ক.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম অধ্যক্ষ ছিলেন ফরাসি সামাজিক নৃবিজ্ঞানী ড. পিয়েরি বেসাইনি।
খ.
সমাজবিজ্ঞান পাঠে সমাজে বসবাসকারী মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করা যায়। সমাজবিজ্ঞান সমাজকাঠামো তথা ব্যক্তি, গোষ্ঠী এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠান-প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক সম্পর্ক, ভূমিকা, কার্যক্রম সম্পর্কে পঠন-পাঠন ও গবেষণা করে। এছাড়াও সমাজ, সমাজের শ্রেণিবিন্যাস, শ্রেণিসমূহের পাস্পরিক সম্পর্ক, উৎপাদনযন্ত্রের সাথে তাদের সম্পর্ক, প্রভৃতি বিষয় নিয়েও সমাজবিজ্ঞান আলোচনা ও পর্যালোচনা করে থাকে। অর্থাৎ একথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, সমাজবিজ্ঞান সমাজ সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিষয় এবং তাদের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ণয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণ করে থাকে। এলক্ষে সমাজবিজ্ঞানকে সামাজিক সম্পর্কের বিজ্ঞান বলা হয়ে থাকে।
গ.
উদ্দীপকে'?' চিহ্নিত স্থানে যে বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে সেটি হলো সমাজবিজ্ঞান। বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান শাস্ত্রের বিকাশধায়ার একটি ধারাবাহিক ইতিহাস রয়েছে।
১৯১৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান পাঠ শুরুর মাধ্যমে বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষা ও গবেষণা শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে দর্শন ও চল্লিশের দশকের শুরুতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধীনে সমাজবিজ্ঞানের একটি কোর্স চালু করা হয়। পরবর্তীতে ইউনেস্কো বিশেষজ্ঞ ফরাসি সামাজিক নৃবিজ্ঞানী লেভি স্ট্রসের প্রয়াস এবং এ. কে. নাজমুল করিম ও অজিত কুমার সেনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯৫৭সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ নামে স্বতন্ত্র একটি বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ১৯৬৯ ও ১৯৭০ সালে যথাক্রমে রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে এবং সমাজবিজ্ঞানের পরিচর্যা চলছে।
উদ্দীপকের ছকে একটি বিষয় যেটি ১৯১৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে, ১৯৫৪ সালে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে, ১৯৫৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়। যা স্পষ্টত সমাজবিজ্ঞান বিভাগকে নির্দেশ করে। আর সমাজবিজ্ঞানের বিকাশধারার একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। যা পূর্বোক্ত আলোচনার মাধ্যমে ফুটে উঠেছে।
ঘ.
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিজ্ঞান তথা সমাজবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
সমাজবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ সমাজের একজন আত্মসচেতন ও শ্রেণিসচেতন সদস্য হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ পাবে। এই বিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে জানা যায়, সমাজের সুযোগ-সুবিধাগুলি কারা, কতটা, কীভাবে ভোগ করছে, আর কারাই বা সমাজের সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়া সামাজিক দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কেও সমাজবিজ্ঞান প্রত্যক্ষ দিক-নির্দেশনা প্রদান করে।
আধুনিক যুগের সামাজিক অগ্রগতিকে দ্রুত ত্বরান্বিত করতেও সমাজবিজ্ঞান ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশের কৃষি, কৃষির বৈশিষ্ট্য, কৃষি কাঠামো ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞান লাভের মাধ্যমে কৃষি উন্নয়নের প্রতিবন্ধকতাসমূহ দূরীকরণে সমাজবিজ্ঞান বিশেষ ভূমিকা পালন করে। সর্বোপরি বাংলাদেশের সমাজকাঠামো, সামাজিক সমস্যা, সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সম্পর্কের সাথে আন্তঃসম্পর্কিত বিষয় সম্বন্ধে জ্ঞান অনুসন্ধানের জন্যেও সমাজবিজ্ঞান পাঠ করা প্রয়োজন।
সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, সমাজিবজ্ঞানের বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞান মানুষকে সমাজে সুন্দর ও স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে। তাই সমাজবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।