ক.
প্রাচীন বা বিলুপ্ত সংস্কৃতির অধ্যয়নই হচ্ছে প্রত্নতত্ত্ব।
খ.
সিন্ধু নদের অববাহিকায় খ্রিষ্টপূর্ব আনুমানিক ৩০০০ অব্দে গড়ে ওঠা প্রাচীন ও উন্নত নগর সভ্যতাকেই সিন্ধু সভ্যতা বলা হয়।
সিন্ধু সভ্যতা মূলত ব্রোঞ্জ যুগের একটি সভ্যতা, যা বর্তমান পাকিস্তান ও ভারতের উত্তর-পশ্চিম অংশে বিকশিত হয়েছিল। হড়প্পা ও মহেঞ্জোদারো নামক দুটি প্রধান নগরীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই সভ্যতার বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল সুপরিকল্পিত নগর বিন্যাস, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং পোড়া ইটের ব্যবহার। কৃষিকাজ ও বৈদেশিক বাণিজ্যে উন্নত এই সভ্যতাটি প্রাচীন বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি হিসেবে ইতিহাসে স্বীকৃত।
গ.
উদ্দীপকের ছকে '?' চিহ্নিত স্থানে আমার পাঠ্য বইয়ের বেসরকারি সংস্থাকে ইঙ্গিত করে।
বেসরকারি সংস্থা বলতে বোঝানো হয় যেসব সংস্থাকে যেগুলো উন্নয়ন বা সেবামূলক কর্মকাণ্ডে কোনো না কোনোভাবে জড়িত। সহজ অর্থে বেসরকারি সংস্থা বলতে কোনো অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে বোঝায়। যা উন্নয়ন সহযোগিতা অথবা শিক্ষা ও নীতিগত কার্যক্রমে নিয়োজিত থাকে। আবহমানকাল ধরে বিভিন্ন সমাজে আর্তের সেবায় বা মানবকল্যাণে নিবেদিত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মহতী প্রয়াসের প্রাতিষ্ঠানিক ও সুসংগঠিত রূপই হচ্ছে বর্তমান বেসরকারি সংস্থা বা এনজিও কার্যক্রম। বাংলাদেশের অন্যতম কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা হলো- ব্র্যাক, আশা, গ্রামীণ ব্যাংক, এসএসএস, প্রশিকা, ব্যুরো বাংলাদেশ প্রভৃতি। এসব সংস্থা আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম যেমন- গ্রামীণ উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, ঋণদান, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষার উন্নয়ন, টিকাদান কর্মসূচি, পরিবার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন প্রভৃতি পরিচালনা করে থাকে। তবে ঋণ প্রদান কর্মসূচি বেসরকারি সংস্থার অন্যতম কার্যক্রম। গ্রামীণ আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে বেসরকারি সংস্থাগুলো বিভিন্ন খাতে ঋণ প্রদান করে থাকে। উদ্দীপকের ছক চিত্রে '?' চিহ্নকে ইঙ্গিত করে গ্রামীণ ব্যাংক, ব্র্যাক ও আশাকে দেখানো হয়েছে যা বেসরকারি সংস্থাকে নির্দেশ করে।
সুতরাং '?' চিহ্নিত স্থানে আমার পাঠ্য পুস্তকের বেসরকারি সংস্থাটি সঠিক ও যুক্তিযুক্ত।
ঘ.
উক্ত প্রত্যয়টির অর্থাৎ বেসরকারি সংস্থার গুরুত্ব বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে অপরিসীম বলে আমি মনে করি।
বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বেসরকারি সংস্থাগুলো সামাজিক সমস্যা মোকাবিলাসহ সামাজিক প্রেক্ষাপটের উন্নয়নের মাধ্যমে সার্বিক আর্থসামাজিক উন্নয়নের একটি প্রেক্ষাপট রচনা করে চলেছে। তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল ও দরিদ্র দেশসমূহের উন্নয়ন প্রচেষ্টায় 'বেসরকারি সংস্থা' একটি আলোচিত ও আলোড়িত বিষয়। বিশেষত গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচনে বেসরকারি সংস্থা কলাকৌশল ও কার্যক্রমকে বেসরকারি সংস্থার প্রবক্তাগণ অধিকতর বাস্তবসম্মত ও ফলদায়ক বলে বিবেচনা করেন। বেসরকারি সংস্থা বা NGO-গুলো প্রথম পর্যায়ে মূলত রিলিফ ও পুনর্গঠনমূলক কাজ করেছে। পরবর্তী পর্যায়ে কিছু কিছু NGO দরিদ্রদের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে ঋণ কর্মসূচির দিকে ধাবিত হয়। তারা ঋণের সাথে প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দিতে আরম্ভ করে। মোট কথা দুটি উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে NGO-গুলোর বিকাশ ঘটে। যথা- ১. বঞ্চিত ও অসহায় জনগোষ্ঠীকে সংগঠিত করা এবং তাদের সচেতনতা বাড়ানোর জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া। ২. জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি পরিচালনা করা। বাংলাদেশে বর্তমানে ব্র্যাক, গ্রামীণ ব্যাংক, আশা, প্রশিকাসহ অসংখ্য NGO রয়েছে যারা জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের এনজিও বা বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশের আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।