Facebook Pixel

সম্প্রতি কাশ্মীর সীমান্তে সমস্যা নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। দুটি দেশের শাসকগোষ্ঠী একে অপরের বিরুদ্ধে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করে। দুটি দেশের প্রচার মাধ্যমগুলো পরস্পরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায়। দুটি দেশের জনগণ যুদ্ধের আশঙ্কায় সময় কাটায়। দেশ দুটির সেনাবাহিনী সামরিক মহড়া দিলেও শেষপর্যন্ত যুদ্ধ হয়নি। ক. সোভিয়েত ইউনিয়ন কত সালে গঠিত হয়? খ. ওয়ারশ চুক্তি (Warsaw Pact) কেন গঠন করা হয়েছিল? গ. উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টির সাথে তোমার পাঠ্যপুস্তকের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী কোন বিষয়ের মিল পাওয়া যায়? আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এর প্রভাব ব্যাখ্যা কর। ঘ. উক্ত দুটি দেশের আদর্শগত দ্বন্দ্বের কারণে পৃথিবীতে অনেক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে - বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইতিহাস ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৭ঃ স্নায়ুযুদ্ধঃ পুঁজিবাদ ও সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের দ্বন্দ্ব

উৎস: Test Exam Question BAFSC

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) ১৯২২ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাশিয়া, ইউক্রেন, বেলারুশ এবং ট্রান্সককেশিয়ান সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের সমন্বয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন গঠিত হয়। (খ) ওয়ারশ চুক্তি (Warsaw Pact) মূলত ১৯৫৫ সালে গঠিত একটি সামরিক জোট। ন্যাটো (NATO) জোটের পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে এবং সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও তার মিত্র পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলো এই চুক্তি স্বাক্ষর করে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল পুঁজিবাদী পশ্চিমা দেশগুলোর সম্ভাব্য আগ্রাসন থেকে সমাজতান্ত্রিক বলয়কে রক্ষা করা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। (গ) উদ্দীপকে বর্ণিত কাশ্মীর সীমান্ত নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার উত্তেজনা এবং যুদ্ধের আশঙ্কার সাথে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ের 'স্নায়ুযুদ্ধ' বা 'Cold War'-এর পরিস্থিতির মিল পাওয়া যায়। স্নায়ুযুদ্ধ ছিল মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যকার একটি আদর্শগত ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, যেখানে সরাসরি কোনো যুদ্ধ না হলেও বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা ও সামরিক প্রতিযোগিতার পরিবেশ বিরাজ করত। উদ্দীপকের দেশ দুটির মতো স্নায়ুযুদ্ধের সময়ও বিশ্ব দুটি প্রধান বলয়ে বিভক্ত ছিল, পুঁজিবাদী ও সমাজতান্ত্রিক। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এর প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী: ১. বিশ্ব দ্বি-মেরুকরণে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল, যার ফলে ছোট দেশগুলো বড় শক্তির প্রভাব বলয়ে আটকা পড়েছিল। ২. পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা ও সামরিক মহড়ার ফলে বিশ্বজুড়ে সবসময় একটি যুদ্ধের আতঙ্ক বিরাজ করত। ৩. বিভিন্ন আঞ্চলিক সংঘাতের পেছনে বড় শক্তিগুলোর পরোক্ষ মদদ ছিল, যা বিশ্বশান্তিকে বিঘ্নিত করেছিল। (ঘ) উদ্দীপকে বর্ণিত ভারত ও পাকিস্তানের আদর্শগত ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের মতো স্নায়ুযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের আদর্শগত দ্বন্দ্ব পৃথিবীতে গভীর সংকটের সৃষ্টি করেছিল। এই দ্বন্দ্বের প্রভাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়: প্রথমত, আদর্শগত ভিন্নতা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গণতন্ত্র ও পুঁজিবাদের প্রচারক ছিল, অন্যদিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদের প্রসারে কাজ করত। এই বিপরীতমুখী আদর্শের কারণে উভয় দেশ একে অপরের অস্তিত্বকে হুমকি মনে করত। দ্বিতীয়ত, সামরিক জোট ও অস্ত্র প্রতিযোগিতা: আদর্শ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে উভয় দেশ বিশ্বজুড়ে সামরিক জোট (যেমন- ন্যাটো ও ওয়ারশ চুক্তি) গঠন করে এবং পারমাণবিক অস্ত্রসহ মারণাস্ত্রের মজুদ বাড়াতে থাকে। এর ফলে বিশ্বশান্তি চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। তৃতীয়ত, ছায়াযুদ্ধ ও আঞ্চলিক অস্থিরতা: সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়ে তারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে (যেমন- কোরিয়া, ভিয়েতনাম) ছায়াযুদ্ধ বা 'Proxy War' চালিয়েছে, যা ওই অঞ্চলগুলোতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা ও মানবিক বিপর্যয় ডেকে এনেছিল। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের দেশ দুটির উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় ও সামরিক মহড়ার মতো স্নায়ুযুদ্ধের সময় দুই পরাশক্তি একে অপরের বিরুদ্ধে যে স্নায়বিক চাপ সৃষ্টি করেছিল, তা পুরো বিশ্বকে এক অনিশ্চিত ও আতঙ্কগ্রস্ত অবস্থায় ঠেলে দিয়েছিল। সুতরাং, আদর্শগত দ্বন্দ্ব যে বিশ্বশান্তির জন্য কতটা হুমকি হতে পারে, তা স্নায়ুযুদ্ধের ইতিহাস থেকে স্পষ্ট হয়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenনির্বাচনী পরীক্ষা - BAF Shaheen College

সম্প্রতি কাশ্মীর সীমান্তে সমস্যা নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। দুটি দেশের শাসকগোষ্ঠী একে অপরের বিরুদ্ধে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করে। দুটি দেশের প্রচার মাধ্যমগুলো পরস্পরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায়। দুটি দেশের জনগণ যুদ্ধের আশঙ্কায় সময় কাটায়। দেশ দুটির সেনাবাহিনী সামরিক মহড়া দিলেও শেষপর্যন্ত যুদ্ধ হয়নি। ক. সোভিয়েত ইউনিয়ন কত সালে গঠিত হয়? খ. ওয়ারশ চুক্তি (Warsaw Pact) কেন গঠন করা হয়েছিল? গ. উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টির সাথে তোমার পাঠ্যপুস্তকের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী কোন বিষয়ের মিল পাওয়া যায়? আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এর প্রভাব ব্যাখ্যা কর। ঘ. উক্ত দুটি দেশের আদর্শগত দ্বন্দ্বের কারণে পৃথিবীতে অনেক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে - বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

beginarray|l|c| hline textbf'ক' রাষ্ট্র & textbf'খ' রাষ্ট্র hline textপুঁজিবাদী আদর্শে বিশ্বাসী & textকমিউনিজম আদর্শে ব...

‘NATO’ এর পূর্ণরূপ কী ?

NATO সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?

SEATO কত খ্রিষ্টাব্দে গঠিত হয় ?

আদর্শগত বিরোধ থাকলে অনেক সময় বন্ধুর সাথে বন্ধুর দ্বন্দ্ব। লেগে যায়। স্বপন ও সুদীপ্তর ক্ষেত্রে সেটিই ঘটেছিল। স্বপন সাম্...

আদর্শগত বিরোধ থাকলে অনেক সময় বন্ধুর সাথে বন্ধুর দ্বন্দ্ব লেগে যায়। স্বপন সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদের অনুসারী। অপরদিকে, স...

আধিপত্য বিস্তার ও কিছু আদর্শগত বিরোধকে কেন্দ্র করে ফুলবাড়ী ইউনিয়নের দুটি গ্রামের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ও সাংঘর্ষিত পরিস্...

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুটি দেশের মধ্যে প্রবল যুদ্ধের সম্ভাবনা দেখা দেয়। আগে থেকেই তাদের মধ্যে মতাদর্শগত দ্বন্দ্...

ইনকিলাব একটি দেশের রাজনৈতিক সংগঠন। এ সংগঠনের আদর্শ বিশ্বাসীরা তাদের দলের রাজনৈতিক আদর্শ ও দর্শন বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রে...

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন দুটি বিবদমান রাষ্ট্র। এ দুটি রাষ্ট্রের সংঘাত আরব-ইসরায়েল সংঘাত নামে পরিচিত। এ সংঘাতে দেশি-বিদেশি অ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।