Facebook Pixel

সুলতান শাহরিয়ার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর স্বীয় কর্তৃত্ব সুপ্রতিষ্ঠিত করে পার্শ্ববর্তী রাজাদের বিরুদ্ধে সমর প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। পার্শ্ববর্তী রাজাদের মধ্যে একজন এ আক্রমণ সম্প্রসারণকে তার রাজ্যের প্রতি হুমকিস্বরূপ মনে করেন। সুলতান পার্শ্ববর্তী রাজার বিশাল বাহিনীর নিকট প্রথম যুদ্ধে পরাজিত হলেন। পরের বছর পরাজয়ের গ্লানি মুছে ফেলার উদ্দেশ্যে এবং রাজ্য বিস্তারের আশায় এক বিশাল বাহিনী নিয়ে রণক্ষেত্রে পুনরায় শিবির স্থাপন করেন। প্রতিপক্ষের সৈন্য সংখ্যা অধিক হওয়া সত্ত্বেও অসীম বীরত্ব, উন্নত মানের যুদ্ধ কৌশল এবং সাংগঠনিক ক্ষমতার দ্বারা বিজয়ীর গৌরব অর্জন করেন। ক. মুহাম্মদ ঘুরীর প্রকৃত নাম কী? খ. আলাউদ্দিন হুসাইনকে কেন 'জাহানসুজ' উপাধি দেওয়া হয়? গ. উদ্দীপকের শাসকের সাথে তোমার পঠিত কোন শাসকের সাথে মিল লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উক্ত শাসকের সামরিক সফলতার কারণগুলো উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ভারতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা

উৎস: Board Exam Question MSB 2025, Board Exam Question DiB 2025, Board Exam Question DB 2023

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) মুহাম্মদ ঘুরীর প্রকৃত নাম মুইজউদ্দীন মুহাম্মদ বিন সাম। (খ) ভ্রাতৃহত্যার প্রতিশোধ নিতে আলাউদ্দিন হুসাইনকে 'জাহানসুজ' উপাধি দেওয়া হয়। জাহানসুজ শব্দের অর্থ হলো পৃথিবী ধ্বংসকারী। ১১৫১ খ্রিষ্টাব্দে গজনির শাসক আলাউদ্দিন হুসাইনের দুই ভাইকে হত্যা করলে তিনি প্রতিশোধ গ্রহণের উদ্দেশ্যে গজনী আক্রমণ করেন। গজনী দখল করার পর তিনি প্রতিশোধ হিসেবে টানা ৭ দিন ও ৭ রাত শহরটিতে অগ্নিসংযোগ করে ধ্বংসযজ্ঞ চালান। এই ভয়াবহ ধ্বংসলীলার কারণেই ইতিহাসে তিনি 'জাহানসুজ' নামে পরিচিত হন। (গ) উদ্দীপকের শাসকের সাথে আমার পঠিত শাসক মুহাম্মদ ঘুরীর মিল লক্ষ করা যায়। উদ্দীপকে দেখা যায়, সুলতান শাহরিয়ার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর পার্শ্ববর্তী রাজাদের বিরুদ্ধে সমর প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। তিনি প্রথম যুদ্ধে পরাজিত হলেও পরের বছর পরাজয়ের গ্লানি মুছে ফেলার উদ্দেশ্যে এবং রাজ্য বিস্তারের আশায় পুনরায় আক্রমণ করে বিজয়ী হন। উদ্দীপকের এই ঘটনার সাথে মুহাম্মদ ঘুরীর ভারত অভিযান ও তরাইনের প্রথম যুদ্ধে পরাজয় এবং পরবর্তীতে তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে বিজয় অর্জনের ঘটনার গভীর সাদৃশ্য রয়েছে। মুহাম্মদ ঘুরী ১১৯১ খ্রিষ্টাব্দে সিন্ধু, গুজরাট ও পাঞ্জাব অধিকার করে দিল্লি দখলের জন্য অগ্রসর হন। এই সংবাদে চৌহান বংশের রাজা পৃথ্বিরাজ উত্তর ভারতের হিন্দু রাজাদের সমন্বয়ে একটি ঐক্যজোট গঠন করেন এবং তরাইনের রণক্ষেত্রে মুহাম্মদ ঘুরীর মোকাবিলা করেন। এই যুদ্ধ তরাইনের প্রথম যুদ্ধ নামে পরিচিত, যেখানে মুহাম্মদ ঘুরী পরাজিত ও আহত হয়ে পালিয়ে যান। তবে তিনি দমে যাননি। পরাজয়ের গ্লানি মোচনের জন্য ১১৯২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ১ লক্ষ ২০ হাজার সৈন্যের এক বিশাল বাহিনী নিয়ে পুনরায় আক্রমণ করেন। বিপরীতে রাজা পৃথ্বিরাজ ৩ লক্ষ সৈন্যের এক বিশাল বাহিনী গঠন করলেও মুহাম্মদ ঘুরীর উন্নত রণকৌশল ও সাংগঠনিক ক্ষমতার কাছে পরাজিত হন। সুতরাং, উদ্দীপকের শাসকের সাথে পঠিত শাসক মুহাম্মদ ঘুরীর মিল লক্ষ করা যায়। (ঘ) উক্ত শাসক তথা মুহাম্মদ ঘুরীর সামরিক সফলতার কারণগুলো উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, তার অদম্য সাহস, উন্নত রণকৌশল এবং শত্রুপক্ষের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা বিজয়ের মূল চাবিকাঠি ছিল। উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রতিপক্ষের সৈন্য সংখ্যা অধিক হওয়া সত্ত্বেও উন্নত যুদ্ধ কৌশল এবং সাংগঠনিক ক্ষমতার দ্বারা তিনি বিজয় অর্জন করেন। মুহাম্মদ ঘুরীর এই সফলতার প্রধান কারণগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো: প্রথমত, রাজনৈতিক অনৈক্য: মুহাম্মদ ঘুরীর আক্রমণের সময় ভারতের রাজনৈতিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত বিশৃঙ্খল। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যগুলোর মধ্যে চরম দ্বন্দ্ব ও কলহ বিরাজমান ছিল। এই রাজনৈতিক অনৈক্যের সুযোগ নিয়ে মুসলিম বাহিনী সহজেই সফল হয়। দ্বিতীয়ত, উন্নত যুদ্ধকৌশল ও শৃঙ্খলা: মুসলিম বাহিনীর সেনাবাহিনী ছিল সুশৃঙ্খল এবং রণকৌশলে দক্ষ। অন্যদিকে, হিন্দুদের সনাতন যুদ্ধনীতি ছিল সেকেলে এবং রণকৌশল ছিল অনুন্নত, যা তাদের পরাজয়ের দিকে ঠেলে দেয়। উদ্দীপকের "উন্নত মানের যুদ্ধ কৌশল" কথাটি এখানে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। তৃতীয়ত, সামাজিক সংহতি: হিন্দুদের মধ্যে জাতি ও বর্ণভেদ প্রথা চরম বৈষম্য তৈরি করেছিল, যা তাদের সংহতি নষ্ট করে। বিপরীতে, মুসলমানদের মধ্যে সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ তাদের সংঘবদ্ধ আক্রমণে অনুপ্রাণিত করেছিল। চতুর্থত, সুদক্ষ সেনাপতির ভূমিকা: মুহাম্মদ ঘুরীর অধীনে কুতুবউদ্দিন আইবেক এবং বখতিয়ার খলজির মতো বিচক্ষণ ও দক্ষ সেনাপতি ছিলেন, যারা যুদ্ধের ময়দানে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বিজয় ত্বরান্বিত করেছিলেন। পঞ্চমত, অর্থনৈতিক প্রেষণা: ভারতের অফুরন্ত ধনসম্পদ লাভের আকাঙ্ক্ষা মুসলিম সৈন্যদের প্রবলভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। পরিশেষে বলা যায়, ভারতীয় রাজ্যবর্গের অনৈক্য, সামরিক দক্ষতার অভাব এবং রণকৌশলের দুর্বলতার বিপরীতে মুহাম্মদ ঘুরীর উন্নত সাংগঠনিক ক্ষমতা ও রণকৌশল তাকে চূড়ান্ত বিজয় এনে দিয়েছিল, যা উদ্দীপকের ঘটনার সাথে সম্পূর্ণ সংগতিপূর্ণ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenMymensingh Board (2025)Dinajpur Board (2025)Dhaka Board (2023)

সুলতান শাহরিয়ার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর স্বীয় কর্তৃত্ব সুপ্রতিষ্ঠিত করে পার্শ্ববর্তী রাজাদের বিরুদ্ধে সমর প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। পার্শ্ববর্তী রাজাদের মধ্যে একজন এ আক্রমণ সম্প্রসারণকে তার রাজ্যের প্রতি হুমকিস্বরূপ মনে করেন। সুলতান পার্শ্ববর্তী রাজার বিশাল বাহিনীর নিকট প্রথম যুদ্ধে পরাজিত হলেন। পরের বছর পরাজয়ের গ্লানি মুছে ফেলার উদ্দেশ্যে এবং রাজ্য বিস্তারের আশায় এক বিশাল বাহিনী নিয়ে রণক্ষেত্রে পুনরায় শিবির স্থাপন করেন। প্রতিপক্ষের সৈন্য সংখ্যা অধিক হওয়া সত্ত্বেও অসীম বীরত্ব, উন্নত মানের যুদ্ধ কৌশল এবং সাংগঠনিক ক্ষমতার দ্বারা বিজয়ীর গৌরব অর্জন করেন। ক. মুহাম্মদ ঘুরীর প্রকৃত নাম কী? খ. আলাউদ্দিন হুসাইনকে কেন 'জাহানসুজ' উপাধি দেওয়া হয়? গ. উদ্দীপকের শাসকের সাথে তোমার পঠিত কোন শাসকের সাথে মিল লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উক্ত শাসকের সামরিক সফলতার কারণগুলো উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

অটোমান সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সুলতান উসমানের নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এশিয়া মাইনরে বিদ...

অটোমান সিংহাসনে আরোহণ করে সুলতান সুলেমান সুসজ্জিত সামরিক বাহিনী গঠন করেন। তিনি সাম্রাজ্যের সমৃদ্ধি ও সীমান্ত অঞ্চলের নির...

অটোমান সুলতান অরখান জেনিসারি বাহিনী গঠন করে বিভিন্ন রাজ্যে অভিযান পরিচালনা করেন। এসব রাজ্য থেকে অর্থ-সম্পদ লুণ্ঠন করে তি...

অটোমান সুলতান দ্বিতীয় মুরাদ ইউরোপীয় রাষ্ট্রবর্গের সম্মিলিত শক্তির নেতৃত্বদানকারী হাঙ্গেরির বিখ্যাত সেনাপতি হুনিয়াদির কাছ...

আফ্রিকার একটি উপজাতি সূর্য দেবতার মন্দিরকে সবচেয়ে নিরাপদ ও শক্তির আধার মনে করে তাদের সকল ধন-সম্পদ যেখানে গচ্ছিত রাখে। তা...

আরব কর্তৃক সিন্ধু বিজিত হয় কত খ্রিষ্টাব্দে?

আরবদের সিন্ধু আক্রমণের পরোক্ষ কারণ ছিল- i. দেবল বন্দরে জলদস্যুদের জাহাজ লুণ্ঠন ii. সীমান্তের নিরাপত্তা বিধান iii. পারস্য...

'আরবদের সিন্ধু বিজয় একটি নিষ্ফল উপাখ্যান'- উক্তিটি কার?

আলাউদ্দিন হোসেনকে 'জাহানসুজ' বলার কারণ- i. গজনি অধিকার ii. হিরাত অধিকার iii. উক্ত নগরী ধ্বংস সাধন নিচের কোনটি সঠিক?

আহমদ শাহ ১৭৪৮ খ্রিষ্টাব্দে সিরহিন্দ আক্রমণ করেন। কিন্তু সিরহিন্দের শাসক মইন-উল-মুলক মানপুরের প্রথম যুদ্ধে তাকে পরাজিত কর...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।