ক.
কোনো জটিল দুর্বোধ্য, অস্পষ্ট ও রহস্যময় বিষয়কে সহজ, সরল ও বোধগম্যভাবে উপস্থাপন করাকে ব্যাখ্যা বলে।
খ.
পরম নিয়ম হলো সর্বোচ্চ নিয়ম। এ নিয়মের চেয়ে উচ্চতর কোনো নিয়ম নেই। তাই পরম নিয়মকে অন্য কোনো নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করা যায় না। ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য কোনো একটি নিয়মকে অন্য একটি নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করতে হয়। যেহেতু পরম নিয়মকে অন্য কোনো নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করা যায় না, তাই পরম নিয়মের ব্যাখ্যা দেওয়া যায় না।
গ.
'দৃশ্যকল্প-১'-এ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার রূপ বিশ্লেষণ প্রতিফলিত হয়েছে। নিচে তা বর্ণনা করা হলো-
বিশ্লেষণে একটি ঘটনাকে যেভাবে দেখানো হয় এখানে 'কোভিড-১৯' প্রতিরোধকে সেভাবে দেখানো হয়েছে। ব্যাখ্যার মাধ্যমে একটি বিষয়কে সহজ ও বোধগম্যভাবে উপস্থাপন করা হয়। আর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার রূপ বিশ্লেষণে কোনো কার্যের কারণের বিভিন্ন অংশ বিশ্লেষণ করে দেখানো হয়। অনেক সময় বিভিন্ন কারণ একত্রিত হয়ে একটি মিশ্রকার্য উৎপন্ন করে। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার রূপ বিশ্লেষণে দেখানো হয় যে, মিশ্রকার্যটি বিভিন্ন স্বতন্ত্র কারণের মিলিত প্রচেষ্টার ফল। যেমন- নদীতে নৌকা চালানোর জন্য নদীর স্রোত, বাতাসের বেগ, নৌকার গতি, দাঁড়ের ব্যবহার ইত্যাদি স্বতন্ত্র কারণগুলো একত্রে কাজ করে। বিশ্লেষণে মিশ্রকার্যের স্বতন্ত্র কারণগুলো উল্লেখ করে ঘটনাটিকে ব্যাখ্যা করা হয়।
তেমনি উদ্দীপকের 'দৃশ্যকল্প-১'-এ 'কোভিড-১৯ প্রতিরোধ' নামক মিশ্রকার্যটির কয়েকটি স্বতন্ত্র কারণ উল্লেখ করে ঘটনাটির ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। তাই বলা যায় 'দৃশ্যকল্প-১'-এর ' মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার রূপ বিশ্লেষণ নির্দেশিত হয়েছে।
ঘ.
দৃশ্যকল্প-২' ও 'দৃশ্যকল্প-৩'-এর মাধ্যমে যথাক্রমে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার রূপ 'অন্তর্ভুক্তি' ও শৃঙ্খলযোজন নির্দেশিত হয়েছে। এদের পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো-
দৃশ্যকল্প-২ এর মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার রূপ অন্তর্ভুক্তি প্রকাশিত হয়েছে। এখানে 'করোনা'কে বৃহত্তর গোত্র 'ভাইরাস'-এর অন্তর্ভুক্ত করে দেখানো হয়েছে। আর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার যেরূপে একটি কম ব্যাপক নিয়মকে একটি বেশি ব্যাপক নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করে ব্যাখ্যা করা হয় তাকে অন্তর্ভুক্ত বলে। এখানে যে ঘটনাকে ব্যাখ্যা করা হয় সেটি একটি বিশেষ নিয়ম এবং যে নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করে ব্যাখ্যা করা হয় সেটি একটি সার্বিক নিয়ম। যেমন- জোয়ার-ভাটার নিয়মকে যখন মধ্যাকর্ষণ নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করে ব্যাখ্যা করা হয় তখন সেটি হয় অন্তর্ভুক্তি। এখানে জোয়ার-ভাটার নিয়ম একটি বিশেষ নিয়ম এবং মধ্যাকর্ষণ নিয়ম একটি সার্বিক নিয়ম। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার এক্ষেত্রে বিশেষ ও সার্বিক নিয়মের পারস্পরিক সম্পর্কও জানা যায়।
অপরদিকে 'দৃশ্যকল্প-৩'-এ 'হাত ধোয়া' ও 'সুস্থ থাকার' মধ্যবর্তী পর্যায় 'জীবাণুমুক্তকরণ'কে দেখানো হয়েছে। তাই এ বিষয়টির মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার রূপ শৃঙ্খলযোজন নির্দেশিত হয়েছে। যে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় কোনো কার্য ও তার দূরবর্তী কারণের মধ্যবর্তী পর্যায় আবিষ্কার করে ব্যাখ্যা করা হয় তাকে শৃঙ্খলযোজন বলে। বিভিন্ন কার্যের ক্ষেত্রে কার্য ও তার দূরবর্তী কারণের মধ্যে মধ্যবর্তী পর্যায় থাকে। শৃঙ্খলযোজনে সকল পর্যায়কে শৃঙ্খলমুক্তভাবে উপস্থাপন করা হয়। যেমন- 'বিদ্যুৎ' ও 'বজ্রধ্বনির' মধ্যবর্তী পর্যায় হলো তাপ। শৃঙ্খলযোজনে 'বিদ্যুৎ' তাপ → বজ্রধ্বনি' আকারে শৃঙ্খলবদ্ধ করে ব্যাখ্যা করা হয়। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার এই রূপের মাধ্যমে একটি কার্যের বিভিন্ন পর্যায় আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়।