Facebook Pixel

হযরত উমর ফারুক (রা) ছিলেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা। প্রজাবৎসল, জনদরদি এ খলিফা জনগণের অবস্থা স্বয়ং অবগত হওয়ার জন্য রাতের বেলা ছদ্মবেশে মদিনা শহরে ঘুরে বেড়াতেন। জনসাধারণের সার্বিক কল্যাণ ও উন্নতি বিধানে তিনি নিরলস কাজ করেছেন। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ তার অন্যতম অবদান। আমিরুল মুমেনিন হিসেবে তিনি সমধিক পরিচিত। ক. খলিফা আল মনসুর কোথায় রাজধানী স্থানান্তর করেন? খ. আবু মুসলিম ইতিহাসে এত বিখ্যাত কেন? ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকের খলিফার গুণাবলির সাথে আব্বাসি কোন খলিফার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকে প্রকাশিত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ছাড়াও উত্ত, খলিফা নানা গুণের অধিকারী ছিলেন- তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৫ঃ আব্বাসি খিলাফত

উৎস: Board Exam Question SB 2022, Board Exam Question CB 2022, Board Exam Question BB 2022, Board Exam Question MSB 2022

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) খলিফা আল মনসুর দামেস্ক থেকে বাগদাদে রাজধানী স্থানান্তর করেন। (খ) আব্বাসি আন্দোলনকে সফল বিপ্লবে পরিণত করা এবং আব্বাসি খিলাফত প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা রাখায় আবু মুসলিম ইতিহাসে বিখ্যাত। আবু মুসলিমের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে খোরাসান উমাইয়াবিরোধী আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়। তিনি নিজেকে 'আল-হাশিম' বা হাশিমীয়দের রক্ষক হিসেবে ঘোষণা করেন এবং আব্বাসিদের কালো পতাকা উত্তোলন করে খোরাসানের রাজধানী মার্ভ ও ফারগানাসহ সমগ্র খোরাসান দখল করেন। এরপর তিনি উমাইয়া শাসক ২য় ইয়াজিদকে পরাজিত করে ইরাকের রাজধানী কুফা দখল করেন। ৭৪৯ খ্রিষ্টাব্দে তিনি আবুল আব্বাসকে কুফা মসজিদে আহ্বান জানান এবং খলিফা হিসেবে ঘোষণা করেন। তার এই অতুলনীয় সাংগঠনিক দক্ষতার কারণেই আব্বাসিদের সিংহাসন লাভ সম্ভব হয়েছিল। তাই তিনি ইতিহাসে এত বিখ্যাত। (গ) উদ্দীপকের খলিফার গুণাবলির সাথে আব্বাসি খলিফা হারুন-অর-রশীদের সাদৃশ্য রয়েছে। হারুন-অর-রশীদ ছিলেন পঞ্চম আব্বাসি খলিফা। ৭৮৬ খ্রিষ্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করে তিনি নিজেকে একজন অত্যন্ত ক্ষমতাধর ও প্রজাবৎসল শাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। উদ্দীপকে উল্লেখিত খলিফা হযরত উমর (রা)-এর মধ্যেও এই প্রজাবৎসল গুণটি সর্বোত্তমরূপে বিদ্যমান ছিল। খলিফা উমর (রা) এতোটাই জনদরদি ছিলেন যে, জনগণের প্রকৃত অবস্থা জানার জন্য রাতের বেলা ছদ্মবেশে মদিনা শহরে ঘুরে বেড়াতেন এবং জনসাধারণের সার্বিক কল্যাণ ও উন্নতি বিধানে নিরলস কাজ করেছেন। খলিফা হারুন-অর-রশীদের ক্ষেত্রেও একই বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। তিনিও একজন প্রজাবৎসল শাসক ছিলেন এবং প্রজাদের মঙ্গলের জন্য রাতে সাম্রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়াতেন। প্রজাসাধারণের কল্যাণে তিনি নানাবিধ উন্নয়নমূলক কাজ করেন। রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে মসজিদ, মাদ্রাসা, সরাইখানা, রাস্তাঘাট, সেতু, খাল ও হাসপাতাল নির্মাণ করেন। খলিফার স্ত্রী জুবাইদাও এই কাজে উৎসাহী ছিলেন এবং খলিফার তত্ত্বাবধানে ফোরাত থেকে মক্কা পর্যন্ত 'নহর-ই-জুবাইদা' নামে একটি খাল খনন করেন, যা হজ যাত্রীদের পানির কষ্ট দূর করেছিল। এছাড়া খলিফা হারুন-অর-রশীদই জনসাধারণের চিকিৎসার জন্য 'বিমারিস্তান' নির্মাণ করেন এবং সাম্রাজ্যের বহু গরিব-দুঃখীর বৃত্তি মঞ্জুর করেছিলেন। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের খলিফা হযরত উমর (রা)-এর প্রজাদরদি চিন্তা-চেতনারই প্রতিফলন ঘটেছে আব্বাসি খলিফা হারুন-অর-রশীদের কর্মকাণ্ডে। (ঘ) উদ্দীপকে প্রকাশিত প্রজাবৎসল ও জনদরদি বৈশিষ্ট্য ছাড়াও খলিফা হারুন-অর-রশীদ আরও নানা গুণের অধিকারী ছিলেন। শাসক হিসেবে মানুষের মধ্যে যেসব ইতিবাচক বৈশিষ্ট্য থাকা প্রয়োজন, তার বেশির ভাগই খলিফা হারুন-অর-রশীদের মধ্যে ছিল। উদ্দীপকে তার জনদরদি গুণটি তুলে ধরা হলেও, তার চরিত্রে আরও অনেক মহৎ গুণের সমন্বয় ঘটেছিল। প্রথমত, খলিফা হারুন-অর-রশীদ অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ মানুষ ছিলেন। তিনি দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সাথে বহু নফল নামাজ পড়তেন এবং দশবার পবিত্র হজব্রত পালন করেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি দীর্ঘ সময় ধর্মোপদেশ শুনে কাটাতেন। সুফিয়ান সওরী, সুফিয়ান বি-উনায়না, ফুদাইল বিন আয়াজ, ইবনে সামসাক ও আল উমরী প্রমুখ প্রখ্যাত আলেমের সান্নিধ্যে তিনি সময় অতিবাহিত করতেন। দ্বিতীয়ত, তার ন্যায়বিচার ও দানশীলতার খ্যাতি আরব বিশ্বের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছিল। তিনি দৈনিক ১০০০ দিরহাম দান করতেন এবং প্রতিবার হজ পালনের সময় প্রজাসাধারণের মাঝে অকাতরে ধন-সম্পদ বিলিয়ে দিতেন। প্রজাদের কল্যাণে তার স্ত্রী জুবাইদা ৮০২ খ্রিষ্টাব্দে 'নহর-ই-জুবাইদা' খাল খনন করেন। তবে খলিফা হারুন-অর-রশীদের চরিত্রের মধ্যে ভালো-মন্দের মিশ্রণ ছিল। তিনি বিরোধীদের প্রতি কঠোর হলেও প্রজাসাধারণ ও বন্ধুদের কাছে ছিলেন অত্যন্ত সহৃদয়। তবে অন্যের কথায় অতিমাত্রায় কান দেওয়ার কারণে তিনি তার অকৃত্রিম বন্ধু বার্মাকি পরিবারকে নির্মূল করেছিলেন, যা তার চরিত্রের একটি দুর্বল দিক ছিল। সৈয়দ আমীর আলী বলেন, হারুন-অর-রশীদ ছিলেন ধর্মীয় কর্তব্য পালনে নিষ্ঠাবান, জীবনযাপনে মিতব্যয়ী এবং দানশীলতায় উদার, যদিও তিনি রাজকীয় আড়ম্বরে পরিবেষ্টিত থাকতে পছন্দ করতেন। উপরের আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, খলিফা হারুন-অর-রশীদ কেবল প্রজাকল্যাণকামিতা নয়, বরং ধর্মপ্রাণতা, দানশীলতা ও ন্যায়বিচারের মতো আরও অনেক গুণে গুণান্বিত ছিলেন।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenSylhet Board (2022)Cumilla Board (2022)Barisal Board (2022)Mymensingh Board (2022)

হযরত উমর ফারুক (রা) ছিলেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা। প্রজাবৎসল, জনদরদি এ খলিফা জনগণের অবস্থা স্বয়ং অবগত হওয়ার জন্য রাতের বেলা ছদ্মবেশে মদিনা শহরে ঘুরে বেড়াতেন। জনসাধারণের সার্বিক কল্যাণ ও উন্নতি বিধানে তিনি নিরলস কাজ করেছেন। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ তার অন্যতম অবদান। আমিরুল মুমেনিন হিসেবে তিনি সমধিক পরিচিত। ক. খলিফা আল মনসুর কোথায় রাজধানী স্থানান্তর করেন?

খ. আবু মুসলিম ইতিহাসে এত বিখ্যাত কেন? ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকের খলিফার গুণাবলির সাথে আব্বাসি কোন খলিফার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উদ্দীপকে প্রকাশিত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ছাড়াও উত্ত, খলিফা নানা গুণের অধিকারী ছিলেন- তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

অটোমান সুলতান আব্দুল হামিদের ক্ষমতারোহণের পশ্চাতে মুখ্য ভূমিকা রেখেছিলেন সেনাপতি ফুয়াদ পাশা। পরবর্তীতে ফুয়াদ পাশার সাহ...

আবদুর রহমান সিংহাসন আরোহণ করে আমজনতার আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে সচেষ্ট হন। কে, কোথায় অন্নহীন-বস্ত্রহীন হয়ে পড়ে আছে, নিজে গিয়ে ...

আবুল আব্বাসের ‘আল-সাফফাহ' উপাধি গ্রহণ করার কারণ হলো— i. বিরোধীদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার ii. বিরোধীদের অনুগত করা iii বিরোধীদে...

আব্বসি বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা কে?

আব্বাসি বংশের উত্থান ঘটে— i. হাশেমি গোত্র হতে ii. কুরাইশ বংশ হতে iii. উমাইয়া গোত্র হতে নিচের কোনটি সঠিক?

আরবের 'জোয়ান অব আর্ক' উপাধি কার?

আশালতা রাজ্যের রাজা সুমন চৌধুরী সকলের নিকট রূপকথার রাজা বলে পরিচিত। তিনি অন্যায়কারীদের প্রতি যেমন কঠোর, তেমনি গরিব-দুঃখ...

ইতিহাসখ্যাত বাদশা হাসান প্রজাদের জন্য অন্তঃপ্রাণ ছিলেন। তার স্ত্রীও তীর্থযাত্রীদের পানির কষ্ট দূর করার জন্য দূরাঞ্চল হতে...

ইবনে আম্মার খলিফা মুতাসিমের প্রধান উজির ও প্রিয়পাত্র ছিলেন। বন্ধুর মতো তারা একসাথে ঘুরে বেড়াতেন। ইবনে আম্মারের বদান্যতা ...

উসমানীয় সাম্রাজ্যের মহাসংকটকালে কুপ্রিলি পরিবারের অভ্যুদয় ঘটে। এই পরিবার প্রতিভাবান কয়েকজন রাজনীতিবিদের জন্ম দেয়। কুপ্রি...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।