Facebook Pixel

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন দুটি বিবদমান রাষ্ট্র। এ দুটি রাষ্ট্রের সংঘাত আরব-ইসরায়েল সংঘাত নামে পরিচিত। এ সংঘাতে দেশি-বিদেশি অনেক রাষ্ট্র জড়িয়ে পড়েছে। ইসরায়েল মনে করে ফিলিস্তিন সংগঠন ‘হামাস’ একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। অপরপক্ষে ফিলিস্তিন মনে করে। ইসরায়েল পৃথিবীর বৃহত্তম সন্ত্রাসী রাষ্ট্র। এ দুই রাষ্ট্রের দ্বন্দ্ব ভবিষ্যতে বড় কোনো সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশ্ববাসী আতঙ্কিত। ক. ‘Cold War’ শব্দটি সর্বপ্রথম কে ব্যবহার করেন? খ. পেরেস্ত্রৈকা কী? বুঝিয়ে লেখ । গ. উদ্দীপকে যে বৃহৎ সংঘাতের আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে তার কারণ ব্যাখ্যা কর। ঘ. দুটি বৃহৎ রাষ্ট্রের মতাদর্শগত পার্থক্য উক্ত সংঘাতের মূল কারণ- মতামত দাও ।

বিষয়: ইতিহাস ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৭ঃ স্নায়ুযুদ্ধঃ পুঁজিবাদ ও সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের দ্বন্দ্ব

উৎস: Board Exam Question DB 2017, Board Exam Question RB 2017, Board Exam Question ChB 2017, Board Exam Question Combined 2017

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) 'Cold War' বা স্নায়ুযুদ্ধ শব্দটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন মার্কিন অর্থনীতবিদ ও রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা বার্নাড বারুচ (Bernard Baruch)। (খ) পেরেস্ত্রৈকা (Perestroika) হলো সোভিয়েত ইউনিয়নের শেষ নেতা মিখাইল গর্বাচেভ কর্তৃক প্রবর্তিত একটি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি। এর আক্ষরিক অর্থ হলো পুনর্গঠন। আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে সোভিয়েত অর্থনীতির স্থবিরতা কাটাতে এবং সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও আধুনিক করার লক্ষ্যে তিনি এই নীতি গ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রিত অর্থনীতির পরিবর্তে সীমিত আকারে বাজার অর্থনীতির সুযোগ সৃষ্টি এবং প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এটি গর্বাচেভের গ্লাসনস্ত বা মুক্তচিন্তার নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল, যা শেষ পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের রাজনৈতিক কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তনের সূচনা করে। (গ) উদ্দীপকে যে বৃহৎ সংঘাতের আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে তা হলো স্নায়ুযুদ্ধ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর বিশ্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যকার আদর্শিক ও ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বই স্নায়ুযুদ্ধের মূল কারণ। পাঠ্যবইয়ের আলোকে এর প্রধান কারণগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো: ১. মতাদর্শগত পার্থক্য: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাদী ও গণতান্ত্রিক আদর্শ এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের সমাজতান্ত্রিক ও সাম্যবাদী আদর্শের মধ্যে মৌলিক বিরোধ ছিল। এই আদর্শিক ভিন্নতা দুই শক্তিকে একে অপরের প্রতি সন্দিহান করে তোলে। ২. সমাজতন্ত্র প্রসারের ভীতি: যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউরোপে সমাজতন্ত্রের দ্রুত বিস্তার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আতঙ্কিত করে তোলে, যার ফলে তারা রাশিয়ার প্রতি কঠোর নীতি গ্রহণ করে। ৩. জার্মানির ভবিষ্যৎ ও ক্ষতিপূরণ: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানিকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ আদায় নিয়ে দুই পরাশক্তির মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য দেখা দেয়। ৪. ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার: গ্রিস, ইরান ও তুরস্কের মতো দেশগুলোতে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই শক্তির মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। ৫. আণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা: পারমাণবিক প্রযুক্তির ওপর আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতা বিশ্বজুড়ে এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। সুতরাং, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের আকাঙ্ক্ষাই স্নায়ুযুদ্ধের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল। (ঘ) দুটি বৃহৎ রাষ্ট্র অর্থাৎ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে মতাদর্শগত পার্থক্যই যে স্নায়ুযুদ্ধের মূল কারণ, উদ্দীপকের আলোকে আমার মতামত নিচে বিশ্লেষণ করা হলো: বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে বিশ্ব দুটি প্রধান মেরুতে বিভক্ত হয়ে পড়ে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্ব দেয় পুঁজিবাদী ও উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক ব্লকের, অন্যদিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন নেতৃত্ব দেয় সমাজতান্ত্রিক ও সাম্যবাদী ব্লকের। এই দুই মতাদর্শের প্রকৃতি ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। পুঁজিবাদ ব্যক্তিগত মালিকানা ও মুক্তবাজার অর্থনীতির ওপর জোর দেয়, আর সমাজতন্ত্র রাষ্ট্রীয় মালিকানা ও পরিকল্পিত অর্থনীতির ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে এই দুই শক্তি সাময়িকভাবে ঐক্যবদ্ধ হলেও যুদ্ধ শেষে তাদের মধ্যকার অন্তর্নিহিত আদর্শিক দ্বন্দ্ব আবার প্রকট হয়ে ওঠে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মনে করত সমাজতন্ত্রের বিস্তার বিশ্বশান্তির জন্য হুমকি, অন্যদিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন পুঁজিবাদী দেশগুলোকে তাদের সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখত। এই অবিশ্বাসের কারণেই তারা একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক জোট (যেমন- NATO ও Warsaw Pact) গঠন করে এবং অস্ত্র প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। কিউবা ক্ষেপণাস্ত্র সংকট, ভিয়েতনাম যুদ্ধ বা আফগান সংকটের মতো ঘটনাগুলো মূলত এই মতাদর্শগত সংঘাতেরই বহিঃপ্রকাশ ছিল। পরিশেষে বলা যায়, স্নায়ুযুদ্ধ কেবল ক্ষমতার লড়াই ছিল না, বরং এটি ছিল দুটি ভিন্ন জীবনদর্শন ও রাষ্ট্রব্যবস্থার টিকে থাকার লড়াই। তাই মতাদর্শগত পার্থক্যই যে এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের মূল ভিত্তি ছিল, তা ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenDhaka Board (2017)Rajshahi Board (2017)Chattogram Board (2017)Combined Board (2017)

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন দুটি বিবদমান রাষ্ট্র। এ দুটি রাষ্ট্রের সংঘাত আরব-ইসরায়েল সংঘাত নামে পরিচিত। এ সংঘাতে দেশি-বিদেশি অনেক রাষ্ট্র জড়িয়ে পড়েছে। ইসরায়েল মনে করে ফিলিস্তিন সংগঠন ‘হামাস’ একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। অপরপক্ষে ফিলিস্তিন মনে করে। ইসরায়েল পৃথিবীর বৃহত্তম সন্ত্রাসী রাষ্ট্র। এ দুই রাষ্ট্রের দ্বন্দ্ব ভবিষ্যতে বড় কোনো সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশ্ববাসী আতঙ্কিত।

ক. ‘Cold War’ শব্দটি সর্বপ্রথম কে ব্যবহার করেন?

খ. পেরেস্ত্রৈকা কী? বুঝিয়ে লেখ ।

গ. উদ্দীপকে যে বৃহৎ সংঘাতের আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে তার কারণ ব্যাখ্যা কর।

ঘ. দুটি বৃহৎ রাষ্ট্রের মতাদর্শগত পার্থক্য উক্ত সংঘাতের মূল কারণ- মতামত দাও ।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

beginarray|l|c| hline textbf'ক' রাষ্ট্র & textbf'খ' রাষ্ট্র hline textপুঁজিবাদী আদর্শে বিশ্বাসী & textকমিউনিজম আদর্শে ব...

‘NATO’ এর পূর্ণরূপ কী ?

NATO সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?

SEATO কত খ্রিষ্টাব্দে গঠিত হয় ?

আদর্শগত বিরোধ থাকলে অনেক সময় বন্ধুর সাথে বন্ধুর দ্বন্দ্ব। লেগে যায়। স্বপন ও সুদীপ্তর ক্ষেত্রে সেটিই ঘটেছিল। স্বপন সাম্...

আদর্শগত বিরোধ থাকলে অনেক সময় বন্ধুর সাথে বন্ধুর দ্বন্দ্ব লেগে যায়। স্বপন সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদের অনুসারী। অপরদিকে, স...

আধিপত্য বিস্তার ও কিছু আদর্শগত বিরোধকে কেন্দ্র করে ফুলবাড়ী ইউনিয়নের দুটি গ্রামের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ও সাংঘর্ষিত পরিস্...

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুটি দেশের মধ্যে প্রবল যুদ্ধের সম্ভাবনা দেখা দেয়। আগে থেকেই তাদের মধ্যে মতাদর্শগত দ্বন্দ্...

ইনকিলাব একটি দেশের রাজনৈতিক সংগঠন। এ সংগঠনের আদর্শ বিশ্বাসীরা তাদের দলের রাজনৈতিক আদর্শ ও দর্শন বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রে...

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও : 'ক' ও 'খ' বিপরীত মতাদর্শের দুটি দেশ। কিন্তু দেশ দুটি পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হওয়...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।