ক.
'The Positive Philosophy' গ্রন্থটি ফরাসি সমাজবিজ্ঞানী অগাস্ট কোঁৎ-এর লেখা।
খ.
সমাজবিজ্ঞানের আলোচনার বিষয় হলো সমগ্র সমাজ। তাই সমাজবিজ্ঞানকে সমাজের পূর্ণাঙ্গ পাঠ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সমাজবিজ্ঞান সামাজিক মানুষের আচার-আচরণ, আদর্শ-মূল্যবোধ, রীতিনীতি ও সামাজিক কার্যাবলি কীভাবে পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে এবং কিভাবে এর গতিশীলতা বজায় থাকে তা নিয়ে অধ্যয়ন করে। পাশাপাশি ব্যক্তি, সামাজিক প্রতিষ্ঠান, প্রথা, সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা করে। এককথায় মানবসমাজের প্রায় সব বিষয় নিয়ে সমাজবিজ্ঞান পর্যালোচনা করে। এ কারণে সমাজবিজ্ঞানকে। সমাজের পূর্ণাঙ্গ পাঠ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
গ.
ছকে'?' চিহ্নিত স্থানের ক্ষেত্রে সমাজবিজ্ঞান শাস্ত্রটি যথাযথ।
উদ্দীপকের ছকে উল্লেখিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক অজিত কুমার সেন, অধ্যাপক এ কে নাজমুল করিম, ফরাসি সামাজিক নৃবিজ্ঞানী অধ্যাপক ক্লদ লেভি স্ট্রস এবং ড. পেরি বেসাইনি বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান শাস্ত্রের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান শিক্ষাদানের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রথম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের নীতিশাস্ত্র এবং মনোবিজ্ঞানের সাথে সমাজবিজ্ঞানের কিছু বিষয়বস্তু পড়ানো শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯৩৯-৪০ শিক্ষাবর্ষে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স কোর্সের ৫ম পত্র হিসেবে 'Element of Sociology' শিরোনামে সমাজবিজ্ঞানের পাঠ দান শুরু করা হয়। এ সময় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সমাজবিজ্ঞান কোর্সটির দায়িত্ব অর্পিত হয় বিভাগের রিডার অধ্যাপক অজিত কুমার সেনের হাতে। ১৯৫২ সালে অধ্যাপক অজিত কুমার সেন কলকাতা চলে যাওয়ায় সমাজবিজ্ঞান কোর্সটি পড়ানোর দায়িত্ব অধ্যাপক ড. এ কে নাজমুল করিমের ওপর ন্যস্ত হয়। ১৯৫৪ সালে ফরাসি সামাজিক নৃবিজ্ঞানী ও ইউনেস্কো বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ক্লদ লেভি স্ট্রস বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান ও নৃবিজ্ঞান পঠন-পাঠনের সম্ভাব্যতা যাচাই করার উদ্দেশ্যে ঢাকায় আসলে অধ্যাপক ড. এ কে নাজমুল করিম এবং অধ্যাপক অজিত কুমার সেন তার সাথে দেখা করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বতন্ত্র সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠায় ইউনেস্কোর সাহায্য-সহযোগিতা কামনা করেন। এরই ফলশ্রুতিতে ক্লদ লেভি স্ট্রসের সক্রিয় আগ্রহ ও ইউনেস্কোর সহযোগিতায় ১৯৫৭-৫৮ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'সমাজবিজ্ঞান' নামে স্বতন্ত্র বিভাগ চালু হয়। স্বতন্ত্র বিভাগ প্রতিষ্ঠার পর ১৯৫৭ সালে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম অধ্যক্ষ হিসেবে ফরাসি সামাজিক নৃবিজ্ঞানী ও ইউনেস্কো বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. পেরি বেসাইনিকে নিযুক্ত করা হয়। তিনি ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি সমাজবিজ্ঞানের কার্যকর একটি সিলেবাস প্রণয়ন করেন।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে সুস্পষ্ট যে, ছকে উল্লেখিত শিক্ষাবিদরা বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান শাস্ত্রের প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। সুতরাং নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে, ছকে '?' চিহ্নিত স্থানে সমাজবিজ্ঞান শাস্ত্রটি যথাযথ।
ঘ.
প্রশ্নে উক্ত বিজ্ঞান বলতে সমাজবিজ্ঞানকে বোঝানো হয়েছে।
বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের বিকাশে ছকে বর্ণিত ব্যক্তিদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ কে নাজমুল করিমের অবদান সর্বাধিক।
বাংলাদেশে সর্বপ্রথম সমাজবিজ্ঞানকে একটি আলাদা বিভাগ হিসেবে প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অধ্যাপক ড. এ কে নাজমুল করিমের অবদান অনস্বীকার্য। ১৯৫৪ সালে ফরাসি ইউনেস্কো বিশেষজ্ঞ ও সামাজিক নৃবিজ্ঞানী অধ্যাপক ক্লদ লেভি স্ট্রস বাংলাদেশ সফরে আসার পর অধ্যাপক ড. এ কে নাজমুল করিম এবং অধ্যাপক অজিতকুমার সেন তার সাথে দেখা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ইউনেস্কোর সহযোগিতা কামনা করেন। এরই প্রেক্ষিতে ১৯৫৭-৫৮ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বপ্রথম 'সমাজবিজ্ঞান' নামে একটি বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৫৮ সালে অধ্যাপক ড. এ কে নাজমুল করিম সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৬১ সাল পর্যন্ত সমাজবিজ্ঞান বিভাগে যোগদানকারী বাঙালি শিক্ষকদের মধ্যে একমাত্র অধ্যাপক ড. এ কে নাজমুল করিম সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী ছিলেন। অধ্যাপক নাজমুল করিম হলেন প্রথম বাঙালি যিনি সমাজবিজ্ঞানের ওপর সর্বপ্রথম একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ রচনা করেন। তার লিখিত 'Changing Society in India, Pakistan and Bangladesh' গ্রন্থটি সমাজবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক পুস্তক হিসেবে এখনও সমাদৃত। তার লিখিত অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 'The Dynamics of Bangladesh Society', 'সমাজবিজ্ঞান সমীক্ষণ' ইত্যাদি। বস্তুত অধ্যাপক ড. এ কে নাজমুল করিম ও তার ছাত্র-ছাত্রীদের ঐকান্তিক সাধনার ফলেই এদেশে সমাজবিজ্ঞানের পঠন-পাঠন ও আলোচনা বিস্তৃতি লাভ করেছে। সমাজবিজ্ঞানের বিকাশে বিভাগীয় যাদুঘর প্রতিষ্ঠা, মনোগ্রাফ লেখার ব্যবস্থা, গ্রামীণ প্রশ্নমালা পূরণের কার্যক্রম সবই তার অবদান।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি যে, ছকে উল্লেখিত চারজন শিক্ষাবিদই বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান পাঠের প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশে অবদান রাখলেও অধ্যাপক ড. এ কে নাজমুল করিম সর্বাধিক ভূমিকা রেখেছেন।