ক.
বিয়ের সময় বরপক্ষ কনেপক্ষের কাছে অথবা কনেপক্ষ বরপক্ষের কাছে যে অর্থ বা সম্পদ দাবি করে বা প্রদান করে, তাকে যৌতুক বলে।
খ.
কোনো নির্দিষ্ট স্থানের দীর্ঘ সময়ের (সাধারণত ৩০-৪০ বছর) আবহাওয়ার গড় অবস্থার পরিবর্তনকে জলবায়ু পরিবর্তন বলে।
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ বৃদ্ধি এবং বনভূমি উজাড়ের ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। এর ফলে বৃষ্টিপাতের ধরন পরিবর্তন হচ্ছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সামগ্রিক পরিবর্তনই হলো জলবায়ু পরিবর্তন।
গ.
উদ্দীপকের ছক 'খ' সরকারি উন্নয়ন সংস্থাকে নির্দেশ করে।
সরকারি উন্নয়ন সংস্থা হলো রাষ্ট্র পরিচালিত এমন প্রতিষ্ঠান যা গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে। বাংলাদেশে বার্ড (BARD) এবং বিআরডিবি (BRDB) হলো প্রধান সরকারি উন্নয়ন সংস্থা। এগুলো মূলত সমবায় ভিত্তিক কার্যক্রম, কৃষি উন্নয়ন এবং পল্লি দারিদ্র্য বিমোচনে কাজ করে।
উদ্দীপকের ছক 'খ'-এর নিচে BARD (Bangladesh Academy for Rural Development) এবং BRDB (Bangladesh Rural Development Board)-এর নাম উল্লেখ আছে। BARD কুমিল্লা মডেলের মাধ্যমে গ্রামীণ উন্নয়নে বিপ্লব ঘটিয়েছে এবং BRDB সমবায়ের মাধ্যমে কৃষকদের সংগঠিত করে উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। যেহেতু এই প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়, তাই এগুলো সরকারি গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থা হিসেবে সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। অর্থাৎ ছকের 'খ' সরকারি উন্নয়ন সংস্থাকে নির্দেশ করে।
ঘ.
বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে উক্ত প্রত্যয় তথা বেসরকারি সংস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আমাদের দেশের বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠী আজও অশিক্ষিত ও কুসংস্কারে আচ্ছন্ন। গ্রামীণ ব্যাংক, ব্র্যাক ও আশা'র মতো বেসরকারি সংস্থাসমূহ বা এনজিওগুলো দেশে শিশু ও বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে নিরক্ষরতা মুক্ত দেশ গড়তে ভূমিকা পালন করছে। এনজিওগুলো গ্রামের দরিদ্র মানুষগুলোকে ক্ষুদ্রঋণ প্রদান এবং ক্ষেত্র বিশেষে জামানতবিহীন ক্ষুদ্রঋণ প্রদান করে গরিব মানুষকে মূলধন সরবরাহ করছে। ফলে দেশে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে। বাংলাদেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণেও এনজিওগুলো কার্যকরী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে এনজিওসমূহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ঋণ দান, সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণ, স্বল্প বা বিনামূল্যে বীজ ও সার সরবরাহ করে কৃষি উন্নয়নে ভূমিকা পালন করে। এনজিওসমূহ অজ্ঞ, অশিক্ষিত, দরিদ্র নারী সমাজকে ঋণদান এবং নানামুখী প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলেছে। বেসরকারি সংস্থাসমূহ মাধ্যমে শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলেছে। বেসরকারি সংস্থাসমূহ বাংলাদেশে বেকার সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নিজেদের অফিসে শিক্ষিত-অশিক্ষিত মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ছাড়াও ঋণ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশ প্রতিনিয়ত খরা, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যাসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়। এক্ষেত্রে সরকার একা সংকট মোকাবিলা করতে পারে না। এ অবস্থায় সরকারের পাশাপাশি কর্মরত এনজিওসমূহ ত্রাণ কাজে ব্যাপক ভূমিকা রেখে থাকে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, এদেশের গ্রাম ও শহরের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নতির ক্ষেত্রে এনজিওগুলো কার্যকর ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।