Facebook Pixel

অটোমান সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সুলতান উসমানের নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এশিয়া মাইনরে বিদ্রোহ দমনের পর তিনি একে একে সমগ্র উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল জয় করেন। এরপর তিনি নাইসিয়া, ব্রুসা, কারাসাই, পেরগোমস প্রভৃতি বিজয় করেন। আর ১৩৩৭ খ্রিষ্টাব্দে তিনি নিকোমেডিয়ার প্রথম যুদ্ধে সাময়িক পরাজিত হলেও ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দে তিনি নিকোমেডিয়ার দ্বিতীয় যুদ্ধে বিজয় অর্জন করে সমগ্র এশিয়া মাইনরে তুর্কি কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। এভাবে উন্নত সামরিক কৌশল, শত্রুপক্ষের বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা প্রভৃতিই এশিয়া মাইনরে সুলতান উসমানকে স্থায়ীভাবে তুর্কি সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করেছিল। ক. মুহাম্মদ ঘুরির প্রকৃত নাম কী? খ. তরাইনের প্রথম যুদ্ধ কাদের মধ্যে সংঘটিত হয়? ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকের শাসকের সাথে তোমার পঠিত কোন শাসকের সাথে মিল লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উক্ত শাসকের সামরিক সফলতার কারণগুলো উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ভারতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা

উৎস: Board Exam Question DB 2023, Board Exam Question BB 2023, Board Exam Question JB 2023, Board Exam Question SB 2023, Board Exam Question CB 2023, Board Exam Question DiB 2023, Board Exam Question RB 2023

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) মুহাম্মদ ঘুরির প্রকৃত নাম মুইজউদ্দিন মুহাম্মদ বিন সাম। (খ) তরাইনের প্রথম যুদ্ধ চৌহান রাজা পৃথ্বিরাজ ও সম্মিলিত রাজপুত বাহিনী এবং মুহাম্মদ ঘুরির বাহিনীর মধ্যে সংঘটিত হয়। ১১৯১ খ্রিষ্টাব্দে ভারতের থানেশ্বরের কাছাকাছি তরাইন নামক স্থানে এই যুদ্ধ হয়। পাঞ্জাব অধিকার করার পর ভারতে স্থায়ী কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মুহাম্মদ ঘুরি দিল্লি ও আজমিরের রাজপুত চৌহান বংশের রাজা পৃথ্বিরাজের মুখোমুখি হন। এই যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয় এবং মুহাম্মদ ঘুরি আহত হয়ে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করেন। (গ) উদ্দীপকের শাসকের সাথে আমার পঠিত মুইজউদ্দিন মুহাম্মদ ঘুরির মিল লক্ষ করা যায়। মুহাম্মদ ঘুরি ছিলেন একজন অনন্যসাধারণ সমরপ্রতিভাধর ও ক্ষমতাবান শাসক, যিনি ভারতবর্ষে সর্বপ্রথম স্থায়ী মুসলিম কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। উদ্দীপকের সুলতান উসমানের সাথে তার এই সাফল্যের পথটি সাদৃশ্যপূর্ণ। উদ্দীপকে দেখা যায়, সুলতান উসমান নিকোমেডিয়ার প্রথম যুদ্ধে সাময়িক পরাজিত হলেও ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দে নিকোমেডিয়ার দ্বিতীয় যুদ্ধে বিজয় অর্জন করেন এবং এশিয়া মাইনরে তুর্কি কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। একইভাবে, মুহাম্মদ ঘুরি ১১৯১ খ্রিষ্টাব্দে তরাইনের প্রথম যুদ্ধে রাজা পৃথ্বিরাজের কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন। কিন্তু এই পরাজয় তাকে দমাতে পারেনি, বরং প্রতিশোধ স্পৃহায় উদ্দীপ্ত করে তোলে। ফলে ১১৯২ খ্রিষ্টাব্দে তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে তিনি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে আক্রমণ চালিয়ে রাজপুত বাহিনীকে পরাজিত করেন এবং ভারতে স্থায়ী মুসলিম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার কৃতিত্ব অর্জন করেন। সুতরাং, পরাজয়ের পর পুনরায় লড়াই করে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন এবং সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার দিক থেকে সুলতান উসমানের সাথে মুহাম্মদ ঘুরির মিল লক্ষ করা যায়। (ঘ) উদ্দীপকে বর্ণিত সুলতান উসমানের সফলতার মতো মুহাম্মদ ঘুরির সামরিক সফলতার পেছনেও নানাবিধ গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল। প্রথমত, উন্নত সামরিক সংগঠন ও শৃঙ্খলা: মুহাম্মদ ঘুরির বাহিনীর উন্নত সামরিক সংগঠন, আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র এবং ক্ষিপ্রগতিসম্পন্ন অশ্বারোহী বাহিনী তার সাফল্যের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল। অন্যদিকে, রাজপুতদের মন্থরগতির হস্তিবাহিনী তুর্কি অশ্বারোহী বাহিনীর মোকাবিলায় অকার্যকর প্রমাণিত হয়। দ্বিতীয়ত, ধর্মীয় প্রেরণা: মুসলিম যোদ্ধারা ইসলামের সাম্য, মৈত্রী ও ভ্রাতৃত্বের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে যুদ্ধ করেছিলেন। তাদের কাছে এই যুদ্ধ ছিল ধর্মযুদ্ধস্বরূপ, যেখানে বিজয়ী হলে গাজির মর্যাদা এবং পরাজিত হলে শহিদ হয়ে পরকালীন মুক্তির আশা তাদের বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। তৃতীয়ত, শত্রুপক্ষের দুর্বলতা ও বিশৃঙ্খলা: উদ্দীপকে বলা হয়েছে, শত্রুপক্ষের বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা সুলতান উসমানকে সাহায্য করেছিল। একইভাবে, রাজপুতদের মধ্যে একক নেতৃত্বের অভাব, ত্রুটিপূর্ণ সামরিক সংগঠন এবং সনাতন যুদ্ধরীতি তাদের ব্যর্থতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। চতুর্থত, দক্ষ ক্রীতদাস সেনাপতি: কুতুবউদ্দিন আইবেক এবং বখতিয়ার খলজির মতো দক্ষ ক্রীতদাস সেনাপতিদের রণকৌশল ও বীরত্ব মুসলমানদের বিজয় ত্বরান্বিত করেছিল। পঞ্চমত, অর্থনৈতিক আকর্ষণ: ধনৈশ্বর্যে পরিপূর্ণ ভারতে প্রতিটি অভিযানে বিপুল গনিমত পাওয়ার প্রলোভন তুর্কি বাহিনীকে আরও উৎসাহিত করেছিল। পরিশেষে বলা যায়, উন্নত রণকৌশল, ধর্মীয় উদ্দীপনা এবং প্রতিপক্ষের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার সমন্বয়ে মুহাম্মদ ঘুরি সামরিক ক্ষেত্রে অভাবনীয় সফলতা অর্জন করেন, যা উদ্দীপকের সুলতান উসমানের সফলতার কারণগুলোর সাথে সংগতিপূর্ণ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenDhaka Board (2023)Barisal Board (2023)Jessore Board (2023)Sylhet Board (2023)Cumilla Board (2023)Dinajpur Board (2023)Rajshahi Board (2023)

অটোমান সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সুলতান উসমানের নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এশিয়া মাইনরে বিদ্রোহ দমনের পর তিনি একে একে সমগ্র উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল জয় করেন। এরপর তিনি নাইসিয়া, ব্রুসা, কারাসাই, পেরগোমস প্রভৃতি বিজয় করেন। আর ১৩৩৭ খ্রিষ্টাব্দে তিনি নিকোমেডিয়ার প্রথম যুদ্ধে সাময়িক পরাজিত হলেও ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দে তিনি নিকোমেডিয়ার দ্বিতীয় যুদ্ধে বিজয় অর্জন করে সমগ্র এশিয়া মাইনরে তুর্কি কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। এভাবে উন্নত সামরিক কৌশল, শত্রুপক্ষের বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা প্রভৃতিই এশিয়া মাইনরে সুলতান উসমানকে স্থায়ীভাবে তুর্কি সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করেছিল।

ক. মুহাম্মদ ঘুরির প্রকৃত নাম কী?

খ. তরাইনের প্রথম যুদ্ধ কাদের মধ্যে সংঘটিত হয়? ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকের শাসকের সাথে তোমার পঠিত কোন শাসকের সাথে মিল লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উক্ত শাসকের সামরিক সফলতার কারণগুলো উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

অটোমান সিংহাসনে আরোহণ করে সুলতান সুলেমান সুসজ্জিত সামরিক বাহিনী গঠন করেন। তিনি সাম্রাজ্যের সমৃদ্ধি ও সীমান্ত অঞ্চলের নির...

অটোমান সুলতান অরখান জেনিসারি বাহিনী গঠন করে বিভিন্ন রাজ্যে অভিযান পরিচালনা করেন। এসব রাজ্য থেকে অর্থ-সম্পদ লুণ্ঠন করে তি...

অটোমান সুলতান দ্বিতীয় মুরাদ ইউরোপীয় রাষ্ট্রবর্গের সম্মিলিত শক্তির নেতৃত্বদানকারী হাঙ্গেরির বিখ্যাত সেনাপতি হুনিয়াদির কাছ...

আফ্রিকার একটি উপজাতি সূর্য দেবতার মন্দিরকে সবচেয়ে নিরাপদ ও শক্তির আধার মনে করে তাদের সকল ধন-সম্পদ যেখানে গচ্ছিত রাখে। তা...

আরব কর্তৃক সিন্ধু বিজিত হয় কত খ্রিষ্টাব্দে?

আরবদের সিন্ধু আক্রমণের পরোক্ষ কারণ ছিল- i. দেবল বন্দরে জলদস্যুদের জাহাজ লুণ্ঠন ii. সীমান্তের নিরাপত্তা বিধান iii. পারস্য...

'আরবদের সিন্ধু বিজয় একটি নিষ্ফল উপাখ্যান'- উক্তিটি কার?

আলাউদ্দিন হোসেনকে 'জাহানসুজ' বলার কারণ- i. গজনি অধিকার ii. হিরাত অধিকার iii. উক্ত নগরী ধ্বংস সাধন নিচের কোনটি সঠিক?

আহমদ শাহ ১৭৪৮ খ্রিষ্টাব্দে সিরহিন্দ আক্রমণ করেন। কিন্তু সিরহিন্দের শাসক মইন-উল-মুলক মানপুরের প্রথম যুদ্ধে তাকে পরাজিত কর...

আহমদ শাহ ১৭৪৮ খ্রিষ্টাব্দে সিরহিন্দ আক্রমণ করেন। কিন্তু সিরহিন্দের শাসক মইন-উল-মূলক মানপুরের প্রথম যুদ্ধে তাকে পরাজিত কর...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।