Facebook Pixel

সুলতান আলম বারবার অন্য দেশে অভিযান পরিচালনা করেন। প্রায় প্রতিবারই তিনি জয়লাভ করে প্রচুর ধন-সম্পদসহ নিজ রাজ্যে ফিরে আসেন। তার রাজ্যকে একটি সমৃদ্ধিশালী রাজ্যে পরিণত করাই ছিল এই অভিযানসমূহের মূল উদ্দেশ্য। ক. ভারতে স্বাধীন মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন কে? খ. আরবদের সিন্ধু বিজয়ের কারণ কী? গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সাথে তোমার পঠিত কোন শাসকের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. "উক্ত শাসক শুধু সেনানায়কই ছিলেন না, একটি রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতাও ছিলেন"- বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ভারতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) কুতুবউদ্দিন আইবেক ভারতে স্বাধীন মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। (খ) আরবদের সিন্ধু বিজয়ের প্রত্যক্ষ কারণ ছিল সিন্ধুর জলদস্যু কর্তৃক আরব জাহাজ লুট। তবে এই বিজয়ের পেছনে আরও কিছু পরোক্ষ কারণ বিদ্যমান ছিল। আরবদের সিন্ধু বিজয় ছিল উমাইয়াদের সাম্রাজ্য বিস্তার নীতির অংশ। রাজ্য বিস্তারের স্বাভাবিক আকাঙ্ক্ষা এবং ভারতের ধন-সম্পদ লাভের ইচ্ছা তাদের সিন্ধু বিজয়ে প্ররোচিত করে। এছাড়া সীমান্তের নিরাপত্তা বিধান এবং সিন্ধুর রাজা দাহিরের আরব বিদ্রোহীদের আশ্রয় দানও এর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল। তবে প্রত্যক্ষ কারণটি হলো সিন্ধুর দেবল বন্দরে জলদস্যু কর্তৃক মুসলমানদের ৮টি জাহাজ লুট। হাজ্জাজ বিন ইউসুফ সিন্ধুর রাজা দাহিরের কাছে লুট হওয়া জাহাজের ক্ষতিপূরণ দাবি করলে রাজা দাহির তা অস্বীকার করেন। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে আরবরা সিন্ধুতে অভিযান পরিচালনা করে এবং জয়লাভ করে। (গ) উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সাথে আমার পঠিত গজনির সুলতান মাহমুদের মিল রয়েছে। যেকোনো দেশ, রাজ্য বা অঞ্চলকে সমৃদ্ধিশালী ও সুসজ্জিত করতে হলে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়। ইতিহাসের সাক্ষ্য দেয় যে, এই অর্থের প্রয়োজনে অনেক শাসক বিভিন্ন রাজ্যে অভিযান চালিয়েছেন। উদ্দীপকের সুলতান আলম এবং ইতিহাসখ্যাত সুলতান মাহমুদ এমনই দুজন শাসক। উদ্দীপকে বর্ণিত সুলতান আলম নিজ রাজ্যকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধিশালী করার জন্য বিভিন্ন দেশে অভিযান প্রেরণ করেন এবং প্রাপ্ত ধন-সম্পদ কাজে লাগিয়ে শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করেন। এছাড়া শিক্ষা বিস্তার ও শিল্পকলার উন্নয়নে তিনি আহরিত ধন-সম্পদ ব্যয় করেন। একইভাবে, গজনির সুলতান মাহমুদও ধন-ঐশ্বর্যে ভরপুর ভারতবর্ষে বারবার আক্রমণ করেন। তার এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রচুর ধন-সম্পদ আহরণ করে নিজ রাজ্যের উন্নয়ন ঘটানো। তিনি ভারতবর্ষকে তার প্রয়োজনীয় অর্থভাণ্ডার মনে করে ১০০০ থেকে ১০২৬ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে মোট ১৭ বার অভিযান প্রেরণ করেন এবং প্রতিবারই জয়লাভ করে প্রচুর সম্পদ হস্তগত করেন। এর মধ্যে তার ষোলোতম অভিযানে সোমনাথ মন্দির থেকে তিনি বিপুল সম্পদ করায়ত্ত করেন। ভারত অভিযান থেকে আহরিত অর্থ-সম্পদ কাজে লাগিয়ে তিনি গজনি রাজ্যকে সমৃদ্ধিশালী করে গড়ে তুলেছিলেন এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতায় তা ব্যয় করেন। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, উদ্দীপকের সুলতান আলম ও গজনির শাসক সুলতান মাহমুদের লক্ষ্য ও কাজের মধ্যে সুস্পষ্ট সাদৃশ্য বিদ্যমান। (ঘ) "উক্ত শাসক শুধু সেনানায়কই ছিলেন না, একটি রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতাও ছিলেন"- উক্তিটি সুলতান মাহমুদের ক্ষেত্রে যথার্থ। সুলতান মাহমুদ ছিলেন একজন সমরপ্রিয় ও দিগ্বিজয়ী বীর। তবে সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেও তিনি বিশেষ খ্যাতি লাভ করেন। শত্রুপক্ষের অধীন সকল রাজ্য জয় করে তাদের ক্ষমতার চূড়ান্ত বিলোপ সাধনই ছিল সুলতান মাহমুদের লক্ষ্য এবং তিনি তা অর্জনে সক্ষম হন। তিনি পাঞ্জাব জয় করে সেখানে সুদৃঢ় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করেন এবং একটি ক্ষুদ্র পার্বত্য রাজ্য গজনিকে বিশাল সাম্রাজ্যে রূপান্তর করেন। ভারতীয় ঐতিহাসিক ঈশ্বরী প্রসাদ বলেন, "সুলতান মাহমুদ ছিলেন বড় মাপের নৃপতি।" একটি ক্ষুদ্র রাজ্যকে শুধু বাহুবলে বিশাল ও সমৃদ্ধ সাম্রাজ্যে রূপ দান করা তার অসাধারণ কৃতিত্বের পরিচায়ক। তার পূর্বে এশিয়ার অন্য কোনো আরব বা তুর্কি শাসক হিরাত, কাবুল ও গজনির বাইরে অগ্রসর হতে পারেননি। অথচ তিনি যে বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন, তা বাগদাদের সমসাময়িক আব্বাসি খলিফার সাম্রাজ্যের চেয়েও বিশাল ছিল বলে মনে করা হয়। মুসলিম শাসকদের মধ্যে উত্তরপশ্চিম সীমান্ত পথে তিনিই প্রথম ভারতে অভিযান চালিয়েছিলেন। যদিও তিনি ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম মুসলিম রাজবংশ প্রতিষ্ঠার কৃতিত্বের অধিকারী নন, তবে তারই দেখানো পথে মুহাম্মদ ঘুরি ভারতবর্ষে স্থায়ীভাবে মুসলিম শাসনের ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করেন। পরিশেষে বলা যায়, অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতা ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতার কারণেই সুলতান মাহমুদ ক্ষুদ্র গজনিকে বিশাল সাম্রাজ্যে রূপান্তর করতে সক্ষম হন। তাই তিনি কেবল একজন কৃতি সেনানায়কই ছিলেন না, বরং একটি রাজ্যকে সুসংগঠিত করে তাকে সাম্রাজ্যে রূপ দানেও বিশেষ কৃতিত্ব দেখিয়েছেন।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

সুলতান আলম বারবার অন্য দেশে অভিযান পরিচালনা করেন। প্রায় প্রতিবারই তিনি জয়লাভ করে প্রচুর ধন-সম্পদসহ নিজ রাজ্যে ফিরে আসেন। তার রাজ্যকে একটি সমৃদ্ধিশালী রাজ্যে পরিণত করাই ছিল এই অভিযানসমূহের মূল উদ্দেশ্য।

ক. ভারতে স্বাধীন মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন কে?

খ. আরবদের সিন্ধু বিজয়ের কারণ কী?

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সাথে তোমার পঠিত কোন শাসকের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. "উক্ত শাসক শুধু সেনানায়কই ছিলেন না, একটি রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতাও ছিলেন"- বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

অটোমান সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সুলতান উসমানের নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এশিয়া মাইনরে বিদ...

অটোমান সিংহাসনে আরোহণ করে সুলতান সুলেমান সুসজ্জিত সামরিক বাহিনী গঠন করেন। তিনি সাম্রাজ্যের সমৃদ্ধি ও সীমান্ত অঞ্চলের নির...

অটোমান সুলতান অরখান জেনিসারি বাহিনী গঠন করে বিভিন্ন রাজ্যে অভিযান পরিচালনা করেন। এসব রাজ্য থেকে অর্থ-সম্পদ লুণ্ঠন করে তি...

অটোমান সুলতান দ্বিতীয় মুরাদ ইউরোপীয় রাষ্ট্রবর্গের সম্মিলিত শক্তির নেতৃত্বদানকারী হাঙ্গেরির বিখ্যাত সেনাপতি হুনিয়াদির কাছ...

আফ্রিকার একটি উপজাতি সূর্য দেবতার মন্দিরকে সবচেয়ে নিরাপদ ও শক্তির আধার মনে করে তাদের সকল ধন-সম্পদ যেখানে গচ্ছিত রাখে। তা...

আরব কর্তৃক সিন্ধু বিজিত হয় কত খ্রিষ্টাব্দে?

আরবদের সিন্ধু আক্রমণের পরোক্ষ কারণ ছিল- i. দেবল বন্দরে জলদস্যুদের জাহাজ লুণ্ঠন ii. সীমান্তের নিরাপত্তা বিধান iii. পারস্য...

'আরবদের সিন্ধু বিজয় একটি নিষ্ফল উপাখ্যান'- উক্তিটি কার?

আলাউদ্দিন হোসেনকে 'জাহানসুজ' বলার কারণ- i. গজনি অধিকার ii. হিরাত অধিকার iii. উক্ত নগরী ধ্বংস সাধন নিচের কোনটি সঠিক?

আহমদ শাহ ১৭৪৮ খ্রিষ্টাব্দে সিরহিন্দ আক্রমণ করেন। কিন্তু সিরহিন্দের শাসক মইন-উল-মুলক মানপুরের প্রথম যুদ্ধে তাকে পরাজিত কর...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।