Facebook Pixel

১৮৩৯ সালে ফ্রান্সে একটি সামাজিক বিজ্ঞানের জন্ম হলেও বাংলাদেশে সেটি ১৯৫৭ সালে বিকাশ লাভ করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপকের পরিশ্রমের ফলে এটি সম্ভব হয়। সেজন্য তাকে বিজ্ঞানটির বাংলাদেশের জনক বলা হয়। একটি সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য এই বিষয়টির পঠন অত্যন্ত জরুরি। ক. Course de Philosophic Positive বইটি কোন সমাজবিজ্ঞানীর লেখা? খ. সমাজবিজ্ঞান হচ্ছে সামাজিক সম্পর্কের বিজ্ঞান - বুঝিয়ে বল। গ. উদ্দীপকে কোন অধ্যাপক এর কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. "বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশে উদ্দীপকে নির্দেশিত বিষয়টির পঠন অত্যন্ত জরুরি" উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চার বিকাশ

উৎস: Board Exam Question RB 2022

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. Course de Philosophic Positive বইটির লেখক সমাজবিজ্ঞানী অগাস্ট কোঁৎ খ. সমাজের মানুষ ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক সম্পর্কের বিজ্ঞানভিত্তিক অধ্যায়ন করা হয় বিদায় সমাজবিজ্ঞান সামাজিক সম্পর্কের বিজ্ঞান। মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে সমাজ গড়ে ওঠে সমাজ। সমাজবদ্ধ মানুষের আচার-আচরণ, আদর্শ, মূল্যবোধ, কার্যাবলী, সংস্কৃতি প্রকৃতি কিভাবে পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে এবং গতিশীলতা বজায় থাকে সমাজবিজ্ঞান তার বিজ্ঞান ভিত্তিক বিশ্লেষণ করে। এজন্য সমাজবিজ্ঞানকে সামাজিক সম্পর্কের বিজ্ঞান বলা হয়। গ. উদ্দীপকে অধ্যাপক ড. এ. কে. নাজুল করিমের কথা বলা হয়েছে। নিম্নে তা ব্যাখ্যা করা হলো ১৯৫৪ সালে ইউনেস্কো বিশেষজ্ঞ ও সামাজিক নৃবিজ্ঞানী অধ্যাপক বাংলাদেশ ক্লদ লেভি স্ট্রস বাংলাদেশে সফরে আসলে অধ্যাপক ডক্টর এ কে নাজমুল করিম এবং অধ্যাপক অজিত কুমার সেন তার সাথে দেখা করেন। এ সময় তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমাজবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ইউনেস্কোর সহযোগিতা কামনা করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৫৭-৫৮ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান নামে একটি স্বতন্ত্র বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠায় এ. কে. নাজমুল করিমের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাকে বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের জনক বলা হয়। উদ্দীপকেও সামাজিক বিজ্ঞানের বাংলাদেশশ বিকাশ লাভের ঘটনাটি উল্লেখ করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক এর পরিশ্রমের ফলে এটি বাংলাদেশে পঠন পাঠন সম্ভব হয়। আর তার এই প্রচেষ্টার জন্য বাংলাদেশে তাকে সমাজবিজ্ঞানের জনক বলা হয় অর্থাৎ উদ্দীপকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এ. কে. নাজমুল করিমের কথা ইঙ্গিত করা হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে অধ্যাপক ড. এ. কে. নাজুল করিমের কথা বলা হয়েছে। ঘ. "বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশে উদ্দীপকে নির্দেশিত বিষয়টি তথা সমাজবিজ্ঞান্র পঠন অত্যন্ত জরুরি"। নিম্নে উক্তিটি বিশ্লেষণ করা হলো : উন্নয়নশীল দেশে সাধারণত সমাজের বিভিন্ন স্তরে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা লক্ষ্য করা যায়। এগুলোর মধ্যে জনসংখ্যাস্ফীতি, বাল্যবিবাহ, বেকারত্ব, মাদকাসক্তি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। আর এই সকল সামাজিক সমস্যার সমাধান না থাকলে একটি সুখী ও সমৃদ্ধশালী সমাজ গঠন সম্ভব নয়। সাধারণত এই সকল সমস্যা সমূলে ধ্বংস করা যায় না, তবুও সমাজ বিজ্ঞানের জ্ঞান ব্যবহার করে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের মধ্য দিয়ে এর মাত্রা অনেকাংশ কমিয়ে আনা যায়। সমাজ বিজ্ঞানের জ্ঞান ব্যবহার করে প্রথমত সামাজিক সমস্যাগুলোকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করা হয় এবং এর সমাধানে বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা চালানো হয়। বিশেষ করে এই সমস্যার উৎস কোথায়, সমাজের উপরের প্রভাব এবং সমাধানের জন্য অধিকতর উপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণ ইত্যাদি বিষয় মাথায় রেখেই সমাজবিজ্ঞান গবেষণা করে, যা গবেষণাটিকে অত্যাধিক ফলপ্রসু করতে সহায়তা করে। সামাজিক সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি বাংলাদেশের সমাজজীবনকে সুখী ও সমৃদ্ধশালী করতে বহুমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করতে হয়। সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান ছাড়া এসব কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। অর্থাৎ সুখী ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়তে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনাকে বাস্তব রূপ দিতে সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান সহায়ক। তাই বলা যায়, "বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশে সমাজবিজ্ঞানের পঠন অত্যন্ত জরুরি" - উক্তিটি যথার্থ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenRajshahi Board (2022)

১৮৩৯ সালে ফ্রান্সে একটি সামাজিক বিজ্ঞানের জন্ম হলেও বাংলাদেশে সেটি ১৯৫৭ সালে বিকাশ লাভ করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপকের পরিশ্রমের ফলে এটি সম্ভব হয়। সেজন্য তাকে বিজ্ঞানটির বাংলাদেশের জনক বলা হয়। একটি সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য এই বিষয়টির পঠন অত্যন্ত জরুরি।

ক.

Course de Philosophic Positive বইটি কোন সমাজবিজ্ঞানীর লেখা?

খ.

সমাজবিজ্ঞান হচ্ছে সামাজিক সম্পর্কের বিজ্ঞান - বুঝিয়ে বল।

গ.

উদ্দীপকে কোন অধ্যাপক এর কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

"বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশে উদ্দীপকে নির্দেশিত বিষয়টির পঠন অত্যন্ত জরুরি" উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।