ক.
অ্যারিস্টটল সংজ্ঞাকে বিধেয়কের তালিকার অন্তর্ভুক্ত করেন।
খ.
প্রতিটি যুক্তিবাকের মধ্যে বিশেষ করে সদর্থক যুক্তিবাক্যের আলোচনার ক্ষেত্রে 'বিধেয়' ও 'বিধেয়ক' পদ দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিধেয় ও বিধেয়কের মধ্যে যথেষ্ট শাব্দিক মিল থাকলেও এদের মধ্যে বেশ পার্থক্য রয়েছে। নিচে ২টি প্রধান পার্থক্য লেখা হলো--
১. বিধেয় একটি পদ। এটি হচ্ছে যুক্তিবাক্যের একটি অংশ যা কোনো সময় একটি শব্দ দ্বারা বা একাধিক শব্দের সমন্বয়ে গঠিত পক্ষান্তরে, বিধেয়ক কোনো পদ নয়। বিধেয়ক একটি সম্পর্কের নাম। বিধেয়ক কোনো পদ নয় বলে তা কোনো শব্দ বা শব্দসমষ্টি দ্বারা গঠিত নয়।
২. সদর্থক হোক আর নঞর্থক হোক যেকোনো যুক্তিবাক্যেই উদ্দেশ্য যেমন থাকে তেমনি বিধেয় থাকে। পক্ষান্তরে, বিধেয়কের অস্তিত্ব কেবল সদর্থক যুক্তিবাক্যে সম্ভব। নঞর্থক যুক্তিবাক্যে যেহেতু 'উদ্দেশ্য পদের সাথে বিধেয় পদের সম্পর্ককে অস্বীকার করা হয় সেহেতু এরূপ যুক্তিবাক্যে বিধেয়ক থাকে না।
গ.
চিত্র (?) চিহ্ন স্থানে 'বিধেয়ক' বসবে, কারণ চিত্রটি বিধেয়কের প্রকারভেদ। নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
শব্দ ও যুক্তিবাক্য আলোচনা করার সময় আমরা দেখেছি যুক্তিবিদ্যায় এমন অনেক শব্দ পাওয়া যায় যেগুলো আমাদের কাছে অতি পরিচিত হলেও যুক্তিবিদ্যায় সেগুলো এক বিশেষ অর্থ বহন করে। বিধেয়কও যুক্তিবিদ্যার তেমনি একটি শব্দ। বিধেয়ক সম্বন্ধে স্বচ্ছ ধারণা ছাড়া যুক্তিবাক্য বোঝা কঠিন। আর এ কারণেই যুক্তিবিদ্যায় অতি গুরুত্ব সহকারে বিধেয়ক বিষয়টি আলোচিত হয়ে থাকে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, যুক্তিবিদ্যার প্রবক্তা গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল (খ্রিষ্টপূর্ব ৩৮৪-৩২২) সর্বপ্রথম 'বিধেয়ক' শব্দটি ব্যবহার করেন।
যেকোনো যুক্তিবাক্যে দুটি পদ থাকে। যথা- উদ্দেশ্য ও বিধেয়। শ্রেণিবাচক বিধেয় পদ সংবলিত কোনো সদর্থক যুক্তিবাক্যে বিধেয় পদের সাথে উদ্দেশ্য পদের যেসব সম্পর্ক থাকা সম্ভব তাই বিধেয়ক। এ উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদের মধ্যে নানা প্রকার সম্বন্ধ থাকতে পারে। গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল ও পরফিরি উদ্দেশ্যের সাথে সম্বন্ধের ভিত্তিতে বিভিন্ন বিধেয়ের যে শ্রেণিবিভাগ করা হয়েছে তাই যুক্তিবিদ্যায় বিধেয়ক নামে পরিচিত। কোনো যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্যের সাথে বিধেয়ের যে বিভিন্ন প্রকার সম্বন্ধ থাকে সেই বিভিন্ন প্রকার সম্বন্ধকে বিধেয়ক বলে। অন্যভাবে বলা যায়, যেসব সদর্থক যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদ শ্রেণিবাচক পদ সেসব যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদের সাথে উদ্দেশ্য পদের যেসব সম্পর্ক থাকতে পারে সেসব সম্পর্ককে বিধেয়ক বলে।
উদ্দেশ্যের সাথে বিধেয়ের সম্পর্ক পাঁচ ধরনের। সেই প্রেক্ষাপটে বলা যায় বিধেয়ক পাঁচ প্রকার যথা-
জাতি, উপজাতি, বিভেদক লক্ষণ, উপলক্ষণ, অবান্তর লক্ষণ। উদ্দীপকে সেটি ছক আকারে দেখানো হয়েছে এবং বিধেয়কের স্থানটি '?' চিহ্ন দ্বারা দেখানো হয়েছে।
ঘ.
উদ্দীপকে 'ফুল' পদটি দ্বারা জাতি এবং 'গোলাপ' ও 'সূর্যমুখী' দ্বারা উপজাতি বিধেয়ককে নির্দেশ করে। নিচে জাতি ও উপজাতির সম্পর্ক আলোচনা করা হলো-
১. জাতি ও উপজাতি দুটি শ্রেণিবাচক পদ : কোনো শ্রেণিকে জাতি বলার অর্থ হচ্ছে তা অন্য কোনো উপজাতির তুলনায় জাতি। অন্যদিকে কোনো শ্রেণিকে উপজাতি বলার অর্থ হচ্ছে সে বিশেষ শ্রেণিটি অন্যকোনো জাতির তুলনায় উপজাতি।
২. জাতি ও উপজাতি দুটি সাপেক্ষ পদ : জাতি ও উপজাতি পরস্পর নির্ভরশীল। কোনো জাতির অন্তর্গত উপজাতিগুলোকে বাদ দিলে যেমন জাতি বলা যায় না, তেমনিভাবে কোনো উপজাতি যে জাতির অন্তর্গত সেই জাতিকে বাদ দিলে উপজাতি বলে আর কিছু থাকে না। সম্পর্কভেদে একই পদ জাতি ও উপজাতি দুই-ই হতে পারে।
৩. ব্যক্ত্যর্থের দিক থেকে উপজাতি জাতির আওতাভুক্ত : উপজাতির চেয়ে জাতির ব্যক্ত্যর্থ বেশি। এজন্য উপজাতি সবসময় জাতির আওতাভুক্ত।
৪. জাত্যর্থের দিক থেকে জাতি উপজাতির আওতাভুক্ত : আমরা জানি, যার ব্যক্ত্যর্থ বেশি তার জাত্যর্থ কম এবং যার ব্যক্ত্যর্থ কম তার জাত্যর্থ বেশি। জাতির ব্যক্ত্যর্থ বেশি এবং উপজাতির ব্যক্ত্যর্থ কম। এজন্য জাতির তুলনায় উপজাতির জাত্যর্থ বেশি। তাই জাত্যর্থের দিক থেকে জাতি উপজাতির আওতাভুক্ত।
সুতরাং আমরা বলতে পারি, জাতি ও উপজাতি একে অপরের ওপর নির্ভরশীল।