Facebook Pixel

অটোমান সুলতান অরখান জেনিসারি বাহিনী গঠন করে বিভিন্ন রাজ্যে অভিযান পরিচালনা করেন। এসব রাজ্য থেকে অর্থ-সম্পদ লুণ্ঠন করে তিনি নিজ দেশের উন্নয়ন ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেন। তিনি একটি দ্বীপের সুসজ্জিত ও সুরক্ষিত উপাসনালয়ে সংরক্ষিত মূল্যবান অর্থ-সম্পদের সন্ধান পেয়ে সেটি আক্রমণ ও লুণ্ঠন করেন। স্থানীয় অধিবাসীরা প্রাণপণ চেষ্টা করেও উপাসনালয়টিকে লুণ্ঠনের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেননি। তবে তিনি জ্ঞানবিজ্ঞান ও স্থাপত্য শিল্পের একজন উদার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। ক. 'শাহনামা' মহাকাব্যের রচয়িতা কে ছিলেন? খ. আল বিরুনির পরিচয় দাও। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত উপাসনালয়টি আক্রমণের সাথে সুলতান মাহমুদের কোন অভিযানের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকের সুলতানের মতো তোমার পঠিত সুলতান মাহমুদও একই উদ্দেশ্যে সম্পদ সংগ্রহ করেন- উক্তিটি মূল্যায়ন করো।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ভারতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) 'শাহনামা' মহাকাব্যের রচয়িতা ছিলেন মহাকবি আবুল কাসেম ফেরদৌসি। (খ) আবু রায়হান আল বিরুনি ছিলেন মধ্যযুগের বিখ্যাত মুসলিম শিক্ষাবিদ ও গবেষক। আল বিরুনি ৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে মধ্য এশিয়ার খাওয়ারিজমে (আফগানিস্তান) জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। দর্শন, ভূগোল, ইতিহাস, জ্যোতিষশাস্ত্রে তিনি বিশেষ ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। তার বিখ্যাত গ্রন্থ 'কিতাবুল হিন্দ'। আল বিরুনি সুলতান মাহমুদের দরবারের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মনীষী ছিলেন। তিনি ১০৪৮ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন। (গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত উপাসনালয় আক্রমণের সাথে সুলতান মাহমুদের সোমনাথ মন্দির অভিযানের সাদৃশ্য রয়েছে। সুলতান মাহমুদ ছিলেন সাহসী ও সমরপ্রিয় বীর। ১০০০ থেকে ১০২৬ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে তিনি মোট ১৭ বার ভারত আক্রমণ করেন। কোনো কোনো ঐতিহাসিক তার এই অভিযানের কারণ হিসেবে সম্পদের প্রতি মোহকে দায়ী করেন। সুলতান মাহমুদের ষোলোতম অভিযান তথা সোমনাথ মন্দির আক্রমণ এবং সেখান থেকে প্রচুর ধন-সম্পদ লুণ্ঠনই এই বিষয়টিকে প্রমাণ করে। আর উদ্দীপকেও এরূপ ঘটনা লক্ষ করা যায়। উদ্দীপকে দেখা যায়, জেনিসারি বাহিনী একটি মন্দির আক্রমণ ও লুট করে। মন্দিরটি মূল্যবান সম্পদে পরিপূর্ণ ছিল। গুজরাটের চালুক্য রাজ্যের কাথিওয়াড়ের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত সোমনাথ মন্দিরও ছিল উদ্দীপকের মন্দিরের মতো প্রচুর ধনরত্ন আর মূর্তি-বিগ্রহাদিতে পরিপূর্ণ। ঐতিহাসিক বিবরণ মতে, এই মন্দির বিজয় সুলতান মাহমুদের সাধ্যের বাইরে ছিল বলে পুরোহিতরা মনে করতেন। কিন্তু ১০২৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি সোমনাথ মন্দিরে অভিযান পরিচালনা করেন। মন্দিরের পুরোহিত ও স্থানীয় অধিবাসীরা প্রাণপণ চেষ্টা করেও তার আক্রমণ থেকে এই মন্দিরকে রক্ষা করতে পারেননি। এই মন্দির থেকে মাহমুদ দু'কোটিরও বেশি স্বর্ণমুদ্রা ও বিগ্রহাদি এবং দু'শ মণ অলংকার ও মণিমুক্তা নিয়ে স্বদেশে ফিরে যান। একইভাবে অটোমান সুলতান অরখানও তার বাহিনী নিয়ে একটি দ্বীপের সুসজ্জিত ও সুরক্ষিত উপাসনালয়টি আক্রমণ করে। স্থানীয় অধিবাসীদের বাধা উপেক্ষা করে তারা উপাসনালয়টি লুণ্ঠন করে মূল্যবান অর্থ-সম্পদ সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, উদ্দীপকে উল্লেখিত উপাসনালয় আক্রমণ ও লুণ্ঠনের ঘটনায় সুলতান মাহমুদের সোমনাথ মন্দির আক্রমণেরই প্রতিফলন ঘটেছে। (ঘ) অরখানের জেনিসারি বাহিনীর মতো সুলতান মাহমুদও একই উদ্দেশ্যে সম্পদ সংগ্রহ করেন- উক্তিটি যথার্থ। সুলতান মাহমুদ একজন উচ্চাভিলাষী এবং অর্থলোভী সমরনায়ক ছিলেন। রাজ্যাভিযানে তিনি আনন্দ পেলেও তার অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল অর্থনৈতিক। নিজ সাম্রাজ্য গজনিকে সমৃদ্ধিশালী ও অনিন্দ্যসুন্দর করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তার প্রচুর সম্পদের দরকার ছিল। আর ধন-ঐশ্বর্যে পরিপূর্ণ ভারতকে তিনি তার প্রয়োজনীয় অর্থের ভাণ্ডার মনে করে এখানে বার বার অভিযান পরিচালনা করেন এবং প্রচুর অর্থ-সম্পদ হস্তগত করে গজনির শ্রীবৃদ্ধিতে ব্যয় করেন। অটোমান সুলতান অরখানের অভিযানের পেছনেও এ ধরনের উদ্দেশ্য পরিলক্ষিত হয়। অটোমান সুলতান অরখানের গঠিত জেনিসারি বাহিনী বিভিন্ন রাজ্যে অভিযান চালিয়ে প্রচুর সম্পদ লুট করে। সুলতান এই সম্পদ ব্যয় করে অটোমান সাম্রাজ্যের উন্নয়নে নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। অর্থাৎ নিজ এলাকার উন্নয়ন এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহই ছিল জেনিসারি বাহিনীর প্রধান উদ্দেশ্য। একইভাবে সুলতান মাহমুদও গজনিকে বিশ্বের তিলোত্তমা নগরীতে পরিণত করার জন্য এর সুসজ্জিতকরণ, নিজ সাম্রাজ্যে জ্ঞান-বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতা, বিশাল সৈন্যবাহিনীর ব্যয় নির্বাহ প্রভৃতি কারণে ভারতে বার বার অভিযান প্রেরণ করেন। কারণ ভারতবর্ষকে তিনি তার প্রয়োজনীয় অর্থের ভাণ্ডার মনে করেছিলেন। এসব অভিযান থেকে সংগৃহীত অর্থ-সম্পদ তিনি সাম্রাজ্যের সার্বিক উন্নতিকল্পে ব্যয় করেন। উপরের আলোচনায় এটা প্রমাণিত যে, অরখানের জেনিসারি বাহিনীর সম্পদ-লুণ্ঠন এবং সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের উদ্দেশ্য একই ধারায় প্রবাহিত হয়েছে। অর্থাৎ তারা উভয়ই অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যে অভিযান পরিচালনা করেছে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

অটোমান সুলতান অরখান জেনিসারি বাহিনী গঠন করে বিভিন্ন রাজ্যে অভিযান পরিচালনা করেন। এসব রাজ্য থেকে অর্থ-সম্পদ লুণ্ঠন করে তিনি নিজ দেশের উন্নয়ন ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেন। তিনি একটি দ্বীপের সুসজ্জিত ও সুরক্ষিত উপাসনালয়ে সংরক্ষিত মূল্যবান অর্থ-সম্পদের সন্ধান পেয়ে সেটি আক্রমণ ও লুণ্ঠন করেন। স্থানীয় অধিবাসীরা প্রাণপণ চেষ্টা করেও উপাসনালয়টিকে লুণ্ঠনের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেননি। তবে তিনি জ্ঞানবিজ্ঞান ও স্থাপত্য শিল্পের একজন উদার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।

ক. 'শাহনামা' মহাকাব্যের রচয়িতা কে ছিলেন?

খ. আল বিরুনির পরিচয় দাও।

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত উপাসনালয়টি আক্রমণের সাথে সুলতান মাহমুদের কোন অভিযানের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উদ্দীপকের সুলতানের মতো তোমার পঠিত সুলতান মাহমুদও একই উদ্দেশ্যে সম্পদ সংগ্রহ করেন- উক্তিটি মূল্যায়ন করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

অটোমান সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সুলতান উসমানের নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এশিয়া মাইনরে বিদ...

অটোমান সিংহাসনে আরোহণ করে সুলতান সুলেমান সুসজ্জিত সামরিক বাহিনী গঠন করেন। তিনি সাম্রাজ্যের সমৃদ্ধি ও সীমান্ত অঞ্চলের নির...

অটোমান সুলতান দ্বিতীয় মুরাদ ইউরোপীয় রাষ্ট্রবর্গের সম্মিলিত শক্তির নেতৃত্বদানকারী হাঙ্গেরির বিখ্যাত সেনাপতি হুনিয়াদির কাছ...

আফ্রিকার একটি উপজাতি সূর্য দেবতার মন্দিরকে সবচেয়ে নিরাপদ ও শক্তির আধার মনে করে তাদের সকল ধন-সম্পদ যেখানে গচ্ছিত রাখে। তা...

আরব কর্তৃক সিন্ধু বিজিত হয় কত খ্রিষ্টাব্দে?

আরবদের সিন্ধু আক্রমণের পরোক্ষ কারণ ছিল- i. দেবল বন্দরে জলদস্যুদের জাহাজ লুণ্ঠন ii. সীমান্তের নিরাপত্তা বিধান iii. পারস্য...

'আরবদের সিন্ধু বিজয় একটি নিষ্ফল উপাখ্যান'- উক্তিটি কার?

আলাউদ্দিন হোসেনকে 'জাহানসুজ' বলার কারণ- i. গজনি অধিকার ii. হিরাত অধিকার iii. উক্ত নগরী ধ্বংস সাধন নিচের কোনটি সঠিক?

আহমদ শাহ ১৭৪৮ খ্রিষ্টাব্দে সিরহিন্দ আক্রমণ করেন। কিন্তু সিরহিন্দের শাসক মইন-উল-মুলক মানপুরের প্রথম যুদ্ধে তাকে পরাজিত কর...

আহমদ শাহ ১৭৪৮ খ্রিষ্টাব্দে সিরহিন্দ আক্রমণ করেন। কিন্তু সিরহিন্দের শাসক মইন-উল-মূলক মানপুরের প্রথম যুদ্ধে তাকে পরাজিত কর...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।