Facebook Pixel

সুলতান নাসিরউদ্দিন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরীণ সকল সমস্যা সমাধান করেন। তিনি অন্য একটি রাজ্যকে জয় করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। প্রথম যুদ্ধে তিনি প্রতিপক্ষের নিকট পরাজিত হন। এই পরাজয়ের গ্লানি মোচনের জন্য তিনি পরবর্তী বছর দ্বিতীয় যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। প্রতিপক্ষের সৈন্য সংখ্যা অধিক হওয়া সত্ত্বেও তাদেরকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেন। তিনি বিজয়ীর গৌরব অর্জন করেন এবং স্থায়ী রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। ক. সোমনাথ মন্দির কোথায় অবস্থিত? খ. সিন্ধু বিজয়ের প্রকৃত কারণ কী? ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত যুদ্ধ তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন যুদ্ধের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকের দ্বিতীয় যুদ্ধ ছিল 'চূড়ান্ত নিষ্পত্তিকারী যুদ্ধ'- বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ভারতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা

উৎস: Board Exam Question RB 2022, Board Exam Question CB 2022, Board Exam Question JB 2022

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) সোমনাথ মন্দির ভারতের গুজরাটে অবস্থিত। (খ) জাহাজ্জাজ বিন ইউসুফের কাছে সিংহলরাজের প্রেরিত আটটি জাহাজ সিন্ধুর দেবল বন্দরে জলদস্যুদের দ্বারা লুট হওয়াই ছিল আরবদের সিন্ধু অভিযানের প্রত্যক্ষ কারণ। সিংহলরাজ আনুগত্যের নিদর্শনস্বরূপ আটটি জাহাজে করে খলিফা আল ওয়ালিদ ও হাজ্জাজ বিন ইউসুফের কাছে উপঢৌকন প্রেরণ করেন। কিন্তু সেগুলো সিন্ধুর দেবল বন্দরে লুট হলে হাজ্জাজ বিন ইউসুফ রাজা দাহিরের কাছে এর ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। রাজা দাহির তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে তাকে সমুচিত শিক্ষা দেওয়ার জন্য খলিফার অনুমতি নিয়ে ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে মুহাম্মদ বিন কাসিমের নেতৃত্বে সিন্ধুতে অভিযান পরিচালনা করেন। (গ) উদ্দীপকে বর্ণিত যুদ্ধের সাথে মুহাম্মদ ঘুরির তরাইনের প্রথম ও দ্বিতীয় যুদ্ধের মিল রয়েছে। মুহাম্মদ ঘুরির উদ্দেশ্য ছিল ভারতে একটি স্থায়ী মুসলিম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা। এ উদ্দেশ্যে তিনি সিন্ধু, মুলতান ও পাঞ্জাব অধিকার করে দিল্লি ও আজমিরের শাসক পৃথ্বিরাজের মুখোমুখি হন। এ পর্যায়ে তিনি যে যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন উদ্দীপকের অভিযানের মাধ্যমে তার প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, সুলতান নাসিরউদ্দিন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর অন্য একটি রাজ্যকে জয় করার অভিপ্রায়ে যুদ্ধ পরিচালনা করেন এবং প্রথম যুদ্ধে প্রতিপক্ষের নিকট পরাজিত হন। এই পরাজয়ের গ্লানি মোচনের জন্য তিনি পরবর্তী বছর দ্বিতীয় যুদ্ধে অবতীর্ণ হন এবং প্রতিপক্ষের সৈন্য সংখ্যা অধিক হওয়া সত্ত্বেও তাদেরকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে স্থায়ী রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। মুহাম্মদ ঘুরির ক্ষেত্রেও এমনটি দেখা যায়। ১১৮৯ খ্রিষ্টাব্দে ভাতিন্দা দখল করে মুহাম্মদ ঘুরি চৌহান রাজের বিরুদ্ধে অগ্রসর হলে তাকে মোকাবিলার উদ্দেশ্যে পৃথ্বিরাজ উত্তর ভারতের হিন্দু রাজাদের সমন্বয়ে একটি 'কনফেডারেসি' বা ঐক্যজোট গঠন করেন। কনৌজ রাজা জয়চাঁদ ছাড়া প্রায় সব হিন্দু রাজন্য এতে যোগ দেন। ১১৯১ খ্রিষ্টাব্দে থানেশ্বরের কাছাকাছি তরাইনের রণক্ষেত্রে সম্মিলিত বাহিনী ও মুহাম্মদ ঘুরির বাহিনীর মধ্যে তুমুল যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী পরাজিত হয় এবং মুহাম্মদ ঘুরি আহত হয়ে পালিয়ে যান। তরাইনের প্রথম যুদ্ধে পরাজয়ের গ্লানি মুহাম্মদ ঘুরিকে প্রতিশোধ স্পৃহায় উদ্দীপ্ত করে তোলে। এ অবস্থায় ১১৯২ খ্রিষ্টাব্দে ১,২০,০০০ সৈন্যের এক বিশাল বাহিনী নিয়ে তিনি পুনরায় যুদ্ধযাত্রা করেন। মুসলিম বাহিনীর মোকাবিলায় পৃথ্বিরাজ তিন লক্ষ সৈন্যের এক বিশাল বাহিনী সংগঠিত করেন। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রায় দেড়শ রাজপুত রাজা পৃথ্বিরাজের পতাকাতলে সমবেত হয়েছিলেন বলে ঐতিহাসিক ঈশ্বরী প্রসাদ উল্লেখ করেছেন। তরাইন প্রান্তরে উভয় বাহিনী মুখোমুখি হয়। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা সত্ত্বেও মুহাম্মদ ঘুরির উন্নত রণকৌশলের কাছে সম্মিলিত রাজপুত বাহিনী শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। পালিয়ে যাওয়ার সময় রাজা পৃথ্বিরাজ ধরা পড়েন এবং পরে নিহত হন। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের যুদ্ধের ঘটনার সাথে মুহাম্মদ ঘুরির তরাইনের যুদ্ধের পূর্ণ সামঞ্জস্য রয়েছে। (ঘ) উদ্দীপকের দ্বিতীয় যুদ্ধ তথা তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ ছিল 'চূড়ান্ত নিষ্পত্তিকারী যুদ্ধ', উক্তিটি যথার্থ। ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ এক যুগান্তকারী ঘটনা। এ যুদ্ধের বিজয়ের মাধ্যমে মুহাম্মদ ঘুরির ভারতে স্থায়ী মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুনিশ্চিত হয়, যা উদ্দীপকের দ্বিতীয় যুদ্ধের ক্ষেত্রেও লক্ষ করা যায়। উদ্দীপকের দ্বিতীয় যুদ্ধে সুলতান নাসিরউদ্দিন প্রতিপক্ষের সৈন্য সংখ্যা অধিক হওয়া সত্ত্বেও তাদেরকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেন এবং বিজয়ীর গৌরব অর্জন করে স্থায়ী রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। একইভাবে তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ ভারতে মুসলিম শাসন স্থায়ী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভিনসেন্ট স্মিথের মতে, "১১৯২ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধকে চূড়ান্ত সংঘর্ষ হিসেবে গণ্য করা যায়, যা হিন্দুস্থানের ওপর মুসলিম আধিপত্যের চরম সাফল্যের সূচনা করে।" এ.বি.এম. হবিবুল্লাহ বলেন, "মুইজউদ্দিনের এ বিজয় কোনো বিক্ষিপ্ত ব্যক্তিকেন্দ্রিক বিজয় কিংবা দৈব ঘটনা ছিল না। একদিকে এই বিজয় ছিল একজন দৃঢ়সংকল্প বিজেতার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে পরিচালিত কর্মসূচির বাস্তবায়ন। অপরদিকে এর ফলে রাজপুতদের রাজনৈতিক শক্তি খর্ব হয় এবং তারা মুসলমানদের প্রতিরোধ করার শক্তি হারিয়ে ফেলে। ফলে ভারতীয় রাজ্যগুলোর ওপর মুহাম্মদ ঘুরির চূড়ান্ত কর্তৃত্ব সুনিশ্চিত হয় এবং উত্তর ভারতের দিল্লি পর্যন্ত সব শহরের তোরণ তার জন্য উন্মোচিত হয়।" বিজয়ী মুহাম্মদ ঘুরি অনায়াসে সামানা, সিরসুত, কুহরাম ও হান্সি দখল করেন। আনুগত্য প্রকাশ এবং নিয়মিত কর প্রদানের শর্তে আজমিরের শাসনভার পৃথ্বিরাজের পুত্র গোলার ওপর ন্যস্ত করা হয়। সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের মাধ্যমে মুহাম্মদ ঘুরি ভারতে স্থায়ী মুসলিম সাম্রাজ্য স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছিলেন, তাই এই যুদ্ধটি ছিল চূড়ান্ত নিষ্পত্তিকারী যুদ্ধ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenRajshahi Board (2022)Cumilla Board (2022)Jessore Board (2022)

সুলতান নাসিরউদ্দিন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরীণ সকল সমস্যা সমাধান করেন। তিনি অন্য একটি রাজ্যকে জয় করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। প্রথম যুদ্ধে তিনি প্রতিপক্ষের নিকট পরাজিত হন। এই পরাজয়ের গ্লানি মোচনের জন্য তিনি পরবর্তী বছর দ্বিতীয় যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। প্রতিপক্ষের সৈন্য সংখ্যা অধিক হওয়া সত্ত্বেও তাদেরকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেন। তিনি বিজয়ীর গৌরব অর্জন করেন এবং স্থায়ী রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।

ক. সোমনাথ মন্দির কোথায় অবস্থিত?

খ. সিন্ধু বিজয়ের প্রকৃত কারণ কী? ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত যুদ্ধ তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন যুদ্ধের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উদ্দীপকের দ্বিতীয় যুদ্ধ ছিল 'চূড়ান্ত নিষ্পত্তিকারী যুদ্ধ'- বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

অটোমান সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সুলতান উসমানের নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এশিয়া মাইনরে বিদ...

অটোমান সিংহাসনে আরোহণ করে সুলতান সুলেমান সুসজ্জিত সামরিক বাহিনী গঠন করেন। তিনি সাম্রাজ্যের সমৃদ্ধি ও সীমান্ত অঞ্চলের নির...

অটোমান সুলতান অরখান জেনিসারি বাহিনী গঠন করে বিভিন্ন রাজ্যে অভিযান পরিচালনা করেন। এসব রাজ্য থেকে অর্থ-সম্পদ লুণ্ঠন করে তি...

অটোমান সুলতান দ্বিতীয় মুরাদ ইউরোপীয় রাষ্ট্রবর্গের সম্মিলিত শক্তির নেতৃত্বদানকারী হাঙ্গেরির বিখ্যাত সেনাপতি হুনিয়াদির কাছ...

আফ্রিকার একটি উপজাতি সূর্য দেবতার মন্দিরকে সবচেয়ে নিরাপদ ও শক্তির আধার মনে করে তাদের সকল ধন-সম্পদ যেখানে গচ্ছিত রাখে। তা...

আরব কর্তৃক সিন্ধু বিজিত হয় কত খ্রিষ্টাব্দে?

আরবদের সিন্ধু আক্রমণের পরোক্ষ কারণ ছিল- i. দেবল বন্দরে জলদস্যুদের জাহাজ লুণ্ঠন ii. সীমান্তের নিরাপত্তা বিধান iii. পারস্য...

'আরবদের সিন্ধু বিজয় একটি নিষ্ফল উপাখ্যান'- উক্তিটি কার?

আলাউদ্দিন হোসেনকে 'জাহানসুজ' বলার কারণ- i. গজনি অধিকার ii. হিরাত অধিকার iii. উক্ত নগরী ধ্বংস সাধন নিচের কোনটি সঠিক?

আহমদ শাহ ১৭৪৮ খ্রিষ্টাব্দে সিরহিন্দ আক্রমণ করেন। কিন্তু সিরহিন্দের শাসক মইন-উল-মুলক মানপুরের প্রথম যুদ্ধে তাকে পরাজিত কর...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।