Facebook Pixel

সাব্বির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে বিষয়টিতে অধ্যয়ন করছে তা ১৯৫৭সালে ইউনেস্কোর সহযোগিতায় স্বতন্ত্র বিষয় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। উক্ত বিষয়টির বিকাশে একজন চিন্তাবিদের অবদান অনস্বীকার্য। যাকে বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের জনক বলা হয়। ক. কত সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়? খ. "সমাজবিজ্ঞান হচ্ছে সামাজিক সম্পর্কের বিজ্ঞান"-বুঝিয়ে লেখ। গ. সাব্বিরের অধ্যয়নের বিষয়টির বিকাশধারা বর্ণনা কর। ঘ. উদ্দীপকে যে চিন্তাবিদের কথা বলা হয়েছে তার অবদান মূল্যায়ন কর।

বিষয়: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চার বিকাশ

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯২১ সালে। খ. সমাজবিজ্ঞান পাঠে সমাজে বসবাসকারী মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করা যায়। সমাজবিজ্ঞান সমাজকাঠামো তথা ব্যক্তি, গোষ্ঠী এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠান-প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক সম্পর্ক, ভূমিকা, কার্যক্রম সম্পর্কে পঠন-পাঠন ও গবেষণা করে। এছাড়াও সমাজ, সমাজের শ্রেণিবিন্যাস, শ্রেণিসমূহের পাম্পরিক সম্পর্ক, উৎপাদনযন্ত্রের সাথে তাদের সম্পর্ক, প্রভৃতি বিষয় নিয়েও সমাজবিজ্ঞান আলোচনা ও পর্যালোচনা করে থাকে। অর্থাৎ একথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, সমাজবিজ্ঞান সমাজ সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিষয় এবং তাদের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ণয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণ করে থাকে। এলক্ষে সমাজবিজ্ঞানকে সামাজিক সম্পর্কের বিজ্ঞান বলা হয়ে থাকে। গ. উদ্দীপকের সাব্বিরের পঠিত বিষয়টি হচ্ছে সমাজবিজ্ঞান। নিম্নে সমাজবিজ্ঞানের বিকাশ ধারা বর্ণনা করা হলো : উদ্দীপকের সাব্বির যে বিষয়ে অধ্যয়ন করছে, সেটি ১৯৫৭-৫৮ শিক্ষাবর্ষে ইউনেস্কোর সহযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে যাত্রা শুরু করে। বস্তুত, ১৯৫৭-৫৮ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ টি আনুষ্ঠানিকভাবে যেতে যাত্রা শুরু করে। তাই উদ্দীপকে রাজুর পঠিত বিষয়টি হচ্ছে সমাজবিজ্ঞান। আর বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের বিকাশ দ্বারা একটি ধারাবাহিক ও সুদীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। তৎকালীন ভারতীয় উপমহাদেশে ১৯১৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষা ও গবেষণা শুরু হয়। তবে সেসময় এটি স্বতন্ত্র একটি বিষয় হিসেবে পঠিত না হয়ে অর্থনীতিবিভাগের এমএ কোর্সের একটি পত্র হিসেবে অধ্যয়ন করা হতো। ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বর্তমান বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চার নতুন ধার উন্মোচিত হয়। প্রথমদিকে ১৯২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে দর্শন বিভাগের এমএ কোর্সে সমাজ বিজ্ঞান পঠন শুরু হয়। এছাড়াও পরবর্তীতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের আওতায় ও সমাজবিজ্ঞানের কিছু বিষয় পড়ানো হতো। অবশেষে ইউনেস্কো ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় ১৯৫৭-৫৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান একটি স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে এ যাত্রা শুরু করে। ঘ. উদ্দীপকে যে চিন্তাবিদের কথা বলা হয়েছে তিনি হলেন ড. এ. কে. নাজমুল করিম। নিম্নে তার অবদান মূল্যায়ন করা হলো : ১৯৫৪ সালে ইউনেস্কো বিশেষজ্ঞ ও সামাজিক নৃবিজ্ঞানী অধ্যাপক বাংলাদেশ ক্লদ লেভি স্ট্রস বাংলাদেশে সফরে আসলে অধ্যাপক ডক্টর এ কে নাজমুল করিম এবং অধ্যাপক অজিত কুমার সেন তার সাথে দেখা করেন। এ সময় তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমাজবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ইউনেস্কোর সহযোগিতা কামনা করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৫৭-৫৮ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান নামে একটি স্বতন্ত্র বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠায় এ. কে. নাজমুল করিমের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাকে বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের জনক বলা হয়। অধ্যাপক নাজমুল করিম প্রথম বাঙালি চিন্তাবিদ হিসেবে সমাজবিজ্ঞানের উপর একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ রচনা করেন। তার লিখিত Changing Society in India, Pakistan, Bangladesh গ্রন্থটি এখনো সমাজবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক পুস্তক হিসেবে সবার কাছে সমাদৃত। এছাড়াও তিনি সমাজবিজ্ঞান বিষয়ক The Dynamics of Bangladesh, সমাজবিজ্ঞান সমীক্ষণ ইত্যাদি গ্রন্থ রচনা করেন। অধ্যাপক নাজমুল করিমে নিজের এবং তার ছাত্র-ছাত্রীদের ঐকান্তিক সাধনার ফলেই এদেশে সমাজবিজ্ঞানের পঠন পাঠন ও আলোচনা বিস্তৃতি লাভ করেছে। সমাজবিজ্ঞানের বিকাশে বিভাগীয় জাদুঘর প্রতিষ্ঠা, মনোগ্রাফ লেখার ব্যবস্থা, গ্রামীণ প্রশ্নমালা পূরণের কার্যক্রম সবই তার অবদান। তাই বলা যায়, বাংলাদেশের সমাজ বিজ্ঞানের প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশে অধ্যাপক নাজমুল করিমের অবদান অপরিসীম।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

সাব্বির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে বিষয়টিতে অধ্যয়ন করছে তা ১৯৫৭সালে ইউনেস্কোর সহযোগিতায় স্বতন্ত্র বিষয় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। উক্ত বিষয়টির বিকাশে একজন চিন্তাবিদের অবদান অনস্বীকার্য। যাকে বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।

ক.

কত সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়?

খ.

"সমাজবিজ্ঞান হচ্ছে সামাজিক সম্পর্কের বিজ্ঞান"-বুঝিয়ে লেখ।

গ.

সাব্বিরের অধ্যয়নের বিষয়টির বিকাশধারা বর্ণনা কর।

ঘ.

উদ্দীপকে যে চিন্তাবিদের কথা বলা হয়েছে তার অবদান মূল্যায়ন কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।