Facebook Pixel

১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দে আসামের বিধান সভায় অসমিয়া ভাষাকে আসামের একমাত্র দাপ্তরিক ভাষা করার প্রস্তাব উত্থাপিত হলে সেখানকার বিপুল সংখ্যক বাংলা ভাষাভাষী এর বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। তারা বাংলাকেও অসমিয়া ভাষার সাথে অন্যতম দাপ্তরিক ভাষা করার দাবি করে। আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে হরতাল চলাকালে শিলচর এলাকায় সাধারণ মানুষের মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে এগারো জন প্রাণ হারায়। ক. কোন আইনের মাধ্যমে ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভ করে? খ. বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের গুরুত্ব লেখ। গ. আন্দোলনের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন আন্দোলনের মিল রয়েছে? তার পটভূমি আলোচনা কর। ঘ. বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটাতে উক্ত আন্দোলন ছিল তাৎপর্যপূর্ণ- বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইতিহাস ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ পাকিস্তানি আমলে বাংলা ভাষা আন্দোলন ও এর গতি প্রকৃতি

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ভারত স্বাধীনতা আইন-১৯৪৭ এর মাধ্যমে ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভ করে। খ. বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ছিল খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এ ভাষণে তিনি স্বাধীনতার কথা এমনভাবে উচ্চারণ করেন যা বাংলার ছাত্রজনতা, ইপিআর, বাঙালি সেনা সদস্যদের কাছে তা ছিল 'গ্রিন সিগন্যাল'। ফলে বাঙালি জাতি তার এ বক্তৃতায় স্বাধীনতার বাণী পেয়ে ২৫ মার্চের আক্রমণের পর পাকিস্তানি বাহিনীকে প্রতিরোধ করে। তাই ৭ মার্চের বক্তৃতা বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন, গড়ে তুলতে শিক্ষা দিয়েছে। বস্তুত ৭ মার্চের ভাষণ থেকে বাংলাদেশে মুক্তি সংগ্রাম শুরু হয়। সুতরাং নিঃসন্দেহে বলা যায়, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ছিল গভীর তাৎপর্যপূর্ণ। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়বস্তু পাঠ্যবইয়ের ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ঘটনাকে ইঙ্গিত করে। পাকিস্তান সৃষ্টির আগেই এ রাষ্ট্রের ভাষা কী হবে তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ উর্দুকে মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা করার প্রস্তাবের মাধ্যমে বাংলা-উর্দু ভাষা বিতর্ক শুরু হয়। ১৯৪৭ সালে চৌধুরি খালিকুজ্জামান এবং ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব দেন। তাদের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, ড. মুহাম্মদ এনামুল হকসহ বেশ কয়েকজন বুদ্ধিজীবী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে গঠন করা হয় তমদ্দুন মজলিস নামক সাংস্কৃতিক সংগঠন। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় একইভাবে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব দিলে রাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য ছাত্র-শিক্ষকসহ সব শ্রেণি পেশার মানুষের সর্বাত্মক আন্দোলন শুরু হয়। গঠন করা হয় সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ। পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ৫৬% বাংলা ভাষাভাষী হওয়াতে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার আন্দোলনে শহরে-বন্দরে দেশের সব শ্রেণি পেশার মানুষ শামিল হয়। শিল্প, সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবী মহলও বাংলা ভাষার পক্ষে আন্দোলন শুরু করে। ১৯৪৭ সালে শুরু হওয়া বাংলা ভাষা আন্দোলন ১৯৫২ সালে মহীরুহে পরিণত হয়। ১৯৫২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম পাকিস্তান সরকার ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি করলে, ছাত্র-জনতা ১৪৪ ধারা ভঙ্গের জন্য ২১ ফেব্রুয়ারি মিছিল নিয়ে বের হলে মিছিলে পুলিশ গুলি চালায় এবং রফিক, জব্বার, বরকত, সালামসহ নাম না জানা অনেকে শহিদ হন। ভাষা আন্দোলনের শহিদদের স্মরণে রচনা করা হয় আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো ২১ ফেব্রুয়ারি........ ঘ. বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটাতে উক্ত ঘটনা অর্থাৎ ভাষা আন্দোলন ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্যসাধারণ ঘটনা। পাকিস্তান রাষ্ট্রের বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে এটি ছিল বাঙালি জাতির প্রথম প্রতিবাদ ও বিদ্রোহ এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম প্রেরণা। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই বাঙালি জাতি পশ্চিম পাকিস্তানি সরকারের অবহেলা, বঞ্চনা, শোষণের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছিল। মাতৃভাষা বাংলার প্রতি অবমাননা বাঙালির মনকে প্রবল নাড়া দিয়েছিল। তারা বুঝতে পেরেছিল পাকিস্তানিদের হাতে তাদের ভাষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি কিছুই নিরাপদ নয়। এভাবেই বাঙালির মধ্যে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বীজ বপিত হয়। বাঙালি জাতীয়তাবাদের এ চেতনা ১৯৬২ সালে ছাত্রদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ করে। এছাড়া ১৯৬৬ সালের ছয় দফা ও ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে ভাষা আন্দোলনভিত্তিক জাতীয়তাবাদী চেতনা বাঙালি জনগণকে উজ্জীবিত করে।। ১৯৫২ সালের বাঙালির জাতীয়তাবাদী চেতনায় চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সব শ্রেণি পেশার মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে। এর ফলে বাংলাদেশেই সম্ভবত বিশ্বে প্রথম জাতিরাষ্ট্র যা ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদী চেতনায় জাগ্রত হয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দে আসামের বিধান সভায় অসমিয়া ভাষাকে আসামের একমাত্র দাপ্তরিক ভাষা করার প্রস্তাব উত্থাপিত হলে সেখানকার বিপুল সংখ্যক বাংলা ভাষাভাষী এর বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। তারা বাংলাকেও অসমিয়া ভাষার সাথে অন্যতম দাপ্তরিক ভাষা করার দাবি করে। আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে হরতাল চলাকালে শিলচর এলাকায় সাধারণ মানুষের মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে এগারো জন প্রাণ হারায়।

ক.

কোন আইনের মাধ্যমে ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভ করে?

খ.

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের গুরুত্ব লেখ।

গ.

আন্দোলনের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন আন্দোলনের মিল রয়েছে? তার পটভূমি আলোচনা কর।

ঘ.

বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটাতে উক্ত আন্দোলন ছিল তাৎপর্যপূর্ণ- বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

Z ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের দুঃশাসনের প্রতিকারকল্পে জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে আরও কয়েকজন একত্রিত হয়ে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ইউনি...

boxedmathbf~ক~ সংবিধান রচিত হয় ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে । boxedmathbf~খ~ তমদ্দুন মজলিস হলো ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে গঠিত প...

ক. একুশ নিয়ে প্রথম কবিতার নাম কী? খ. তমদ্দুন মজলিস কী? গ. উদ্দীপকের ছবি তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন আন্দোলনকে ইঙ্গিত করে? ব্যাখ...

ক. একুশ নিয়ে প্রথম কবিতার নাম কী? খ. তমদ্দুন মজলিশ কী? গ. উদ্দীপকের ছবি তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন আন্দোলনকে ইঙ্গিত করে? ব্য...

“এখানে যারা প্রাণ দিয়েছে রমনার ঊর্ধ্বমুখী কৃষ্ণচূড়ার তলায়........ সেখানে আমি কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি।&...

“ওরা আমার মুখের কথা কাইড়া নিতে চায়। ওরা কথায় কথায় শিকল পরায় আমার হাতে পায়।” ক. বঙ্গভঙ্গ রদ হয় কত সালে?...

“ওরা আমার মুখের কথা কাইড়া নিতে চায়। ওরা কথায় কথায় শিকল পরায় আমার হাতে পায়।” ক. পাকিস্তানের সংবিধান রচি...

“ নানা দেশের নানা ভাষা ; বিনা স্বদেশি ভাষা পুরে কি আশা ? কত নদী সরোবর কি বা ফল চাতকীয় ধরাজল বিনে কভু ঘটে কী তৃষ্ণ...

উক্ত দিবসটি নিচের কোন সালের সাথে সম্পর্কিত?

নিচের কোন ভাষাশহিদের বাড়ি ফেনি জেলায়?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।