাদ রাখিনি।” (সূরা আল-আনআম: ৩৮) কিন্তু মানব জ্ঞান সসীম বিধায় তাদের সীমিত জ্ঞান গবেষণায় কুরআন থেকে যাবতীয় সমস্যার সমাধান আহরণ করতে সক্ষম হয়নি। সুতরাং সাহাবিদের যুগ হতেই কুরআন-হাদিস থেকে না পাওয়া বিষয় ইজমার মাধ্যমে সমাধানের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। যা রাসুল (সা.) এর হাদিস দ্বারা স্বীকৃত। রাসুল (সা.) বলেছেন, আমার উম্মতদেরকে আল্লাহ তায়ালা কখনো ভ্রষ্টতা বা ভুল সিদ্ধান্তের ওপর একত্র করবেন না। অর্থাৎ, উম্মতের মধ্যে উদ্ভাবিত নিত্যনতুন সকল সমস্যার কিয়ামত পর্যন্ত সমাধানের জন্য মুজতাহিদগণ আলোচনা, পর্যালোচনা ও পরামর্শের ভিত্তিতে সর্বাধিক সঠিক সিদ্ধান্তের ওপর একমত হয়ে সমস্যার সমাধান রবে।ইসলামি শরিয়তে পূর্ণাঙ্গতার জন্য কিয়াসের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। ইসলাম একটি গতিশীল জীবনব্যবস্থা। এটি পূর্ণাঙ্গ ও সর্বজনীন জীবনবিধান। কুরআন ও হাদিসে শরিয়তের বিষয়গুলো এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন এগুলোর দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে সর্বযুগে সর্বকালে সমস্ত সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হয়। আর এ পদ্ধতির নামই কিয়াস। সুতরাং শরিয়তের পূর্ণাঙ্গতার জন্য কিয়াসও অপরিহার্য।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenনির্বাচনী পরীক্ষা - Birshreshtha Munshi Abdur Rouf Public College, Dhaka (2025)

আজাদ সাহেব কুরআন ও হাদিসের পূর্ণ অনুসরণ করেন। তিনি মনে করেন, কুরআন ও হাদিসের বাইরে অন্য কোনো উৎস মানা বিদআত। অপরদিকে, জনাব আলিফ মনে করেন, জীবনের প্রয়োজনে বিজ্ঞানের আবিষ্কারের ফলে সমস্যার উদ্ভব হতে পারে যার সমাধান সরাসরি কুরআন ও হাদিসে আমরা খুঁজে নাও পেতে পারি। এমতাবস্থায় ইজমা ও কিয়াসের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। মহানবি (সা.) বলেন, "আমার উম্মতগণ কোনো ভ্রান্ত বিষয়ে একমত পোষণ করবে না।

ক. ইজমার রুকন কয়টি?

খ. মাযহাব বলতে কী বোঝ?

গ. আজাদ সাহেবের মনোভাবের ত্রুটি ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব আলিফের মন্তব্যের সাথে তুমি কি একমত? তোমার মতের সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

R এর ছেলে বিদেশে থাকে। বাবার জন্য সে মোবাইল ফোন পাঠিয়েছে। তার ভাই তাকে মোবাইল ব্যবহার করতে নিষেধ করে। কারণ এটি বিদআত। R ...

অতিরিক্ত গরমের কারণে 'ক' নামক কলেজের শিক্ষক কাউন্সিলের সভায় গ্রীষ্মকালীন ছুটি ১০ দিন এগিয়ে আনা ও শিক্ষা সফরের ভেন্যু ন...

অতিরিক্ত গরমের কারণে 'ক' নামক কলেজের শিক্ষক কাউন্সিলের সভায় গ্রীষ্মকালীন ছুটি ১০ দিন এগিয়ে আনা ও শিক্ষা সফরের ভেন্যু নির...

আল ফালাহ ব্যাংকের বোর্ড সভায় একটি নতুন শাখা খোলা ও বিদায়ী এমডির সংবর্ধনার তারিখ নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হয়। জামালপুরে একটি ...

আলিফ-লাম-মিম। ইহা সেই কিতাব যাতে কোনো সন্দেহ নেই । পথ প্রদর্শনকারী পরহেজগারদের জন্য। যারা অদৃশ্য বিষয়ের ওপর বিশ্বাস স্থ...

আসিফ একজন ছাত্র। সে একটি অবৈধ বিপণন গ্রুপের সাথে সম্পর্ক করে প্রতি ৩/৪ মাস পর পর রক্ত বিক্রি করে। একদিন তার কলেজে বিনামূ...

আসিফ একজন ছাত্র। সে একটি অবৈধ বিপণন গ্রুপের সাথে সম্পর্ক করে প্রতি ৩/৪ মাস পর পর রক্ত বিক্রি করে। একদিন তার কলেজে বিনামূ...

ইজমা ইসলামি আইনের উৎস। কারণ ইজমা দ্বারা-

ইজমার মাধ্যমে-

ইমাম সাহেব বয়ান করলেন, ইসলামি শরিয়তের চারটি উৎস। কোনো বিষয়ের সমস্যার সমাধানে প্রথমে আল-কুরআন, তারপর হাদিসে রসুল। তাতে...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।