Facebook Pixel

১৯৬৯ সালে ভারতের ৪র্থ লোকসভায় অন্তঃকলহের কারণে ইন্দিরা গান্ধী দল থেকে বহিষ্কৃত হন। ফলে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে। গরিষ্ঠ সংখ্যক কংগ্রেস সদস্য ও স্বীয় তৃণমূল সমর্থকদের নিয়ে ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (আর) বা মূল কংগ্রেস গঠিত হয়। অপরদিকে মোরারজি দেশাই-এর নেতৃত্বে মাত্র ৩২ জন কংগ্রেস সদস্য নিয়ে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (অর্গানাইজেশন) গঠিত হয়। ১৯৭১ সালে ভারতের সাধারণ নির্বাচনে ইন্দিরা গান্ধীর দল ৫১৮টি আসনের মধ্যে ৩৫২টি লাভ করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। অন্যদিকে মোরারজি দেশাই-এর দল অর্ধেক আসন হারায়। ক. যুক্তফ্রন্ট কী? খ. উর্দুকে পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?" ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকের আলোকে ১৯৭১ সালে ভারতের সাধারণ নির্বাচনের সাথে তোমার পঠিত কোন নির্বাচনের মিল খুঁজে পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উক্ত নির্বাচনে ঐক্যজোটের বিজয় অর্জনের ফলে রাজনৈতিক নেতৃত্বে যে পরিবর্তন এসেছিল তা মূল্যায়ন করো।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৫ঃ বাংলার ইতিহাস (পাকিস্তান আমল)

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিম লীগকে প্রতিহত করার জন্য ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর পূর্ব বাংলার পাঁচটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত জোটই হলো যুক্তফ্রন্ট। (খ) উর্দুকে পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার মূল উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক স্বার্থ হাসিল করা এবং বাঙালিদের সাংস্কৃতিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়া। পাকিস্তানের শাসনভার যে রাজনীতিবিদ ও আমলাদের হাতে ছিল, তাদের অধিকাংশই ছিলেন উত্তর ভারত থেকে আসা উর্দুভাষী। নতুন রাষ্ট্রের প্রধান বণিকগোষ্ঠীও ছিল উর্দুভাষী। ফলে তারা নিজেদের রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক আধিপত্য বজায় রাখতে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে। এছাড়া উর্দুভাষী শাসকগোষ্ঠী মনে করত বাংলা হলো হিন্দুদের ভাষা। তারা আশঙ্কা করত, বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিলে পূর্ব বাংলার বাঙালিরা পশ্চিম বাংলার বাঙালিদের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভবিষ্যতে বৃহত্তর বাংলা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি করতে পারে। তাই বাঙালিদের দমিত রাখতে তারা প্রথমে ভাষার ওপর আঘাত হানে। (গ) ১৯৭১ সালে ভারতের সাধারণ নির্বাচনের সাথে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব বাংলায় বৈষম্যমূলক শোষণ নীতি চালু করে। বাঙালিরা এই শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয় এবং স্বাধিকার আদায়ের জন্য জোটবদ্ধ হয়। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে চারটি প্রধান রাজনৈতিক দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে অংশগ্রহণ করে। জোট গঠন করে নির্বাচন করার এই প্রক্রিয়াটি উদ্দীপকে বর্ণিত ১৯৭১ সালের ভারতের নির্বাচনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। উদ্দীপক অনুযায়ী, ইন্দিরা গান্ধী ১৯৬৯ সালে দলীয় অন্তঃকলহের কারণে কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হন। ফলে কংগ্রেস দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ইন্দিরা গান্ধী তৃণমূল সমর্থকদের নিয়ে মূল কংগ্রেস (আর) গঠন করে ১৯৭১ সালের নির্বাচনে জয়ী হন। অন্যদিকে মোরারজি দেশাইয়ের নেতৃত্বে ছোট একটি দল গঠিত হয়। একইভাবে, ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের দুঃশাসন ও অপরাজনীতি প্রতিহত করতে পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজনবোধ করে। ফলে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, নেজাম-ই-ইসলাম, খিলাফত-ই-রাব্বানি ও গণতন্ত্রী দল মিলে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে। এই জোট ২১ দফার ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে ২২৩টি আসনে জয়লাভ করে। সুতরাং, উদ্দীপকে বর্ণিত ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বাধীন জোটের বিজয় এবং ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের বিজয় উভয় ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা এবং তৃণমূলের সমর্থন একটি প্রভাবশালী শক্তির পতন ঘটিয়ে সরকার গঠনে সহায়তা করেছে। (ঘ) ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয়ের ফলে পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক নেতৃত্বে এক তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন এসেছিল। ১৯৫৪ সালে পূর্ব বাংলার পাঁচটি রাজনৈতিক দল মিলে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে এবং ২১ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়। ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে ২২৩টি আসন লাভ করে যুক্তফ্রন্ট। এই ফলাফল প্রমাণ করে যে, মুসলিম লীগ জনগণের কাছ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল এবং তা কেবল একটি ধনিক শ্রেণির পকেট সংগঠনে পরিণত হয়েছিল। উদ্দীপকে ১৯৭১ সালে ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে তৃণমূলের সাথে ঐক্যজোট গঠন করে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই ঘটনাটি ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের কথা মনে করিয়ে দেয়। ১৯৫৪ সালের এই নির্বাচন ছিল পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পূর্ব বাংলার জনগণের এক গোপন ব্যালট বিপ্লব। কারণ এই বিজয়ের ফলে পূর্ব বাংলার রাজনীতিতে মুসলিম লীগের একচ্ছত্র আধিপত্যের অবসান ঘটে। পাকিস্তান সৃষ্টির পর মুসলিম লীগ কিছু প্রভাবশালী নেতার ব্যক্তিগত সংগঠনে পরিণত হয়েছিল এবং সাধারণ সমর্থকদের সাথে এর দূরত্ব বেড়ে গিয়েছিল। এছাড়া অন্তর্দলীয় কোন্দলের ফলে অনেক ত্যাগী নেতা দল ত্যাগ করে নতুন দল গঠন করেন। বিশেষ করে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। এর ফলে রাজনীতিতে মধ্যবিত্ত শ্রেণি এবং তরুণ প্রজন্মের প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পূর্ব বাংলার রাজনীতিতে এক গুণগত পরিবর্তন নিয়ে আসে। উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয় রাজনৈতিক চিন্তাধারাকে ধনিক শ্রেণি থেকে সরিয়ে মধ্যবিত্ত ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়, যা পরবর্তীতে বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের পথ প্রশস্ত করে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

১৯৬৯ সালে ভারতের ৪র্থ লোকসভায় অন্তঃকলহের কারণে ইন্দিরা গান্ধী দল থেকে বহিষ্কৃত হন। ফলে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে। গরিষ্ঠ সংখ্যক কংগ্রেস সদস্য ও স্বীয় তৃণমূল সমর্থকদের নিয়ে ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (আর) বা মূল কংগ্রেস গঠিত হয়। অপরদিকে মোরারজি দেশাই-এর নেতৃত্বে মাত্র ৩২ জন কংগ্রেস সদস্য নিয়ে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (অর্গানাইজেশন) গঠিত হয়। ১৯৭১ সালে ভারতের সাধারণ নির্বাচনে ইন্দিরা গান্ধীর দল ৫১৮টি আসনের মধ্যে ৩৫২টি লাভ করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। অন্যদিকে মোরারজি দেশাই-এর দল অর্ধেক আসন হারায়।

ক. যুক্তফ্রন্ট কী?

খ. উর্দুকে পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?" ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকের আলোকে ১৯৭১ সালে ভারতের সাধারণ নির্বাচনের সাথে তোমার পঠিত কোন নির্বাচনের মিল খুঁজে পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উক্ত নির্বাচনে ঐক্যজোটের বিজয় অর্জনের ফলে রাজনৈতিক নেতৃত্বে যে পরিবর্তন এসেছিল তা মূল্যায়ন করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বসবাসরত বাঙালিরা প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসের একটি বিশেষ দিন উদযাপন করেন। তারা দিনের শুরুতে 'আমার ভা...

আগরতলা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি কে ছিলেন?

আগরতলা মামলায় কতজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ উত্থাপন করা হয়?

'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' কত তারিখে পালিত হয়?

আফ্রিকার একটি দেশে এক সামরিক কর্মকর্তা ক্ষমতায় আসীন হন। ক্ষমতায় আসার পর তিনি গণতন্ত্র প্রবর্তনের জন্য রাজনৈতিক দল গঠন কর...

“আমাদের দুর্বলতা, ভীরুতা, কলুষ আর লজ্জা সমস্ত দিয়েছে ঢেকে একখন্ড বস্ত্র মানবিক ; আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা।”...

'আমাদের দুর্বলতা, ভীরুতা, কলুষ আর লজ্জা সমস্ত দিয়েছে ঢেকে একখণ্ড বস্ত্র মানবিক; আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা।' ক...

"আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো, একুশে-ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি?" ক. আবুল বরকত কে ছিলেন? খ. 'তমদ্দুন মজলিশ' কী? ব্যাখ্যা ...

একটি রাষ্ট্রের পাঁচটি প্রদেশের মধ্যে জনবহুল প্রদেশটি কেন্দ্রের নিকট থেকে নানা অগণতান্ত্রিক আচরণের শিকার হয়। উক্ত প্রদেশে...

এশিয়া মহাদেশের দেশটি উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চল এ দু'অংশে বিভক্ত ছিল। উত্তরাঞ্চল ছিল প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু। নেতৃত্বে ও ক...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।