ক.
'Positive Philosophy' গ্রন্থটি সমাজবিজ্ঞানের জনক ফরাসি দার্শনিক অগাস্ট কোঁতের লেখা।
খ.
বাংলাদেশে বছরের প্রধান শস্য সংগ্রহকে কেন্দ্র করে যে উৎসব পালন করা হয় তা-ই নবান্ন উৎসব।
নবান্ন শব্দের অর্থ 'নতুন অন্ন'। নতুন আমন ধান কাটার পর সে ধান থেকে প্রস্তুত চালের প্রথম রান্না উপলক্ষে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। সাধারণত অগ্রহায়ণ মাসে এ উৎসব উদযাপিত হয়। তবে কোনো কোনো অঞ্চলে পৌষ ও মাঘ মাসেও নবান্ন উৎসবের আয়োজন করা হয়। এ সময় নতুন ফসল কৃষিজীবী মানুষের মনে আনন্দ এনে দেয়। এ আনন্দের প্রতিফলন ঘটে পৌষ পিঠে, দুধ পিঠে, পিঠাপুলি প্রভৃতির অবারিত বিতরণের মধ্য দিয়ে।
গ.
উদ্দীপকে বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের জনক ড. এ. কে. নাজমুল করিমের কথা বলা হয়েছে।
বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের বিকাশে ড. এ. কে. নাজমুল করিমের অবদান সবচেয়ে বেশি। বিশেষত সমাজবিজ্ঞানকে একটি আলাদা বিভাগ হিসেবে প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তার অবদান অনস্বীকার্য। তার ঐকান্তিক আগ্রহ ও প্রচেষ্টার ফলে ১৯৫৭-৫৮ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউনেস্কোর সহযোগিতায় সর্বপ্রথম ‘সমাজবিজ্ঞান' নামে একটি বিভাগ চালু হয়। ১৯৫৮ সালে তিনি এ বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অধ্যাপক নাজমুল করিম প্রথম বাঙালি যিনি সমাজবিজ্ঞানের ওপর সর্বপ্রথম একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ রচনা করেন। তার লিখিত 'Changing Society in India, Pakistan and Bangladesh (1956)' গ্রন্থটি সমাজবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক গ্রন্থ হিসেবে এখনও সবার কাছে সমাদৃত। তার লিখিত অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে The Dynamics of Bangladesh Society (1980), সমাজবিজ্ঞান সমীক্ষণ (১৯৭৩)” ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। বস্তুত অধ্যাপক ড. এ. কে. নাজমুল করিম ও তার ছাত্র- ছাত্রীদের ঐকান্তিক সাধনার ফলেই এদেশে সমাজবিজ্ঞানের পঠন-পাঠন ও আলোচনা বিস্তৃতি লাভ করেছে। বিশেষ করে সমাজবিজ্ঞানের বিকাশে বিভাগীয় যাদুঘর প্রতিষ্ঠা, মনোগ্রাফ লেখার ব্যবস্থা, গ্রামীণ প্রশ্নমালা পূরণের কার্যক্রম সবই তার অবদান। এ কারণে অধ্যাপক এ. কে. নাজমুল করিমকে বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপকের পরিশ্রমের ফলে ১৯৫৭ সালে বাংলাদেশে একটি সামাজিক বিজ্ঞান বিকাশ লাভ করে এটি সমাজবিজ্ঞানকেই নির্দেশ করে। উদ্দীপকে আলোচিত অধ্যাপকের সঙ্গে ড. এ. কে. নাজমুল করিমের সাদৃশ্য রয়েছে, যা উল্লিখিত আলোচনায় ফুটে উঠেছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে অধ্যাপক ড. এ. কে. নাজমুল করিমের কথা বলা হয়েছে।
ঘ.
একটি সুখী ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে উদ্দীপকে নির্দেশিত বিজ্ঞান তথা সমাজবিজ্ঞানের পঠন-পাঠন অত্যন্ত জরুরি— উক্তিটি যথার্থ।
বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের একটি উন্নয়নশীল দেশ। এখনও এদেশে সমাজের নানা স্তরে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা লক্ষ করা যায়। এ সমস্যাগুলোর মধ্যে দারিদ্র্য, জনসংখ্যাস্ফীতি, বাল্যবিবাহ, বেকারত্ব, মাদকাসক্তি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এসব সমস্যার সমাধান ছাড়া সুখী ও সমৃদ্ধশালী সমাজ গঠন কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়। যদিও এসব সমস্যা সমূলে ধ্বংস করা যাবে না, তবুও যথোপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের মধ্য দিয়ে এর মাত্রা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। আর এ ক্ষেত্রে সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান সবচেয়ে বেশি সহায়তা করতে পারে। কারণ একটি তাত্ত্বিক বিষয় হিসেবে সমাজবিজ্ঞান সামাজিক সমস্যাগুলোকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করে এবং এর সমাধানে বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা চালায়। বিশেষ করে সমস্যার উৎস কোথায়, সমাজের ওপর এর প্রভাব কীরূপ, সমাধানের জন্য কোন ব্যবস্থা অধিকতর উপযোগী ইত্যাদি বিষয় মাথায় রেখে সমাজবিজ্ঞান গবেষণা করে। ফলে দেখা যায়, সামাজিক সমস্যা সমাধানে সমাজবিজ্ঞানীর পরিচালিত গবেষণা বেশি ফলপ্রসূ হয়। সামাজিক সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি সমাজজীবনকে সুখী ও সমৃদ্ধশালী করতে বহুমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করতে হয় । সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান ছাড়া এসব কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। কার্যত বাংলাদেশকে সুখী ও সমৃদ্ধশালী করতে যেসব পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়, সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান না থাকলে তার বাস্তব রূপ দেওয়া সম্ভব না।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, বাংলাদেশের সমাজজীবনে যেসব সমস্যা লক্ষ করা যায় সেগুলোর সমাধানে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সুষ্ঠু উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে সুখী ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গঠন করতে হলে সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান অপরিহার্য।