Facebook Pixel

সম্প্রতি কাশ্মির সীমান্তের সমস্যা নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। দুটি দেশের শাসকগোষ্ঠী একে অপরের বিরুদ্ধে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করে। দুটি দেশের প্রচার মাধ্যমগুলোও পরস্পরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায়। দুটি দেশের জনগণ যুদ্ধের আশঙ্কায় সময় কাটায়। দেশ দুটির সেনাবাহিনী সামরিক মহড়া দিলেও শেষপর্যন্ত যুদ্ধ হয়নি। ক. ‘NATO’-এর পূর্ণরূপ কী? খ. ‘গ্লাসনস্ত’ বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টির সাথে তোমার পাঠ্যপুস্তকের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী কোন বিষয়ের মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর। ঘ. “উক্ত বিষয়টি সমগ্র বিশ্বকে দুটি পৃথক শিবিরে বিভক্ত করে।”—উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ কর।

বিষয়: ইতিহাস ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৭ঃ স্নায়ুযুদ্ধঃ পুঁজিবাদ ও সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের দ্বন্দ্ব

উৎস: Board Exam Question Combined 2018

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) 'NATO'-এর পূর্ণরূপ হলো North Atlantic Treaty Organization. (খ) 'গ্লাসনস্ত' (Glasnost) বলতে সোভিয়েত ইউনিয়নের শেষ নেতা মিখাইল গর্বাচেভ প্রবর্তিত 'খোলামেলা নীতি' বা 'স্বচ্ছতা নীতি'কে বোঝায়। আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের স্থবির অর্থনীতি ও রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে তিনি এই সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করেন। এই নীতির মাধ্যমে সোভিয়েত নাগরিকদের বাকস্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং সরকারি কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানার অধিকার প্রদান করা হয়। এর ফলে দীর্ঘদিনের কঠোর সেন্সরশিপের অবসান ঘটে এবং জনগণ কমিউনিস্ট পার্টির বিভিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুতি ও অর্থনৈতিক দুরবস্থা নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করার সুযোগ পায়। (গ) উদ্দীপকে বর্ণিত ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার উত্তপ্ত পরিস্থিতি এবং যুদ্ধের আশঙ্কার সাথে আমার পাঠ্যপুস্তকের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী 'স্নায়ুযুদ্ধ' (Cold War)-এর পরিস্থিতির মিল পাওয়া যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে আদর্শগত দ্বন্দ্বের কারণে স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা হয়। উদ্দীপকে যেমন ভারত ও পাকিস্তান সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়েও একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক মহড়া, উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় এবং অপপ্রচার চালিয়েছে, স্নায়ুযুদ্ধের সময়ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন সরাসরি কোনো বৃহৎ যুদ্ধে লিপ্ত না হয়েও বিশ্বজুড়ে একে অপরের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা চালিয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন মিত্রশক্তির ঐক্য ভেঙে যাওয়ার পর রাশিয়া তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পূর্ব ইউরোপে প্রভাব বিস্তার শুরু করে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আতঙ্কিত করে তোলে। ফলে ট্রুম্যান ডকট্রিন ও মার্শাল প্ল্যানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সোভিয়েত প্রভাব ঠেকানোর নীতি গ্রহণ করে, যা উদ্দীপকের দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মতোই বিশ্বজুড়ে এক অস্থির পরিবেশ তৈরি করেছিল। (ঘ) “উক্ত বিষয়টি সমগ্র বিশ্বকে দুটি পৃথক শিবিরে বিভক্ত করে”, উক্তিটি যথার্থ। স্নায়ুযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিশ্ব রাজনীতি সত্যিই দুই মেরুতে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পুঁজিবাদী গণতান্ত্রিক দেশগুলোর নেতৃত্ব গ্রহণ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর নেতৃত্ব গ্রহণ করে সোভিয়েত ইউনিয়ন। উদ্দীপকে বর্ণিত ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার উত্তেজনার মতো স্নায়ুযুদ্ধের সময়ও বিশ্বজুড়ে দেশগুলো এই দুই পরাশক্তির যেকোনো একটির পক্ষ নিতে বাধ্য হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার প্রভাব বিস্তারের জন্য ন্যাটো (NATO) গঠন করে এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন এর বিপরীতে ওয়ারশ চুক্তি (Warsaw Pact) গঠন করে। এই বিভাজন কেবল সামরিক জোটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা অর্থনৈতিক ও আদর্শগতভাবেও বিশ্বকে দুই ভাগে ভাগ করে ফেলেছিল। একদিকে ছিল মার্কিন নেতৃত্বাধীন পুঁজিবাদী ব্লক, যারা মুক্তবাজার অর্থনীতি ও গণতন্ত্রের কথা বলত; অন্যদিকে ছিল সোভিয়েত নেতৃত্বাধীন সমাজতান্ত্রিক ব্লক, যারা রাষ্ট্রীয় মালিকানা ও সমাজতন্ত্রের আদর্শ প্রচার করত। জার্মানির বিভক্তি, কোরীয় যুদ্ধ এবং ভিয়েতনামের সংঘাতের মতো ঘটনাগুলো এই দ্বিমেরু বিভাজনেরই বহিঃপ্রকাশ ছিল। ১৯৯০ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পূর্ব পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী এই স্নায়ুযুদ্ধ সমগ্র বিশ্বকে দুটি পৃথক শিবিরে বিভক্ত করে রেখেছিল। সুতরাং, উদ্দীপকের পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে বলা যায় যে, স্নায়ুযুদ্ধ বিশ্বকে দুটি পৃথক শিবিরে বিভক্ত করার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিল।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenCombined Board (2018)

সম্প্রতি কাশ্মির সীমান্তের সমস্যা নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। দুটি দেশের শাসকগোষ্ঠী একে অপরের বিরুদ্ধে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করে। দুটি দেশের প্রচার মাধ্যমগুলোও পরস্পরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায়। দুটি দেশের জনগণ যুদ্ধের আশঙ্কায় সময় কাটায়। দেশ দুটির সেনাবাহিনী সামরিক মহড়া দিলেও শেষপর্যন্ত যুদ্ধ হয়নি।

ক. ‘NATO’-এর পূর্ণরূপ কী?

খ. ‘গ্লাসনস্ত’ বলতে কী বোঝায়?

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টির সাথে তোমার পাঠ্যপুস্তকের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী কোন বিষয়ের মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. “উক্ত বিষয়টি সমগ্র বিশ্বকে দুটি পৃথক শিবিরে বিভক্ত করে।”—উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

beginarray|l|c| hline textbf'ক' রাষ্ট্র & textbf'খ' রাষ্ট্র hline textপুঁজিবাদী আদর্শে বিশ্বাসী & textকমিউনিজম আদর্শে ব...

‘NATO’ এর পূর্ণরূপ কী ?

NATO সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?

SEATO কত খ্রিষ্টাব্দে গঠিত হয় ?

আদর্শগত বিরোধ থাকলে অনেক সময় বন্ধুর সাথে বন্ধুর দ্বন্দ্ব। লেগে যায়। স্বপন ও সুদীপ্তর ক্ষেত্রে সেটিই ঘটেছিল। স্বপন সাম্...

আদর্শগত বিরোধ থাকলে অনেক সময় বন্ধুর সাথে বন্ধুর দ্বন্দ্ব লেগে যায়। স্বপন সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদের অনুসারী। অপরদিকে, স...

আধিপত্য বিস্তার ও কিছু আদর্শগত বিরোধকে কেন্দ্র করে ফুলবাড়ী ইউনিয়নের দুটি গ্রামের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ও সাংঘর্ষিত পরিস্...

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুটি দেশের মধ্যে প্রবল যুদ্ধের সম্ভাবনা দেখা দেয়। আগে থেকেই তাদের মধ্যে মতাদর্শগত দ্বন্দ্...

ইনকিলাব একটি দেশের রাজনৈতিক সংগঠন। এ সংগঠনের আদর্শ বিশ্বাসীরা তাদের দলের রাজনৈতিক আদর্শ ও দর্শন বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রে...

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন দুটি বিবদমান রাষ্ট্র। এ দুটি রাষ্ট্রের সংঘাত আরব-ইসরায়েল সংঘাত নামে পরিচিত। এ সংঘাতে দেশি-বিদেশি অ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।