(ক)
নিরীক্ষা হলো কোনো প্রতিষ্ঠানের আর্থিক বিবরণী, হিসাবের বই, নথিপত্র এবং কার্যপদ্ধতি একজন স্বাধীন ও যোগ্য ব্যক্তি দ্বারা সুশৃঙ্খলভাবে পরীক্ষা করা।
(খ)
নিয়ন্ত্রণের পরে পরিকল্পনা প্রণয়নের ধাপটি আসে।
ব্যবস্থাপনার মৌলিক কার্যাবলি একটি চক্রাকার প্রক্রিয়ার মতো কাজ করে। পরিকল্পনা হলো ব্যবস্থাপনার প্রথম কাজ, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। আর নিয়ন্ত্রণ হলো সর্বশেষ কাজ, যার মাধ্যমে লক্ষ্য অর্জনের অগ্রগতি যাচাই করা হয়। নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত কার্যফল এবং পূর্বনির্ধারিত আদর্শমানের মধ্যে যে পার্থক্য বা বিচ্যুতি দেখা দেয়, তা বিশ্লেষণ করা হয়। এই বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রাপ্ত ফলাফল এবং অভিজ্ঞতার আলোকে পরবর্তী সময়ের জন্য আরও বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। তাই কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পরবর্তী পরিকল্পনার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে এবং ব্যবস্থাপনা চক্রটি পুনরায় শুরু হয়।
(গ)
উপরের রেখাচিত্রটি ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ (Control) কাজের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
নিয়ন্ত্রণ বলতে পূর্বনির্ধারিত আদর্শমানের সাথে প্রকৃত কার্যের ফলাফল তুলনা করে নির্ণীত বিচ্যুতি সংশোধনের নিমিত্তে গৃহীত সকল ব্যবস্থাকে বোঝায়। উদ্দীপকের রেখাচিত্রটিতে নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ার পর্যায়ক্রমিক ধাপগুলো দেখানো হয়েছে, যা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. কার্যফল পরিমাপ: এটি নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ যেখানে প্রকৃতপক্ষে কাজ কতটুকু সম্পন্ন হয়েছে তা পরিমাপ করা হয়।
২. বিচ্যুতি নিরূপণ: পরিমাপকৃত প্রকৃত কার্যফলের সাথে পূর্বনির্ধারিত আদর্শমানের তুলনা করে তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য বা বিচ্যুতি আছে কি না তা নির্ণয় করা হয়।
৩. বিচ্যুতি মূল্যায়ন: যদি বিচ্যুতি পাওয়া যায়, তবে সেই বিচ্যুতির কারণ বিশ্লেষণ করা হয় এবং তা গ্রহণযোগ্য কি না তা মূল্যায়ন করা হয়।
৪. সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ: মূল্যায়নের পর বিচ্যুতির কারণ দূর করতে এবং ভবিষ্যতে যাতে একই ভুল না হয়, সেজন্য প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, রেখাচিত্রের ধাপগুলো সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত।
(ঘ)
"উপরের রেখাচিত্রটি অসম্পূর্ণ এবং সেই কারণেই অকার্যকর", উক্তিটি যথার্থ।
নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া একটি ধারাবাহিক এবং পদ্ধতিগত প্রক্রিয়া। একটি আদর্শ নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ার প্রধানত পাঁচটি ধাপ থাকে:
১. আদর্শমান নির্ধারণ $\rightarrow$ ২. কার্যফল পরিমাপ $\rightarrow$ ৩. বিচ্যুতি নিরূপণ $\rightarrow$ ৪. বিচ্যুতি মূল্যায়ন $\rightarrow$ ৫. সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।
উদ্দীপকের রেখাচিত্রটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এখানে প্রথম ধাপ অর্থাৎ "আদর্শমান নির্ধারণ" (Setting Standards) অনুপস্থিত। আদর্শমান হলো সেই মাপকাঠি বা লক্ষ্যমাত্রা যার সাথে প্রকৃত কাজের তুলনা করা হয়। আদর্শমান ছাড়া প্রকৃত কার্যফল পরিমাপ করলেও তা কোনো অর্থ বহন করে না, কারণ তুলনা করার জন্য কোনো ভিত্তি থাকে না।
রেখাচিত্রের দ্বিতীয় ধাপে "বিচ্যুতি নিরূপণ"-এর কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বিচ্যুতি নিরূপণ করতে হলে অবশ্যই আদর্শমানের সাথে প্রকৃত কার্যফলের তুলনা করতে হয়। যেহেতু এখানে আদর্শমান নির্ধারণের ধাপটি নেই, তাই বিচ্যুতি নিরূপণ করা অসম্ভব। আর বিচ্যুতি নিরূপণ করা না গেলে পরবর্তী ধাপ অর্থাৎ বিচ্যুতি মূল্যায়ন এবং সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব নয়।
সুতরাং, প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপটি অনুপস্থিত থাকায় পুরো প্রক্রিয়াটি অসম্পূর্ণ এবং ফলত অকার্যকর। তাই উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।