Facebook Pixel

১৭৮৯ খ্রিষ্টাব্দে ফ্রান্সের রাজা ষোড়শ লুইয়ের স্বৈরাচারী শাসন, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ, অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা ও বৈষম্যের প্রতিবাদে ফরাসি বিপ্লব সংঘটিত হয়। স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব এ স্লোগানের তিনটি দাবিই হয়ে উঠেছিল ফরাসিদের প্রাণের দাবি। ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে গণমানুষের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন সফল হয় এবং জনগণ মুক্তি পায়। ক. যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি প্রতীক কী ছিল? খ. 'তমদ্দুন মজলিস' কী? ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ফরাসি জাতির প্রাণের দাবির সাথে বাঙালির কোন দাবির মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. তোমার পঠিত উক্ত দাবিই বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথকে ত্বরান্বিত করেছিল – বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৫ঃ বাংলার ইতিহাস (পাকিস্তান আমল)

উৎস: Test Exam Question ISCM 2026

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি প্রতীক ছিল নৌকা। (খ) তমদ্দুন মজলিস হলো ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন। পাকিস্তান সৃষ্টির পর নতুন রাষ্ট্রটির রাষ্ট্রভাষা কী হবে, তা নিয়ে মুসলিম লীগের প্রভাবশালী নেতারা উর্দু ভাষার পক্ষে মতামত দেন। তখনই ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহসহ বাংলার বুদ্ধিজীবী ও লেখকগণ এর প্রতিবাদ করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা জোরদার করার জন্যই অধ্যাপক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে তমদ্দুন মজলিস গঠিত হয়। (গ) উদ্দীপকে বর্ণিত ফরাসি জাতির প্রাণের দাবির সাথে বাঙালির ছয় দফা দাবির মিল রয়েছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, ১৭৮৯ খ্রিষ্টাব্দে ফ্রান্সের রাজা ষোড়শ লুইয়ের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণ তিনটি দাবি নিয়ে বিপ্লব সংঘটিত করে, যা ছিল তাদের প্রাণের দাবি। এ দাবির সাথে বাঙালির ছয় দফার মিল রয়েছে, কেননা ছয় দফা ছিল বাঙালির স্বাধিকার ও মুক্তির প্রাণের দাবি। ১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের ফলে ভারত ও পাকিস্তান নামক দুটি রাষ্ট্রের উৎপত্তি ঘটে। তখন থেকেই পশ্চিম পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্য শুরু করে। ফলে পূর্বাংশে শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে ৬ দফাভিত্তিক আন্দোলন শুরু করেন। ৬ দফার উল্লেখযোগ্য দাবিসমূহ হলো: ১. ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পাকিস্তানকে একটি সত্যিকার ফেডারেশনরূপে গড়তে হবে। তাতে পার্লামেন্টারি পদ্ধতিতে সরকার থাকবে এবং সব নির্বাচন সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কদের সরাসরি ভোটে অনুষ্ঠিত হবে। ২. দেশরক্ষা ও পররাষ্ট্রসংক্রান্ত বিষয়সমূহের ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে থাকবে, অন্য সব বিষয়ে স্টেটসমূহের পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে। ৩. পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য দুটি পৃথক অথচ সহজে বিনিময়যোগ্য মুদ্রা চালু থাকবে অথবা একটি মুদ্রা থাকলে দুটি পৃথক রিজার্ভ ব্যাংক থাকবে। ৪. সকল প্রকার কর ও শুল্ক ধার্য এবং তা আদায়ের ক্ষমতা থাকবে প্রাদেশিক সরকারের হাতে। ৫. বৈদেশিক মুদ্রার ওপর অঙ্গরাজ্যগুলোর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে এবং বৈদেশিক বাণিজ্য ও সাহায্য সম্পর্কে অঙ্গরাজ্যের সরকারগুলো আলাপ-আলোচনা ও চুক্তি করতে পারবে। ৬. আঞ্চলিক সংহতি ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে অঙ্গরাজ্যগুলো আধাসামরিক বাহিনী রাখতে পারবে। (ঘ) আমার পঠিত উক্ত দাবি তথা ছয় দফা দাবিই বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথকে ত্বরান্বিত করেছিল। ১৯৬৬ সালের ছয় দফা ছিল বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ। এ ছয় দফাকে কেন্দ্র করে ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জয় লাভ এবং সর্বোপরি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতা অর্জিত হয়। এটি ছিল শোষণের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। ছয় দফা দাবির প্রতি সরকার যত কঠোর হতে থাকে, বাঙালি জাতি তত বেশি জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ হয়। গোটা বাঙালি জাতি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে যখন পাকিস্তানের শাসন ও শোষণের যাঁতাকলে দিশেহারা, তখন ছয় দফা কর্মসূচি ছিল বাঙালি জাতির জীবনে আশার আলো। পশ্চিম পাকিস্তানের অধিকতর শক্তিশালী আমলা ও বুর্জোয়া শ্রেণির খপ্পর হতে মুক্তি পাওয়াই ছিল বাঙালিদের অন্যতম দাবি। শেখ মুজিবুর রহমান নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গোটা বাঙালি সত্তার স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার দৃঢ় প্রত্যয়ে বলীয়ান হয়ে উঠেন এবং ছয় দফা কর্মসূচিকে এগিয়ে নিতে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলেন। পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন দাবির আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ছয় দফার মাধ্যমে বলিষ্ঠ কণ্ঠে স্বায়ত্তশাসনের দাবি করা হয় এবং এর মাধ্যমে পূর্ণ বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটে। এ দাবির মধ্যেই বাঙালির স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল। তাই গুরুত্বের বিচারে ছয় দফাকে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ বা 'ম্যাগনা কার্টা' বলা হয়। পরিশেষে বলা যায়, ছয় দফা দাবিই বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতার চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছে দিয়েছিল।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenনির্বাচনী পরীক্ষা - Ideal School & College, Motijheel, Dhaka (2026)

১৭৮৯ খ্রিষ্টাব্দে ফ্রান্সের রাজা ষোড়শ লুইয়ের স্বৈরাচারী শাসন, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ, অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা ও বৈষম্যের প্রতিবাদে ফরাসি বিপ্লব সংঘটিত হয়। স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব এ স্লোগানের তিনটি দাবিই হয়ে উঠেছিল ফরাসিদের প্রাণের দাবি। ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে গণমানুষের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন সফল হয় এবং জনগণ মুক্তি পায়। ক. যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি প্রতীক কী ছিল? খ. 'তমদ্দুন মজলিস' কী? ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ফরাসি জাতির প্রাণের দাবির সাথে বাঙালির কোন দাবির মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. তোমার পঠিত উক্ত দাবিই বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথকে ত্বরান্বিত করেছিল – বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বসবাসরত বাঙালিরা প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসের একটি বিশেষ দিন উদযাপন করেন। তারা দিনের শুরুতে 'আমার ভা...

আগরতলা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি কে ছিলেন?

আগরতলা মামলায় কতজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ উত্থাপন করা হয়?

'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' কত তারিখে পালিত হয়?

আফ্রিকার একটি দেশে এক সামরিক কর্মকর্তা ক্ষমতায় আসীন হন। ক্ষমতায় আসার পর তিনি গণতন্ত্র প্রবর্তনের জন্য রাজনৈতিক দল গঠন কর...

“আমাদের দুর্বলতা, ভীরুতা, কলুষ আর লজ্জা সমস্ত দিয়েছে ঢেকে একখন্ড বস্ত্র মানবিক ; আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা।”...

'আমাদের দুর্বলতা, ভীরুতা, কলুষ আর লজ্জা সমস্ত দিয়েছে ঢেকে একখণ্ড বস্ত্র মানবিক; আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা।' ক...

"আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো, একুশে-ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি?" ক. আবুল বরকত কে ছিলেন? খ. 'তমদ্দুন মজলিশ' কী? ব্যাখ্যা ...

একটি রাষ্ট্রের পাঁচটি প্রদেশের মধ্যে জনবহুল প্রদেশটি কেন্দ্রের নিকট থেকে নানা অগণতান্ত্রিক আচরণের শিকার হয়। উক্ত প্রদেশে...

এশিয়া মহাদেশের দেশটি উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চল এ দু'অংশে বিভক্ত ছিল। উত্তরাঞ্চল ছিল প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু। নেতৃত্বে ও ক...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।