ক.
একটি নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসারে কোনো জাতিকে (Genus) তার অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন উপজাতিতে (Species) বিভক্ত করার প্রক্রিয়াকে যৌক্তিক বিভাগ (Logical Division) বলে ।
খ.
ক্ষুদ্রতম উপজাতির কোনো নিম্নতর উপজাতি থাকে না বিধায় এর যৌক্তিক বিভাগ সম্ভব নয়।
যৌক্তিক বিভাগের উপজাতি হলো শ্রেণিবাচক পদ। এ জাতীয় পদকে বিভক্ত করলে একক ব্যক্তি বা বস্তু পাওয়া যায়। যৌক্তিক বিভাগের নিয়মানুযায়ী যেহেতু একক ব্যক্তি বা বস্তুর বিভাজন করা যায় না, তাই ক্ষুদ্রতম উপজাতিকেও বিভক্ত করা যায় না। যেমন: ‘মানুষ' হচ্ছে একটি সর্বনিম্ন বা ক্ষুদ্রতম উপজাতি। কারণ একে বিভক্ত করলে সুমন, জামাল, সেলিম প্রভৃতি ব্যক্তি বিশেষকে পাওয়া যায়। তাই ক্ষুদ্রতম উপজাতি হিসেবে ‘মানুষ’ পদকে যৌক্তিকভাবে বিভক্ত করা সম্ভব নয়।
গ.
ছক-১ এ উল্লম্ফন বিভাগ অনুপপত্তি (Fallacy of Division by Leap) ঘটেছে।
যৌক্তিক বিভাগের ষষ্ঠ নিয়মানুযায়ী সর্বোচ্চ পদ বা জাতির (Genus) বিভক্তকরণে তার মধ্যবর্তী স্তর বা উপজাতি (Species) বাদ দেওয়া যাবে না। এ নিয়ম লঙ্ঘন করলে উল্লম্ফন বিভাগ নামক যুক্তিদোষ ঘটে। যেমন- ‘প্রাণী’ জাতিকে বিভক্ত করতে গিয়ে ‘মানুষ’ উপজাতি উল্লেখ না করে ‘সভ্য' ও 'অসভ্য' উপজাতিতে বিভক্ত করলে উল্লম্ফন বিভাগজনিত অনুপপত্তি ঘটবে।
ছক-১ এ উল্লিখিত ‘জীব’ জাতিকে ‘শিক্ষিত মানুষ’ ও ‘অশিক্ষিত মানুষ’ উপজাতিতে বিভক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ মধ্যবর্তী স্তর হিসেবে ‘মানুষ পদটি বাদ পড়েছে। এ কারণে ছক-১ এ উল্লম্ফন বিভাগজনিত অনুপপত্তি ঘটেছে।
ঘ.
ছক-১ ও ছক-২ এর বিভাজন প্রক্রিয়া যৌক্তিক বিভাগের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে এর মধ্যে ছক-১ এর বিভাজন প্রক্রিয়া ভ্রান্ত হলেও ছক-২ এর প্রক্রিয়া সঠিক।
একটি নীতি বা সূত্রের ওপর ভিত্তি করে কোনো শ্রেণিকে তার অন্তর্গত উপশ্রেণিতে বিভক্ত করার প্রক্রিয়াকে যৌক্তিক বিভাগ বলে। সাধারণত বিভক্ত উপশ্রেণি দুটির মধ্যে একটিতে সূত্রের ঐ বিশেষ গুণটি বিদ্যমান থাকে। আর অন্যটিতে বিশেষ গুণটি অনুপস্থিত থাকে। যেমন- ছক-২ এ বর্ণিত মানুষ পদকে ‘সভ্যতার' ভিত্তিতে সভ্য মানুষ ও অসভ্য মানুষে বিভক্ত করা হয়েছে। এ বিভক্তকরণে যৌক্তিক বিভাগের ছয়টি নিয়মই অনুসরণ করা হয়েছে । তাই এটি একটি শুদ্ধ যৌক্তিক বিভাগ।
আমরা জানি, যৌক্তিক বিভাগের ষষ্ঠ নিয়ম অনুসারে ক্রমিক বিভাজনের ক্ষেত্রে প্রতিটি জাতিকে তার নিকটতম উপজাতিতে ভাগ করতে হবে। মধ্যবর্তী কোনো স্তরকে বাদ দিয়ে যৌক্তিক বিভাগ করা যাবে না।' কিন্তু ছক-১ এ মানুষ পদকে বাদ দিয়ে 'জীব' জাতিকে ‘শিক্ষিত মানুষ' ও ‘অশিক্ষিত মানুষ' পদে বিভক্ত করা হয়েছে। এ কারণে ছক-১ এর দৃষ্টান্ত হলো ভ্রান্ত যৌক্তিক বিভাগ। যা উল্লম্ফন বিভাগজনিত অনুপপত্তি হিসেবে পরিগণিত।
পরিশেষে বলা যায়, যৌক্তিক বিভাগে একটিমাত্র মূলসূত্র অনুসরণ করে পদের বিভাগায়ন করা যায়। এ বিভাগায়ন প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ পদের মধ্যবর্তী স্তর বাদ দেওয়া যায় না। কিন্তু ছক-১ এ এই নিয়মটি লঙ্ঘন করা হয়েছে। এ কারণেই ছক-১ ও ছক-২ এর বিভাজন প্রক্রিয়ায় ভিন্নতা লক্ষণীয় ।