Facebook Pixel

beginarray|l|c| hline textbf'ক' রাষ্ট্র & textbf'খ' রাষ্ট্র hline textপুঁজিবাদী আদর্শে বিশ্বাসী & textকমিউনিজম আদর্শে বিশ্বাসী hline textগণতন্ত্র উপস্থিত & textগণতন্ত্র নেই hline textNATO গঠন & textWARSAW গঠন hline endarray ক. ন্যাটো (NATO) কবে গঠিত হয়? খ. মার্শাল পরিকল্পনা (Marshall Plan) কী? গ. উদ্দীপকে 'ক' ও 'খ' রাষ্ট্রের দ্বন্দ্ব কোন বিষয়কে ইঙ্গিত করে? এবং উক্ত দ্বন্দ্বের মূল কারণগুলো আলোচনা কর। ঘ. "উক্ত মতাদর্শগত দ্বন্দ্বটি সমগ্র বিশ্বকে দুটি পৃথক শিবিরে বিভক্ত করে" - পর্যালোচনা কর।

বিষয়: ইতিহাস ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৭ঃ স্নায়ুযুদ্ধঃ পুঁজিবাদ ও সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের দ্বন্দ্ব

উৎস: Test Exam Question CC

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) ১৯৪৯ সালের ৪ এপ্রিল উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট বা ন্যাটো (NATO) গঠিত হয়। (খ) মার্শাল পরিকল্পনা (Marshall Plan) হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর ইউরোপের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি। ১৯৪৭ সালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জর্জ মার্শাল এই পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউরোপের দেশগুলোকে অর্থনৈতিক সাহায্য প্রদানের মাধ্যমে তাদের অর্থনীতিকে সচল করা এবং একই সাথে সোভিয়েত ইউনিয়নের সমাজতান্ত্রিক প্রভাব ও সাম্যবাদের বিস্তার রোধ করা। (গ) উদ্দীপকে 'ক' রাষ্ট্র বলতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং 'খ' রাষ্ট্র বলতে সোভিয়েত ইউনিয়নকে বোঝানো হয়েছে। এদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব মূলত স্নায়ুযুদ্ধ বা কোল্ড ওয়ার (Cold War)-কে ইঙ্গিত করে। স্নায়ুযুদ্ধের মূল কারণগুলো নিচে আলোচনা করা হলো: ১. আদর্শগত বিরোধ: পুঁজিবাদী ও গণতান্ত্রিক আদর্শের ধারক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সমাজতান্ত্রিক ও কমিউনিজম আদর্শের ধারক সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে মৌলিক আদর্শগত পার্থক্য ছিল, যা দুই পরাশক্তির মধ্যে অবিশ্বাসের জন্ম দেয়। ২. সমাজতন্ত্রের বিস্তার রোধ: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে সমাজতন্ত্রের দ্রুত প্রসার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্বিগ্ন করে তোলে। তারা মনে করেছিল, অর্থনৈতিক সংকটে থাকা দেশগুলো সাম্যবাদের দিকে ঝুঁকে পড়বে, যা তাদের প্রভাববলয়কে সংকুচিত করবে। ৩. ট্রুম্যান ডকট্রিন: ১৯৪৭ সালে গ্রিসের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মার্কিন হস্তক্ষেপ এবং ট্রুম্যান ডকট্রিনের ঘোষণা সোভিয়েত ইউনিয়নকে ক্ষুব্ধ করে, যা স্নায়ুযুদ্ধের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। ৪. জার্মানি ও ইরান সমস্যা: জার্মানির ক্ষতিপূরণ আদায় এবং ইরান থেকে সোভিয়েত সৈন্য প্রত্যাহারে গড়িমসি নিয়ে দুই পরাশক্তির মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়। ৫. আণবিক শক্তির গোপনীয়তা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আণবিক বোমার ব্যবহার এবং এর গোপনীয়তা রক্ষা সোভিয়েত ইউনিয়নকে হতাশ করে, যা দুই দেশের মধ্যে অস্ত্র প্রতিযোগিতার সূচনা করে। (ঘ) "উক্ত মতাদর্শগত দ্বন্দ্বটি সমগ্র বিশ্বকে দুটি পৃথক শিবিরে বিভক্ত করে" - উক্তিটি যথার্থ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বিশ্ব রাজনীতিতে দ্বিমেরুবাদের উদ্ভব ঘটে, যেখানে একদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পুঁজিবাদী ব্লক এবং অন্যদিকে সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক ব্লক গঠিত হয়। প্রথমত, ইয়াল্টা ও পটসড্যাম সম্মেলনের পর জার্মানিকে কেন্দ্র করে দুই পরাশক্তির মধ্যে যে বিভাজন শুরু হয়, তা শেষ পর্যন্ত পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানির সৃষ্টি করে। এটি ছিল বিশ্ব বিভাজনের একটি বড় উদাহরণ। দ্বিতীয়ত, সামরিক জোট গঠনের মাধ্যমে বিশ্বকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। 'ক' রাষ্ট্র বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো (NATO) গঠন করে এবং 'খ' রাষ্ট্র বা সোভিয়েত ইউনিয়ন এর বিপরীতে ওয়ারশ (WARSAW) চুক্তি গঠন করে। এর ফলে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ নিজ নিজ আদর্শের ভিত্তিতে এই দুই সামরিক বলয়ের যেকোনো একটিতে যোগ দিতে বাধ্য হয়। তৃতীয়ত, এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোও এই স্নায়ুযুদ্ধের প্রভাব থেকে মুক্ত ছিল না। পরাশক্তিগুলো তাদের প্রভাব বিস্তারের জন্য বিভিন্ন দেশে প্রক্সি যুদ্ধ বা পরোক্ষ সংঘাতে লিপ্ত হয়। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পূর্ব পর্যন্ত এই দ্বিমেরু বিশ্বব্যবস্থা বজায় ছিল। পরিশেষে বলা যায়, স্নায়ুযুদ্ধ কেবল দুটি রাষ্ট্রের দ্বন্দ্ব ছিল না, বরং এটি সমগ্র বিশ্বকে পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্র, এই দুই বিপরীতমুখী শিবিরে বিভক্ত করে বিশ্ব রাজনীতিকে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে অস্থির করে রেখেছিল।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenনির্বাচনী পরীক্ষা - Chattogram College

$\begin{array}{|l|c|} \hline \textbf{'ক' রাষ্ট্র} & \textbf{'খ' রাষ্ট্র} \\ \hline \text{পুঁজিবাদী আদর্শে বিশ্বাসী} & \text{কমিউনিজম আদর্শে বিশ্বাসী} \\ \hline \text{গণতন্ত্র উপস্থিত} & \text{গণতন্ত্র নেই} \\ \hline \text{NATO গঠন} & \text{WARSAW গঠন} \\ \hline \end{array}$

ক. ন্যাটো (NATO) কবে গঠিত হয়? খ. মার্শাল পরিকল্পনা (Marshall Plan) কী? গ. উদ্দীপকে 'ক' ও 'খ' রাষ্ট্রের দ্বন্দ্ব কোন বিষয়কে ইঙ্গিত করে? এবং উক্ত দ্বন্দ্বের মূল কারণগুলো আলোচনা কর। ঘ. "উক্ত মতাদর্শগত দ্বন্দ্বটি সমগ্র বিশ্বকে দুটি পৃথক শিবিরে বিভক্ত করে" - পর্যালোচনা কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

‘NATO’ এর পূর্ণরূপ কী ?

NATO সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?

SEATO কত খ্রিষ্টাব্দে গঠিত হয় ?

আদর্শগত বিরোধ থাকলে অনেক সময় বন্ধুর সাথে বন্ধুর দ্বন্দ্ব। লেগে যায়। স্বপন ও সুদীপ্তর ক্ষেত্রে সেটিই ঘটেছিল। স্বপন সাম্...

আদর্শগত বিরোধ থাকলে অনেক সময় বন্ধুর সাথে বন্ধুর দ্বন্দ্ব লেগে যায়। স্বপন সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদের অনুসারী। অপরদিকে, স...

আধিপত্য বিস্তার ও কিছু আদর্শগত বিরোধকে কেন্দ্র করে ফুলবাড়ী ইউনিয়নের দুটি গ্রামের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ও সাংঘর্ষিত পরিস্...

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুটি দেশের মধ্যে প্রবল যুদ্ধের সম্ভাবনা দেখা দেয়। আগে থেকেই তাদের মধ্যে মতাদর্শগত দ্বন্দ্...

ইনকিলাব একটি দেশের রাজনৈতিক সংগঠন। এ সংগঠনের আদর্শ বিশ্বাসীরা তাদের দলের রাজনৈতিক আদর্শ ও দর্শন বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রে...

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন দুটি বিবদমান রাষ্ট্র। এ দুটি রাষ্ট্রের সংঘাত আরব-ইসরায়েল সংঘাত নামে পরিচিত। এ সংঘাতে দেশি-বিদেশি অ...

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও : 'ক' ও 'খ' বিপরীত মতাদর্শের দুটি দেশ। কিন্তু দেশ দুটি পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হওয়...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।