Facebook Pixel

ক. বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠাতা কে? খ. সমাজবিজ্ঞান সমাজের বস্তুনিষ্ঠ পাঠ-ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের প্রথম সালটি কীভাবে বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান বিকাশের সাথে সম্পৃক্ত? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকের নির্দেশিত সালগুলো বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান গঠনের ক্রমবিকাশকে নির্দেশ করছে, তুমি কি একমত? ব্যাখ্যা কর।

বিষয়: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চার বিকাশ

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. এ কে. নাজমুল করিম। খ. প্রকৃতিগত দিক থেকে সমাজবিজ্ঞানকে বস্তুনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলা হয়। বস্তুনিষ্ঠতা সমাজবিজ্ঞানের জন্য একটি অবশ্য পালনীয় বিধি হিসেবে গণ্য করা হয়। সমাজবিজ্ঞান বিভিন্ন সামাজিক ঘটনাবলির কার্যকারণ সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে নির্মোহভাবে যুক্তিগ্রাহ্য ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ দেওয়ার চেষ্টা করে। এ প্রসঙ্গে আমেরিকান সমাজবিজ্ঞানী কিউবার বলেন, 'বস্তুনিষ্ঠতার পথে যেহেতু মূল্যবোধ একটা বাধা হিসেবে স্বীকৃত, সেহেতু কার্যক্ষেত্রে তা থেকে দূরে থাকার চেষ্টাকে আদর্শিকভাবে মেনে নেওয়া উচিত। যদিও বাস্তবে তা সবসময় সম্ভব নাও হতে পারে। গ. উদ্দীপকের প্রথম সালটি ১৯৫৭ সাল। এ সালটি বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের সাথে সম্পৃক্ত। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা যাচাইয়ের পর ১৯৫৭সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এটি চালু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অজিত কুমার সেন ও এ. কে. নাজমুল করিমের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চার সুযোগ তৈরি হয়। ১৯৫৭-৫৮ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে সমাজবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠা লাভ করে। যার ফলে আজ সুপ্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের বিকাশধারা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। ১৯২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে নীতিশাস্ত্র, মনোবিজ্ঞান এবং নীতিশাস্ত্রের সাথে সমাজবিজ্ঞানের কিছু অংশ পড়ানো শুরু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান শিক্ষাদানের এটিই আনুষ্ঠানিক সূচনা। পরবর্তীতে চল্লিশের দশকের শুরুতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে সমাজবিজ্ঞান পড়ানো শুরু হয়। ১৯৫০ সালে প্রখ্যাত ফরাসি সামাজিক নৃবিজ্ঞানী প্রফেসর ক্লড লেভি স্ট্রস ইউনেস্কোর মাধ্যম বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান, নৃবিজ্ঞান ও সামাজিক মনোবিজ্ঞান পঠন-পাঠনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে ঢাকায় আসেন। এ পটভূমিতে নানাবিধ প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউনেস্কোর যৌথ সাহায্য ও সহযোগিতার মাধ্যমে ১৯৫৭-৫৮ শিক্ষাবর্ষে বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান নামে নতুন একটি বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। ঘ. হ্যাঁ, উদ্দীপকে নির্দেশিত সালগুলো বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশে এর ক্রমবিকাশকে নিশ্চিত করেছে। এ বক্তব্যের সাথে আমি. পুরাপুরি একমত। বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চার সুযোগ তৈরি হয় ১৯৫৭ সালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৫৭-৫৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে সমাজবিজ্ঞান নামে স্বতন্ত্র একটি কোর্স চালু হয়। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে তা চালু হয়। মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ভিত্তি করে ১৯৬৯ ও ১৯৭০ সালে যথাক্রমে রাজশাহী এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞানের স্বতন্ত্র বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর ১৯৯২ সালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। এছাড়া বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট), রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট), চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সকল অনার্স বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোর্স হিসেবে সমাজবিজ্ঞান পড়ানো হয়। আবার দেশে প্রতিষ্ঠিত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান নামে একটি আলাদা বিভাগ চালু আছে। উপরিউক্ত আলোচনায় বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত সালগুলো বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠগুলোতে সমাজবিজ্ঞান চর্চার তথা চালু হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের ক্রমবিকাশ অব্যাহত রেখেছে বলে আমি মনে করি।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

ক.

বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠাতা কে?

খ.

সমাজবিজ্ঞান সমাজের বস্তুনিষ্ঠ পাঠ-ব্যাখ্যা কর।

গ.

উদ্দীপকের প্রথম সালটি কীভাবে বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান বিকাশের সাথে সম্পৃক্ত? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উদ্দীপকের নির্দেশিত সালগুলো বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান গঠনের ক্রমবিকাশকে নির্দেশ করছে, তুমি কি একমত? ব্যাখ্যা কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।