Facebook Pixel

১৭৮৯ খ্রিষ্টাব্দে ফ্রান্সের রাজা ষোড়শ লুইয়ের স্বৈরাচারী শাসন, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ, অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা ও বৈষম্যের প্রতিবাদে ফরাসি বিপ্লব সংঘটিত হয়। স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব এ স্লোগানের তিনটি দাবিই হয়ে উঠেছিল ফরাসিদের প্রাণের দাবি। ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে গণমানুষের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন সফল হয় এবং জনগণ মুক্তি পায়। ক. যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি প্রতীক কী ছিল? খ. 'তমদ্দুন মজলিশ' কী? ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ফরাসি জাতির প্রাণের দাবির সাথে বাঙালির কোন দাবির মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. তোমার পঠিত উক্ত দাবিই বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথকে ত্বরান্বিত করেছিল- বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৫ঃ বাংলার ইতিহাস (পাকিস্তান আমল)

উৎস: Board Exam Question ChB 2023, Board Exam Question Combined 2023

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি প্রতীক ছিল নৌকা। (খ) ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা প্রথম সাংস্কৃতিক সংগঠন হলো 'তমদ্দুন মজলিশ'। ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ঢাকায় 'তমদ্দুন মজলিশ' প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সংগঠনের পক্ষ থেকে 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু' নামে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করা হয়, যা ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা। ভাষা আন্দোলনকে সাংগঠনিক রূপ দেওয়ার জন্য 'তমদ্দুন মজলিশ'-এর উদ্যোগে একটি 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করা হয়। (গ) উদ্দীপকে বর্ণিত ফরাসি জাতির প্রাণের দাবির সাথে বাঙালির 'ছয় দফা' দাবির মিল রয়েছে। পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসনে বাঙালি জাতি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক, সামরিক ও শিক্ষা প্রভৃতি ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যের শিকার হয়। বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ অবসানের পর পূর্ব পাকিস্তানের নিরাপত্তার প্রতি পশ্চিম পাকিস্তান সরকারের চরম অবহেলা বাঙালির মনে ক্ষোভের সৃষ্টি করে। এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির মুক্তির লক্ষ্যে পাকিস্তান সরকারের কাছে ছয় দফা দাবি পেশ করেন, যা দ্রুতই বাঙালি জাতির প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, ১৭৮৯ খ্রিষ্টাব্দে ফ্রান্সের রাজা ষোড়শ লুইয়ের স্বৈরাচারী শাসন, গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ এবং বৈষম্যের প্রতিবাদে ফরাসি বিপ্লব সংঘটিত হয়। সেখানে 'স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব' ছিল ফরাসিদের প্রাণের দাবি। একইভাবে, বঙ্গবন্ধুর উত্থাপিত ছয় দফা দাবি ছিল পাকিস্তান রাষ্ট্রকাঠামোর ভেতর সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্ব বাংলার মানুষের মুক্তির সনদ বা 'ম্যাগনাকার্টা'। এই দাবিতে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন, ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনার ক্ষমতা, প্রতিরক্ষা ও রাজস্ব নিয়ন্ত্রণ এবং সর্বজনীন ভোটের মাধ্যমে আইনসভা গঠনের কথা উল্লেখ করা হয়। সুতরাং বলা যায়, স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মুক্তির আকাঙ্ক্ষার দিক থেকে উদ্দীপকের ফরাসি দাবি এবং বাঙালির ছয় দফা দাবির মধ্যে গভীর সাদৃশ্য রয়েছে। (ঘ) উক্ত দাবি তথা ছয় দফা দাবি বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথকে ত্বরান্বিত করেছিল- মন্তব্যটি যথার্থ। বাংলার স্বাধিকার ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে ছয় দফার গুরুত্ব অপরিসীম। এটি ছিল পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যবিত্ত শ্রেণির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক এবং আপামর জনতার মুক্তির সনদ। ছয় দফার মাধ্যমে বাঙালি জাতি প্রথমবারের মতো তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বাধিকারের দাবি স্পষ্টভাবে উত্থাপন করে। সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে একটি স্বতন্ত্র সত্তা হিসেবে বাঁচার এই দাবি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শাসন-শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে এক বলিষ্ঠ প্রতিবাদ হয়ে দাঁড়ায়। ছয় দফা কর্মসূচি বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনাকে জাগ্রত করে এবং জনগণের সংগ্রামী মনোভাবকে দৃঢ় করে। এই কর্মসূচির ভিত্তিতে ১৯৬৯ সালে ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পূর্ব বাংলার জনগণ ব্যাপক আন্দোলন শুরু করে, যা শেষ পর্যন্ত গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। এই গণঅভ্যুত্থানের ফলে স্বৈরাচারী আইয়ুব খানের পতন ঘটে এবং বাঙালির স্বাধীনতার পথ প্রশস্ত হয়। পরিশেষে বলা যায়, ছয় দফা ছিল পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর দীর্ঘকাল ধরে চলা অবজ্ঞা, অবিচার ও শোষণের বিরুদ্ধে প্রথম সুপরিকল্পিত লিখিত প্রতিবাদ। এই দাবিই বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল এবং পরবর্তীকালে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছিল। তাই বলা যায়, ছয় দফা দাবিই বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথকে ত্বরান্বিত করেছিল।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenChattogram Board (2023)Combined Board (2023)

১৭৮৯ খ্রিষ্টাব্দে ফ্রান্সের রাজা ষোড়শ লুইয়ের স্বৈরাচারী শাসন, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ, অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা ও বৈষম্যের প্রতিবাদে ফরাসি বিপ্লব সংঘটিত হয়। স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব এ স্লোগানের তিনটি দাবিই হয়ে উঠেছিল ফরাসিদের প্রাণের দাবি। ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে গণমানুষের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন সফল হয় এবং জনগণ মুক্তি পায়।

ক. যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি প্রতীক কী ছিল?

খ. 'তমদ্দুন মজলিশ' কী? ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ফরাসি জাতির প্রাণের দাবির সাথে বাঙালির কোন দাবির মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. তোমার পঠিত উক্ত দাবিই বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথকে ত্বরান্বিত করেছিল- বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বসবাসরত বাঙালিরা প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসের একটি বিশেষ দিন উদযাপন করেন। তারা দিনের শুরুতে 'আমার ভা...

আগরতলা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি কে ছিলেন?

আগরতলা মামলায় কতজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ উত্থাপন করা হয়?

'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' কত তারিখে পালিত হয়?

আফ্রিকার একটি দেশে এক সামরিক কর্মকর্তা ক্ষমতায় আসীন হন। ক্ষমতায় আসার পর তিনি গণতন্ত্র প্রবর্তনের জন্য রাজনৈতিক দল গঠন কর...

“আমাদের দুর্বলতা, ভীরুতা, কলুষ আর লজ্জা সমস্ত দিয়েছে ঢেকে একখন্ড বস্ত্র মানবিক ; আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা।”...

'আমাদের দুর্বলতা, ভীরুতা, কলুষ আর লজ্জা সমস্ত দিয়েছে ঢেকে একখণ্ড বস্ত্র মানবিক; আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা।' ক...

"আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো, একুশে-ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি?" ক. আবুল বরকত কে ছিলেন? খ. 'তমদ্দুন মজলিশ' কী? ব্যাখ্যা ...

একটি রাষ্ট্রের পাঁচটি প্রদেশের মধ্যে জনবহুল প্রদেশটি কেন্দ্রের নিকট থেকে নানা অগণতান্ত্রিক আচরণের শিকার হয়। উক্ত প্রদেশে...

এশিয়া মহাদেশের দেশটি উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চল এ দু'অংশে বিভক্ত ছিল। উত্তরাঞ্চল ছিল প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু। নেতৃত্বে ও ক...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।