Facebook Pixel

১৭৫৭ সালের ২৩ জুন বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাথে পলাশীর প্রান্তরে ইংরেজ ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানির যুদ্ধ সংঘটিত হয়। যুদ্ধের গতি-প্রকৃতি প্রথমে নবাবের পক্ষেই ছিল। কিন্তু নবাবের সেনাবাহিনীর একজন সুদক্ষ সৈনিক কিছু সংখ্যক সৈন্যসহ যুদ্ধের ময়দান থেকে সরে পড়েন। ফলে নবাবের বাহিনী কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। তারপরও নবাব বাহিনী যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছিলেন। যুদ্ধ বিরতি শুরু হয়। বিরতির পর নবাব বাহিনীর অধিনায়ক দলের প্রত্যেকে যার যার অবস্থানে থেকে সর্বশক্তি দিয়ে যুদ্ধ করে বিজয় ছিনিয়ে আনতে উৎসাহ প্রদান করেন। নবাব বাহিনী যখন বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে তখন কিছু সংখ্যক সৈনিক ব্যক্তিগত সুবিধা ও বিজয়ের আনন্দে যুদ্ধে অমনযোগী হয়ে পড়ে। তাদের এহেন খামখেয়ালীর সুযোগে ইংরেজ বাহিনী কৌশলী আক্রমণের সাহায্যে বিজয় ছিনিয়ে নেয়। ক. আনসার কারা? খ. 'আল-আমিন' উপাধি দেওয়া হয় কাকে এবং কেন? গ. যুদ্ধের ময়দান ত্যাগকারী সৈনিকের সাথে উহুদ যুদ্ধের কোন ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. পাঠ্যবইয়ের আলোকে উহুদ যুদ্ধের ফলাফল বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)

উৎস: Board Exam Question Combined 2026

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. মদিনার যেসব মুসলিম হিজরতের পর মক্কা থেকে আগত মুহাজিরদের আশ্রয়, নিরাপত্তা ও আর্থিক সাহায্য প্রদান করেছিলেন, ইসলামের ইতিহাসে তাঁদেরকে 'আনসার' বা সাহায্যকারী বলা হয়। খ. মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে তাঁর অতুলনীয় সততা, বিশ্বস্ততা ও ন্যায়পরায়ণতার জন্য মক্কার কুরাইশরা 'আল-আমিন' (বিশ্বস্ত) উপাধি দিয়েছিল। শৈশব থেকেই মহানবি (সা.) ছিলেন চরম সত্যবাদী ও আমানতদার। তৎকালীন আরবের লোকজন তাঁর কাছে তাদের মহামূল্যবান সম্পদ নির্দ্বিধায় আমানত রাখত এবং তিনি তা অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সাথে রক্ষা করতেন। চরম শত্রুরাও তাঁর সততা ও আমানতদারি নিয়ে কখনো সন্দেহ করেনি। তাঁর এই অসামান্য চারিত্রিক গুণাবলি ও বিশ্বস্ততায় মুগ্ধ হয়েই মক্কার মানুষ তাঁকে 'আল-আমিন' উপাধিতে ভূষিত করেছিল। গ. উদ্দীপকের যুদ্ধের ময়দান ত্যাগকারী সৈনিকের সাথে ইসলামের ইতিহাসের উহুদ যুদ্ধের মুনাফিক সর্দার 'আবদুল্লাহ বিন উবাই'-এর কর্মকাণ্ডের সুস্পষ্ট মিল রয়েছে। ৬২৫ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত উহুদ যুদ্ধে মহানবি (সা.) ১০০০ মুসলিম সৈন্য নিয়ে মদিনা থেকে উহুদ প্রান্তরের দিকে রওনা হন। কিন্তু পথিমধ্যে শওত নামক স্থানে পৌঁছালে মুনাফিক সর্দার আবদুল্লাহ বিন উবাই তার অনুসারী ৩০০ সৈন্য নিয়ে দলত্যাগ করে মদিনায় ফিরে যায়। তার এই চরম বিশ্বাসঘাতকতার ফলে মুসলিম বাহিনীর সংখ্যা ১০০০ থেকে কমে ৭০০-তে নেমে আসে এবং মুসলিম বাহিনী সাময়িকভাবে কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। উদ্দীপকেও দেখা যায়, পলাশীর প্রান্তরে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সেনাবাহিনীর একজন সুদক্ষ সৈনিক কিছু সংখ্যক সৈন্যসহ যুদ্ধের ময়দান থেকে সরে পড়েন, যার ফলে নবাবের বাহিনী দুর্বল হয়ে পড়ে। উদ্দীপকের এই দলত্যাগী সৈনিকের আচরণের সাথেই মূলত উহুদ যুদ্ধের মুনাফিক সর্দার আবদুল্লাহ বিন উবাইয়ের দলত্যাগের ঐতিহাসিক ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে। ঘ. উদ্দীপকের শেষাংশে নবাব সিরাজউদ্দৌলার বাহিনীর পরাজয়ের যে কারণটি ফুটে উঠেছে, তা মূলত উহুদ যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর সাময়িক বিপর্যয়েরই ঐতিহাসিক প্রতিফলন। পাঠ্যবইয়ের আলোকে উহুদ যুদ্ধের ফলাফল নিচে বিশ্লেষণ করা হলো: উহুদ যুদ্ধের প্রথম পর্যায়ে মুসলিম বাহিনী প্রবল বীরত্বের সাথে লড়াই করে কুরাইশদের পিছু হঠতে বাধ্য করেছিল। বিজয় যখন সুনিশ্চিত, তখন মহানবি (সা.) কর্তৃক 'আইনাইন' পাহাড়ের গিরিপথে পাহারায় নিযুক্ত ৫০ জন তীরন্দাজ চরম ভুল করে বসেন। মহানবি (সা.)-এর কঠোর নির্দেশ ছিল—জয় বা পরাজয় যাই হোক না কেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা যেন কোনোক্রমেই ওই গিরিপথ ত্যাগ না করে। কিন্তু কুরাইশদের পালাতে দেখে তীরন্দাজরা মনে করেন যুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে। ফলে সেনাপতির নির্দেশ অমান্য করে এবং গনিমত (যুদ্ধের লভ্যাংশ) সংগ্রহের আশায় তাদের বেশিরভাগই নিজেদের স্থান ত্যাগ করেন। উদ্দীপকেও দেখা যায়, নবাব বাহিনী যখন বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে, তখন কিছু সংখ্যক সৈনিক ব্যক্তিগত সুবিধা ও বিজয়ের আনন্দে যুদ্ধে অমনোযোগী হয়ে নিজেদের অবস্থান ত্যাগ করে। ঠিক একইভাবে, উহুদ যুদ্ধে তীরন্দাজরা গিরিপথ ত্যাগ করলে অরক্ষিত সেই পথ দিয়ে কুরাইশ সেনাপতি খালিদ বিন ওয়ালিদ পেছন থেকে মুসলিম বাহিনীর ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালান। এই কৌশলী আক্রমণে মুসলিম বাহিনী বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে। যুদ্ধে হযরত হামজা (রা.)-সহ ৭০ জন সাহাবি শহিদ হন এবং মহানবি (সা.) স্বয়ং আহত হয়ে তাঁর একটি দাঁত মোবারক হারান। পরিশেষে বলা যায়, সেনাপতির নির্দেশ অমান্য করা এবং ব্যক্তিগত সুবিধার (গনিমতের মাল) প্রতি আসক্ত হওয়ার কারণেই উহুদ যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর নিশ্চিত বিজয় সাময়িক বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছিল। উদ্দীপকে নবাব বাহিনীর পরাজয়ের চিত্রটিও উহুদ যুদ্ধের এই বিষাদময় ফলাফলেরই একটি নিখুঁত প্রতিচ্ছবি।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenCombined Board (2026)

$১৭৫৭$ সালের ২৩ জুন বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাথে পলাশীর প্রান্তরে ইংরেজ ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানির যুদ্ধ সংঘটিত হয়। যুদ্ধের গতি-প্রকৃতি প্রথমে নবাবের পক্ষেই ছিল। কিন্তু নবাবের সেনাবাহিনীর একজন সুদক্ষ সৈনিক কিছু সংখ্যক সৈন্যসহ যুদ্ধের ময়দান থেকে সরে পড়েন। ফলে নবাবের বাহিনী কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। তারপরও নবাব বাহিনী যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছিলেন। যুদ্ধ বিরতি শুরু হয়। বিরতির পর নবাব বাহিনীর অধিনায়ক দলের প্রত্যেকে যার যার অবস্থানে থেকে সর্বশক্তি দিয়ে যুদ্ধ করে বিজয় ছিনিয়ে আনতে উৎসাহ প্রদান করেন। নবাব বাহিনী যখন বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে তখন কিছু সংখ্যক সৈনিক ব্যক্তিগত সুবিধা ও বিজয়ের আনন্দে যুদ্ধে অমনযোগী হয়ে পড়ে। তাদের এহেন খামখেয়ালীর সুযোগে ইংরেজ বাহিনী কৌশলী আক্রমণের সাহায্যে বিজয় ছিনিয়ে নেয়।

ক.

আনসার কারা?

খ.

'আল-আমিন' উপাধি দেওয়া হয় কাকে এবং কেন?

গ.

যুদ্ধের ময়দান ত্যাগকারী সৈনিকের সাথে উহুদ যুদ্ধের কোন ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

পাঠ্যবইয়ের আলোকে উহুদ যুদ্ধের ফলাফল বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

United Nations General Assembly ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার সনদ ঘোষণা করে। এ সনদের উল্লিখিত ধারাসমূহে বিশ্বের প্রত...

ক. মদিনার পূর্বনাম কী ছিল? খ. মদিনা সনদকে বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধান বলা হয় কেন? গ. উল্লিখিত ছকে মহানবি (স)-এর জীবনের ক...

মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে আল-আমিন বলা হয়, কারণ তিনি-

United Nations General Assembly ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার সনদ ঘোষণা করে। এ সনদে উল্লিখিত ধারাসমূহে বিশ্বের প্রতি...

অটোমান সুলতান বায়েজিদ অঙ্গোরার প্রান্তরে তৈমুর লঙ্গের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মোকাবিলা করেন। যুদ্ধে বায়েজিদ অনেক সৈন্য বিশ্বাস...

অমুসলিমদের থেকে প্রাপ্ত নিরাপত্তা করকে কী বলে

আকাবার প্রথম শপথ কত খ্রিষ্টাব্দে অনুষ্ঠিত হয়?

আকাবার প্রথম শপথে কত জন মদিনাবাসী ছিলেন?

আকাবার শপথ মোট কতবার অনুষ্ঠিত হয়?

আক্কাশ আলী তার এলাকার পথভ্রষ্টকারী মানুষের অত্যাচারের কারণে আপন লোকজন নিয়ে অন্যত্র চলে যায়। বেশ কিছুদিন পরে প্রতিষ্ঠিত...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।