Facebook Pixel

অটোমান সুলতান দ্বিতীয় মুরাদ ইউরোপীয় রাষ্ট্রবর্গের সম্মিলিত শক্তির নেতৃত্বদানকারী হাঙ্গেরির বিখ্যাত সেনাপতি হুনিয়াদির কাছে যুদ্ধে হেরে যান এবং সন্ধি করতে বাধ্য হন। পরে ইউরোপীয় শক্তিবর্গ সন্ধি ভঙ্গ করেন এবং ভার্না নগরী অবরোধ করেন। সুলতান মুরাদ হুনিয়াদিকে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়ার জন্য চল্লিশ হাজার সৈন্য নিয়ে ভার্নায় উপস্থিত হন। ১৪৪৪ খ্রিষ্টাব্দে উভয় বাহিনীর মধ্যে তুমুল যুদ্ধ সংঘটিত হয়। হুনিয়াদি পরাস্ত হন এবং হাঙ্গেরির রাজা নিহত হন। এভাবে সুলতান মুরাদ প্রথম যুদ্ধে হুনিয়াদির কাছে হেরে যাওয়ার প্রতিশোধ নিলেন। ফলে উত্তর ইউরোপীয় অটোমান অংশ আশঙ্কামুক্ত হলো। ক. পৃথ্বিরাজ কোন বংশের রাজা ছিলেন? খ. রাজা পৃথ্বিরাজের সাথে রাজা জয়চাঁদের দ্বন্দ্বের কারণ ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ভার্নার যুদ্ধের সাথে মুহাম্মদ ঘুরি পরিচালিত কোন যুদ্ধের মিল খুঁজে পাও? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকের যুদ্ধের ফলাফলের সাথে মুহাম্মদ ঘুরির উক্ত যুদ্ধের ফলাফলের পার্থক্য ছিল- উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ভারতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) পৃথ্বিরাজ চৌহান বংশের রাজা ছিলেন। (খ) রাজা জয়চাঁদের সাথে পৃথ্বিরাজের দ্বন্দ্বের মূল কারণ ছিল রাজকন্যা সংযুক্তার বিবাহ এবং পারস্পরিক রাজনৈতিক অপ্রতিযোগিতা। চৌহান বংশের রাজপুত রাজা পৃথ্বিরাজ দিল্লি ও আজমিরের শাসক ছিলেন এবং কনৌজের রাজা ছিলেন জয়চাঁদ। জয়চাঁদের কন্যা সংযুক্তার রূপ ও লাবণ্যে মুগ্ধ হয়ে পৃথ্বিরাজ তার প্রেমে পড়েন এবং সংযুক্তাও পৃথ্বিরাজের বীরত্বের কথা শুনে তাকে ভালোবাসতেন। কিন্তু রাজা জয়চাঁদ এই সম্পর্ক মেনে নিতে রাজি ছিলেন না। তিনি পৃথ্বিরাজকে অপমান করার উদ্দেশ্যে রাজকন্যার এক বিশাল স্বয়ংবর সভার আয়োজন করেন। এই সভার আগে তিনি একটি রাজকীয় যজ্ঞের আয়োজন করেছিলেন। সেই যজ্ঞস্থল থেকে পৃথ্বিরাজ অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে সংযুক্তাকে নিয়ে চলে যান। এই ঘটনার ফলে রাজা জয়চাঁদের সাথে পৃথ্বিরাজের চরম দ্বন্দ্ব ও শত্রুতা তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে তাদের মধ্যে যুদ্ধের পথ প্রশস্ত করে। (গ) উদ্দীপকে বর্ণিত ভার্নার যুদ্ধের সাথে মুহাম্মদ ঘুরি পরিচালিত তরাইনের প্রথম ও দ্বিতীয় যুদ্ধের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। মুহাম্মদ ঘুরির মূল লক্ষ্য ছিল ভারতে একটি স্থায়ী মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করা। এই লক্ষ্যে তিনি সুপরিকল্পিতভাবে অভিযান পরিচালনা করেন, যার মধ্যে তরাইনের দুটি যুদ্ধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তরাইনের প্রথম যুদ্ধে পরাজয়ের প্রতিশোধ হিসেবে তিনি দ্বিতীয় যুদ্ধটি পরিচালনা করেন। উদ্দীপকের ভার্নার যুদ্ধের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখা যায়। উদ্দীপক অনুযায়ী, অটোমান সুলতান দ্বিতীয় মুরাদ ইউরোপীয় রাষ্ট্রবর্গের সম্মিলিত শক্তির নেতৃত্বদানকারী হাঙ্গেরির সেনাপতি হুনিয়াদির কাছে যুদ্ধে হেরে যান। পরবর্তীতে সুলতান মুরাদ হুনিয়াদির উপযুক্ত শাস্তি দেওয়ার জন্য পুনরায় চল্লিশ হাজার সৈন্য নিয়ে ভার্নায় উপস্থিত হন এবং যুদ্ধে জয়ী হয়ে প্রতিশোধ গ্রহণ করেন। একইভাবে, ১১৯১ খ্রিষ্টাব্দে তরাইনের প্রথম যুদ্ধে পৃথ্বিরাজের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত রাজপুত বাহিনীর কাছে মুহাম্মদ ঘুরি শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন এবং আহত অবস্থায় পালিয়ে যান। এই পরাজয়ের গ্লানি তাকে প্রতিশোধ স্পৃহায় উদ্দীপ্ত করে তোলে। ফলে ১১৯২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ১,২০,০০০ সৈন্যের এক বিশাল বাহিনী নিয়ে পুনরায় তরাইনে আক্রমণ করেন। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা সত্ত্বেও পৃথ্বিরাজের রাজপুত বাহিনী ঘুরির উন্নত রণকৌশলের কাছে পরাজিত হয় এবং রাজা পৃথ্বিরাজ নিহত হন। সুতরাং, প্রথম যুদ্ধে পরাজয় এবং পরবর্তীতে সুপ্রস্তুতির মাধ্যমে দ্বিতীয় যুদ্ধে জয়লাভ ও প্রতিশোধ গ্রহণের দিক থেকে উদ্দীপকের ভার্নার যুদ্ধের সাথে মুহাম্মদ ঘুরির তরাইনের যুদ্ধের গভীর মিল রয়েছে। (ঘ) উদ্দীপকের যুদ্ধের ফলাফলের সাথে মুহাম্মদ ঘুরির তরাইনের যুদ্ধের ফলাফলের পার্থক্য ছিল, উক্তিটি যথার্থ। ভার্নার যুদ্ধ এবং তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ উভয়ই বিজয়ী পক্ষকে বড় সাফল্য এনে দিলেও তাদের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ও ফলাফলের মাত্রায় ব্যাপক পার্থক্য ছিল। উদ্দীপকের সুলতান দ্বিতীয় মুরাদের পরিচালিত ভার্নার যুদ্ধে জয়ের ফলে মূলত উত্তর ইউরোপীয় অটোমান অংশ আশঙ্কামুক্ত হয় এবং ইউরোপীয় শক্তির হুমকি সাময়িকভাবে প্রশমিত হয়। এটি ছিল একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং প্রতিশোধ গ্রহণের যুদ্ধ। অন্যদিকে, তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ ছিল ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক যুগান্তকারী ঘটনা। এই যুদ্ধের বিজয়ের মাধ্যমে মুহাম্মদ ঘুরি ভারতে স্থায়ী মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুনিশ্চিত করেন। ভিনসেন্ট স্মিথের মতে, ১১৯২ খ্রিষ্টাব্দের এই যুদ্ধটি ছিল চূড়ান্ত সংঘর্ষ, যা হিন্দুস্থানের ওপর মুসলিম আধিপত্যের চরম সাফল্যের সূচনা করে। এ.বি.এম. হবিবুল্লাহর মতে, এই বিজয় কোনো দৈব ঘটনা ছিল না, বরং এটি ছিল একজন দৃঢ়সংকল্প বিজেতার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বাস্তবায়নের ফল। এই যুদ্ধের ফলে রাজপুতদের রাজনৈতিক শক্তি খর্ব হয় এবং তারা মুসলমানদের প্রতিরোধ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এর ফলে উত্তর ভারতের দিল্লি পর্যন্ত সব শহরের তোরণ ঘুরির জন্য উন্মোচিত হয় এবং তিনি অনায়াসে সামানা, সিরসুত, কুহরাম ও হান্সি দখল করেন। পরিশেষে বলা যায়, ভার্নার যুদ্ধের জয় সুলতান দ্বিতীয় মুরাদের জন্য যতটা সুফল বয়ে এনেছিল, তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ জয় মুহাম্মদ ঘুরির জন্য তার চেয়ে বহুগুণ বেশি প্রভাব বিস্তার করেছিল। একটি যুদ্ধ ছিল আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষার লড়াই, আর অন্যটি ছিল একটি সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার ভিত্তি। তাই উভয় যুদ্ধের ফলাফলের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

অটোমান সুলতান দ্বিতীয় মুরাদ ইউরোপীয় রাষ্ট্রবর্গের সম্মিলিত শক্তির নেতৃত্বদানকারী হাঙ্গেরির বিখ্যাত সেনাপতি হুনিয়াদির কাছে যুদ্ধে হেরে যান এবং সন্ধি করতে বাধ্য হন। পরে ইউরোপীয় শক্তিবর্গ সন্ধি ভঙ্গ করেন এবং ভার্না নগরী অবরোধ করেন। সুলতান মুরাদ হুনিয়াদিকে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়ার জন্য চল্লিশ হাজার সৈন্য নিয়ে ভার্নায় উপস্থিত হন। ১৪৪৪ খ্রিষ্টাব্দে উভয় বাহিনীর মধ্যে তুমুল যুদ্ধ সংঘটিত হয়। হুনিয়াদি পরাস্ত হন এবং হাঙ্গেরির রাজা নিহত হন। এভাবে সুলতান মুরাদ প্রথম যুদ্ধে হুনিয়াদির কাছে হেরে যাওয়ার প্রতিশোধ নিলেন। ফলে উত্তর ইউরোপীয় অটোমান অংশ আশঙ্কামুক্ত হলো।

ক. পৃথ্বিরাজ কোন বংশের রাজা ছিলেন?

খ. রাজা পৃথ্বিরাজের সাথে রাজা জয়চাঁদের দ্বন্দ্বের কারণ ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ভার্নার যুদ্ধের সাথে মুহাম্মদ ঘুরি পরিচালিত কোন যুদ্ধের মিল খুঁজে পাও? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উদ্দীপকের যুদ্ধের ফলাফলের সাথে মুহাম্মদ ঘুরির উক্ত যুদ্ধের ফলাফলের পার্থক্য ছিল- উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

অটোমান সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সুলতান উসমানের নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এশিয়া মাইনরে বিদ...

অটোমান সিংহাসনে আরোহণ করে সুলতান সুলেমান সুসজ্জিত সামরিক বাহিনী গঠন করেন। তিনি সাম্রাজ্যের সমৃদ্ধি ও সীমান্ত অঞ্চলের নির...

অটোমান সুলতান অরখান জেনিসারি বাহিনী গঠন করে বিভিন্ন রাজ্যে অভিযান পরিচালনা করেন। এসব রাজ্য থেকে অর্থ-সম্পদ লুণ্ঠন করে তি...

আফ্রিকার একটি উপজাতি সূর্য দেবতার মন্দিরকে সবচেয়ে নিরাপদ ও শক্তির আধার মনে করে তাদের সকল ধন-সম্পদ যেখানে গচ্ছিত রাখে। তা...

আরব কর্তৃক সিন্ধু বিজিত হয় কত খ্রিষ্টাব্দে?

আরবদের সিন্ধু আক্রমণের পরোক্ষ কারণ ছিল- i. দেবল বন্দরে জলদস্যুদের জাহাজ লুণ্ঠন ii. সীমান্তের নিরাপত্তা বিধান iii. পারস্য...

'আরবদের সিন্ধু বিজয় একটি নিষ্ফল উপাখ্যান'- উক্তিটি কার?

আলাউদ্দিন হোসেনকে 'জাহানসুজ' বলার কারণ- i. গজনি অধিকার ii. হিরাত অধিকার iii. উক্ত নগরী ধ্বংস সাধন নিচের কোনটি সঠিক?

আহমদ শাহ ১৭৪৮ খ্রিষ্টাব্দে সিরহিন্দ আক্রমণ করেন। কিন্তু সিরহিন্দের শাসক মইন-উল-মুলক মানপুরের প্রথম যুদ্ধে তাকে পরাজিত কর...

আহমদ শাহ ১৭৪৮ খ্রিষ্টাব্দে সিরহিন্দ আক্রমণ করেন। কিন্তু সিরহিন্দের শাসক মইন-উল-মূলক মানপুরের প্রথম যুদ্ধে তাকে পরাজিত কর...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।