ক.
সমাজবিজ্ঞানের জনক হলেন ফরাসি চিন্তাবিদ অগাস্ট কোঁৎ।
খ.
সমাজ বিশ্লেষণে নিরপেক্ষতা অবলম্বন করে বলে সমাজবিজ্ঞান মূল্যবোধ নিরপেক্ষ। সমাজবিজ্ঞান সমাজের বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা করে। বাস্তবতা তুলে ধরতে গিয়ে সমাজের কোনটি ভালো, কোনটি মন্দ, কী হওয়া উচিত, কী হওয়া অনুচিত, কোনটি ঠিক, কোনটি ঠিক নয় প্রভৃতি প্রশ্নে সমাজবিজ্ঞান নিরপেক্ষতা অবলম্বন করে। আর সমাজ গবেষণার ক্ষেত্রে সমাজবিজ্ঞানকে এ নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হয়।
গ.
উদ্দীপকে ছক-১-এর বিষয়সমূহ বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চার পটভূমিকে নির্দেশ করছে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো :
ভারতীয় উপমহাদেশে সমাজচিন্তা সম্পর্কিত প্রথম আলোচনা লক্ষ্য করা যায় মৌর্য যুগের কূটনীতিবিদ কৌটিল্যের ‘অর্থশাস্ত্র’ শীর্ষক রচনায়। পরবর্তীকালে মুঘল যুগের ইতিহাসবিদ আবুল ফজলের ‘আইন-ই-আকবরী’ ও ‘আকবরনামা’ গ্রন্থেও উপমহাদেশের সমাজের চমৎকার বর্ণনা পাওয়া যায়। ব্রিটিশ শাসনামলে বাংলার সাথে অন্যান্য অঞ্চলের পার্থক্য উপস্থাপনের মাধ্যমে সমাজ বিশ্লেষণ করে স্কটিশ ইতিহাসবিদ উইলিয়াম উইলসন হান্টার সম্পাদিত ‘দি ইমপেরিয়াল গেজেটীয়ার’ গ্রন্থ প্রকাশ হয়। ব্রিটিশ প্রশাসক ও বুদ্ধিজীবীদের পাশাপাশি ভারতীয় সমাজতাত্ত্বিকরাও এ অঞ্চলের সমাজব্যবস্থা বিশ্লেষণ করে নানা গ্রন্থ রচনা করেন। ভারতবর্ষের সমাজবিজ্ঞান চর্চার অন্যতম পুরোধা অধ্যাপক রাধাকমল মুখার্জির নাম এ প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য। তিনি ‘দি ল্যান্ড প্রোবলেমস্ অব ইন্ডিয়া (১৯২৭)’, ‘দি ইন্ডিয়ান ওয়ার্কিং ক্লাস (১৯৪৫)’ ইত্যাদি গ্রন্থ রচনা করে ভারতবর্ষ তথা বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চার পটভূমি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সমাজচিন্তাবিদের রচিত গ্রন্থ বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চার পথকে সুগম করে তোলে ।
উদ্দীপকে ছক-১-এ অর্থশাস্ত্র, আইন-ই-আকবরি, দি ইমপেরিয়াল গেজেটিয়ার, দি ইন্ডিয়ান ওয়ার্কিং ক্লাস, দি ল্যান্ড প্রোবলেমস্ অব ইন্ডিয়া প্রভৃতি গ্রন্থের উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রন্থ গুলোর বিষয়বস্তু ও সময়কাল বিবেচনা করে বলা যায়, উদ্দীপকের উল্লিখিত গ্রন্থ গুলো দিয়ে বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞান চর্চার পটভূমিকে নির্দেশ করা হয়েছে।
ঘ.
বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের বিকাশের ছক-২-এর ব্যক্তিবর্গ প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত। নিম্নে তা ব্যাখ্যা করা হলো :
১৯৫০ সালে ফরাসি সামাজিক নৃবিজ্ঞানী ক্লদ লেভি স্ট্রস ইউনেস্কো কমিশনের সদস্য হয়ে বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান ও সামাজিক নৃবিজ্ঞান পঠন-পাঠনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ঢাকায় আসেন। তার সাথে সাক্ষাৎ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক অজিত কুমার সেন ও এ.কে. নাজমুল করিম অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি পান। প্রসঙ্গগত রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সমাজবিজ্ঞান কোর্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক ছিলেন অধ্যাপক অজিত কুমার সেন। ১৯৫১-৫২ শিক্ষাবর্ষে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করতে এ.কে. নাজমুল করিম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় যান। দেশে ফিরে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে সমাজবিজ্ঞানের একটি বাধ্যতামূলক কোর্স চালু করেন। এভাবে নানামুখী প্রচেষ্টার পর ১৯৫৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউনেস্কোর যৌথ উদ্যোগে সমাজবিজ্ঞান নামে নতুন একটি বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
উদ্দীপকে ছক-২-এ অজিত কুমার সেন, এ.কে. নাজমুল করিম ও ক্লদ লেবি স্টসের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। উপরের আলোচনা অনুযায়ী উক্ত ব্যক্তিবর্গ বাংলাদেশে সমাজ বিজ্ঞানের বিকাশে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখেছেন।
পরিশেষে বলা যায় , ১৯২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের অধীনে সমাজবিজ্ঞানের অধ্যয়ন শুরু হলেও মূলত ছক-২-এর ব্যক্তিবর্গের প্রত্যক্ষ ভূমিকায় স্বতন্ত্র সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হাওয়ায় বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের চর্চা দ্রুত বিকশিত হয়েছে।