ক.
রাস্তাঘাটে বা জনসমক্ষে বখাটেদের দ্বারা নারীদের উত্ত্যক্ত বা হয়রানি করাকে ইভটিজিং বলে।
খ.
বাংলাদেশ পল্লি উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) থেকে উদ্ভূত ও বিকশিত একটি গ্রামোন্নয়ন উদ্যোগ হলো কুমিল্লা মডেল।
কুমিল্লা মডেল হলো কুমিল্লা জেলা শহরে অবস্থিত এমন একটি প্রশিক্ষণ গবেষণা প্রতিষ্ঠান যা তৃণমূল পর্যায়ের জনগণ তথা কৃষকদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের মাধ্যমে ও সমবায়ের ভিত্তিতে কৃষি ও পল্লি উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। উন্নত কৃষি পদ্ধতির প্রসার, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনসমূহ প্রয়োগে কৃষকদের উৎসাহ দান, কৃষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান, পুঁজিগঠনে উৎসাহ দান, ঋণপ্রাপ্তিতে সাহায্য প্রভৃতির মাধ্যমে কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে গ্রামীণ সমাজ জীবনের সমস্যা সমাধান করা তথা সার্বিক গ্রামোন্নয়নই কুমিল্লা মডেলের মূল লক্ষ্য।
গ.
উদ্দীপকের ছক-ক-এ উল্লেখিত সংস্থা দুটোর মধ্যে নোবেল বিজয়ী সংস্থা বলতে গ্রামীণ ব্যাংককে বোঝানো হয়েছে। গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচনে সংস্থাটি তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
গ্রামীণ ব্যাংক একটি বেসরকারি সংস্থা। এটি ১৯৭৬ সালে ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে যাত্রা শুরু করে। সংস্থাটি গঠনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল-গ্রামের দুস্থ, অসহায়, পুঁজিহীন মহিলা ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভাগ্যের পরিবর্তন করা। এ লক্ষ্যে সংস্থাটি দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে নির্দিষ্ট গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত করে তাদের সংগঠিত করার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে প্রত্যয়ী করে তোলে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার জন্য সচেতন করে তোলে। এজন্য সংস্থাটি মহিলাদের মধ্যে বিনা জামানতে এবং সহজ শর্তে ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ করে। এছাড়া গ্রামীণ ব্যাংক বিভিন্ন ধরনের বৃত্তিমূলক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান করে বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে। এসব উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে সংস্থাটি ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছে।
উদ্দীপকের ছক-ক-এ গ্রামীণ ব্যাংক ও ব্র্যাককে উল্লেখ করা হয়েছে। উপরের আলোচনায় সুস্পষ্ট যে, গ্রামীণ ব্যাংক নোবেল পুরস্কার লাভ করেছে। সংস্থাটি গ্রামীণ আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ঘ.
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের সামগ্রিক ও টেকসই উন্নয়নের জন্য সরকারি (ছক-খ) ও বেসরকারি (ছক-ক) সংস্থাগুলোর কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় থাকা অপরিহার্য।
সরকারি সংস্থা যেমন BRDB, BARD ইত্যাদি গ্রামীণ অবকাঠামো, কৃষি গবেষণা ও বৃহৎ পরিসরে নীতি নির্ধারণে কাজ করে। অন্যদিকে, বেসরকারি সংস্থা যেমন ব্র্যাক, গ্রামীণ ব্যাংক প্রভৃতি তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষুদ্রঋণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়। এই দুই ধরনের সংস্থার লক্ষ্য মূলত একই- দেশের উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচন।
উদ্দীপকের ছক 'ক'-এ বেসরকারি উদ্যোগ এবং ছক 'খ'-এ সরকারি পল্লী উন্নয়ন উদ্যোগের প্রতিফলন ঘটেছে। সরকারি সংস্থাগুলো যখন বড় ধরনের প্রকল্প হাতে নেয়, তখন বেসরকারি সংস্থাগুলো তাদের মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও জনবল দিয়ে সেই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে সহায়তা করতে পারে। এই পারস্পরিক সহযোগিতা উন্নয়নের গতিকে ত্বরান্বিত করে।
সমন্বয়ের অভাবে অনেক সময় একই এলাকায় একই ধরনের কাজের পুনরাবৃত্তি ঘটে, যা জাতীয় সম্পদের অপচয় ঘটায়। যদি সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলো একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে, তবে সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং দারিদ্র্য বিমোচন আরও কার্যকর হবে। সুতরাং বলা যায়, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এই দুই ধরনের সংস্থার কার্যক্রমের সমন্বয় অত্যন্ত যৌক্তিক ও প্রয়োজনীয়।