ক.
BRBD- এর পূর্ণ হলো Bangladesh Rural Development Board.
খ.
NGO বা বেসরকারি সংস্থা বলতে সাধারণত মানবতাবাদী, ব্যক্তিগত সংগঠন বা সংস্থাকে বোঝানো হয়।
বৃহত্তর দৃষ্টিকোণ থেকে বেসরকারি সংস্থা বলতে কার্যত সব ব্যক্তিগত ও স্বেচ্ছাসেবী মুনাফাহীন সংগঠনকে বোঝায়, যা মানবতার পক্ষে কাজ করে। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে বেসরকারি সংস্থা বলতে কার্যত ব্যক্তিগত স্বেচ্ছাসেবী উন্নয়ন সংস্থা এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাকে বোঝানো হয়। এসব সংস্থা সরকারি কাঠামোর বাইরে নির্দিষ্ট দেশের আইনগত কাঠামোর মধ্যে কাজ করে থাকে।
গ.
উদ্দীপকের চিত্রটি বাংলাদেশের বেসরকারি সংস্থা গ্রামীণ ব্যাংককে নির্দেশ করে।
গ্রামীণ ব্যাংক একটি বেসরকারি সংস্থা। সংস্থাটি গঠনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল-গ্রামের দুস্থ, অসহায়, পুঁজিহীন মহিলা ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভাগ্যের পরিবর্তন করা। এ লক্ষ্যে সংস্থাটি দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে নির্দিষ্ট গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত করে তাদের সংগঠিত করার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে প্রত্যয়ী করে তোলে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার জন্য সচেতন করে তোলে। এজন্য সংস্থাটি মহিলাদের মধ্যে বিনা জামানতে এবং সহজ শর্তে ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ করে। এছাড়া গ্রামীণ ব্যাংক বিভিন্ন ধরনের বৃত্তিমূলক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান করে বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে। বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের ভূমিহীন পরিবার ও দরিদ্র মহিলাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে যেসব প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে, গ্রামীণ ব্যাংক তার অন্যতম। গ্রাম্য টাউট, মহাজন এবং সুদখোরদের হাত থেকে রক্ষা করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা গ্রামীণ ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য।
উদ্দীপকের চিত্রে গ্রামীণ ব্যাংকের লোগো প্রদর্শিত হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের চিত্রটি বেসরকারি সংস্থা গ্রামীণ ব্যাংকের নির্দেশক।
ঘ.
বাংলাদেশের গ্রামীণ উন্নয়নে উদ্দীপকের সংস্থা তথা গ্রামীণ ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
গ্রামীণ ব্যাংক সামাজিক উন্নয়নের জন্য সেবা খাত, কৃষি ও বন, উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ, ব্যবসায় বাণিজ্য, দোকান পরিচালনা, রিকশা ও ভ্যান চালানো প্রভৃতি ক্ষেত্রে ঋণ প্রদান করে থাকে। গ্রামীণ ব্যাংক দরিদ্র ঋণ গ্রহীতাদের মধ্যে আগ্রহ ও উৎসাহ সৃষ্টি করে এবং তাদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতিকল্পে নানা ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করে। যেমন- বৃক্ষরোপণ, পরিবার ছোটো রাখা, সঞ্চয় করা, স্বাস্থ্য সচেতনতা, শিক্ষাদান, পরিবেশ রক্ষা, স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার, পরিষ্কার পানি পান, বাল্যবিবাহ রোধ, ঘুষ প্রদান রহিত করা, পারস্পরিক সহায়তা, নির্যাতন রোধ, সঠিক সময়ে ঋণ শোধ ইত্যাদি ব্যাপারে তাদের উদ্বুদ্ধ করাসহ বিভিন্ন সামাজিক কাজে উৎসাহ প্রদান করে।
গ্রামীণ ব্যাংকের বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলে ভূমিহীন দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আয় বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে; যা সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকল্পে গ্রামীণ ব্যাংক দরিদ্র মানুষের দোরগোড়ায় ঋণ পৌঁছে দেয়। এ প্রকল্পের ঋণ প্রদান কাঠামো ও পরিশোধ পদ্ধতি দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে সামাজিক উন্নয়নের একটি মডেল হিসেবে শুধু বাংলাদেশেই নয়, উন্নত বিশ্বেও বহুল সমাদৃত হয়েছে।
উপরের আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, গ্রামীণ ব্যাংক বাংলাদেশের গ্রামীণ জনগণের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।