Facebook Pixel

স্বাধীনতা লাভের পর মালয়েশিয়ার সরকারপ্রধান রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য একটি সংবিধান প্রণয়ন করেন। নাগরিকদের সামাজিক, রাজনৈতিক, দলীয় ও অর্থনৈতিক অধিকার রক্ষা এবং সকল রাজনৈতিক দল তথা সম্প্রদায়কে একটি স্বাভাবিক পরিবেশে তাদের কর্ম পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্যে রাষ্ট্রের অভিজ্ঞ ব্যক্তিগণ ও বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি লিখিত সংবিধান প্রণয়ন করা হয়। ফলে নাগরিক অধিকার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ক. মদিনার পূর্ব নাম কি ছিল? খ. হিজরত ও দেশত্যাগের মধ্যে পার্থক্য কি? বুঝিয়ে লেখ। গ. সংবিধান প্রণয়নে উদ্দীপকের সরকার প্রধান মহানবী (সাঃ) এর কোন কর্মকান্ডকে অনুসরণ করে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সরকারপ্রধান কর্তৃক লিখিত সংবিধান প্রণয়ন অপেক্ষা মহানবি (সাঃ) কর্তৃক গৃহীত কর্মকান্ড অধিক তাৎপর্যপূর্ণ - বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. মদিনার পূর্ব নাম হল ইয়াসরিব। খ. হিজরত এবং দেশত্যাগের মধ্যে মৌলিক কিছু পার্থক্য রয়েছে। হিজরত ও দেশত্যাগ একই অর্থ ধারণ করে। এর অর্থ এক দেশ বা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়া। কিন্তু উদ্দেশ্যের দিক দিয়ে দুটি ভিন্ন বিষয়। দেশত্যাগ যে কোনো বৈষয়িক বা পার্থির উদ্দেশ্যে সাধনে হতে পারে। কিন্তু হিজরত শব্দটির সাথে ইসলাম প্রচার বা প্রসারের বিষয়টি জড়িয়ে আছে। রাসূল (সাঃ) ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে বিরোধীদের চরম নির্যাতনের শিকার হয়ে হিজরত করতে বাধ্য হয়েছিল। বর্তমান সময়ে যদি অনুরূপ পরিস্থিতিতে বা উদ্দেশ্যে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয় তবে তা হিজরত বলে গণ্য হবে। গ. সংবিধান প্রণয়নে উদ্দীপকের সরকার প্রধান মহানবী (সাঃ) এর যে যে কর্মকান্ডকে অনুসরণ করে নিম্নে তা ব্যাখ্যা করা হলো : মদিনায় হিজরতের পর মহানবী (সা.) মদিনায় বিরাজমান অশান্তি এবং বিশৃঙ্খলা দেখে মদিনা রাষ্ট্রকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সংবিধান প্রণয়ন করেন। উদ্দীপকেও মালয়েশিয়ার সদ্য স্বাধীন হওয়ায় তাদের রাষ্ট্র পরিচালনার ছিলনা কোন সুস্পষ্ট বিধান। তাই তারা রাষ্ট্রকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সংবিধান প্রণয়ন করেন। মহানবীর হিজরত কালীন সময়ে মদিনায় সামাজিক বিশৃঙ্খলা ছিল। তখন মানুষের অধিকার নিশ্চিত হতো না। ক্ষমতাশালীরা দুর্বল, অসহায় ও এতিমদের উপর অত্যাচার চালাত। যার ফলে তখন মানুষের তেমন কোন অধিকার প্রতিষ্ঠিত ছিল না। তাই মহানবী মদিনা সনদের সকলের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। উদ্দীপকেও নাগরিকদের সামাজিক, রাজনৈতিক, দলীয় ও অর্থনৈতিক অধিকার রক্ষা এবং সকল রাজনৈতিক দল তথা সম্প্রদায়কে একটি স্বাভাবিক পরিবেশে তাদের কর্ম পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্যে সংবিধান প্রণয়ন করেন। যেহেতু মদিনায় সে সময় গোত্রভিত্তিক শাসন ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল, তাই মহানবী সকল গোত্র থেকেই তাদের প্রতিনিধি নিয়ে তাদের মতামতের সমন্বয়ে মদিনা সনদ প্রণয়ন করেন। উদ্দীপকেও রাষ্ট্রের অভিজ্ঞ ব্যক্তিগণ ও বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সংবিধানটি প্রণয়ন করা হয়েছে।উপর্যুক্ত আলোচনা অনুসারে বলা যায়, সংবিধান প্রণয়নে উদ্দীপকের সরকার মহানবীর রাষ্ট্র সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা, সকল নাগরিকের অধিকার রক্ষা ও সকলের মতামতের ভিত্তিতে সংবিধান প্রণয়নের কর্মকান্ডকে অনুসরণ করেছে। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সরকারপ্রধান কর্তৃক লিখিত সংবিধান প্রণয়ন অপেক্ষা মহানবি (সাঃ) কর্তৃক গৃহীত কর্মকান্ড অধিক তাৎপর্যপূর্ণ - নিম্নে উক্তিটি বিশ্লেষণ করা হলো : উদ্দীপকের মালয়েশিয়ার সংবিধান প্রণয়নের ফলে মালয়েশিয়ার জনগণের অধিকার সুনিশ্চিত হয়েছিল। এছাড়াও সদ্য স্বাধীন এই দেশে তাদের বিভিন্ন তাদের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেওয়া হয় যার ফলে নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অপরদিকে মদিনা সনদ ছিল আরবের সর্বক্ষেত্রে সাধনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কেননা সে সময় আরবে ছিল বিশৃঙ্খলা, অশান্তি ও অরাজকতা। উদ্দীপকের সরকার সদ্য স্বাধীনতা লাভ করায় তাদের মধ্যে অমিলের সম্ভাবনা কম ছিল। কিন্তু মদিনায় তখন ছিল গোত্র ভিত্তিক শাসন ব্যবস্থা। আর সকল গোত্র ছিল নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব কলহে লিপ্ত। তাই তাদেরকে মীমাংসা করে মদিনা সনদ প্রণয়ন তুলনামূলক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। তাছাড়া যেহেতু উদ্দীপকে স্বাধীনতা লাভ করা ছিল তাই তাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন ছিল। কিন্তু মদিনার গোত্র গুলোর মধ্যে সেটি ছিল না। বরং মদিনা সনদে সাক্ষর করেই তারা যুদ্ধ সংঘর্ষ বন্ধ হওয়ার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়। একই সাথে বিপদে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়। এছাড়াও মদিনায় মুসলিম এবং অমুসলিমদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি সকল যুদ্ধ কলহ বন্ধ হওয়ায় জনগণের জান মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। একই সালে প্রভাবশালীদের অত্যাচার বন্ধ হয়। ইমোতে দিয়ে মদিনায় রাজনৈতিক ঐক্য সৃষ্টি হয়। আর এই মদিনা সনদের মধ্য দিয়েই মদিনায় আল্লাহর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা হয় এবং ইসলামী শাসনতন্ত্র কায়েম হয়। ফলে অতি দ্রুত ইসলামের ব্যাপক প্রচার ও প্রসার হয়, যা ইসলামকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বলা যায়, "উদ্দীপকে উল্লিখিত সরকারপ্রধান কর্তৃক লিখিত সংবিধান প্রণয়ন অপেক্ষা মহানবি (সাঃ) কর্তৃক গৃহীত কর্মকান্ড অধিক তাৎপর্যপূর্ণ" উক্তিটি যথার্থ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

স্বাধীনতা লাভের পর মালয়েশিয়ার সরকারপ্রধান রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য একটি সংবিধান প্রণয়ন করেন। নাগরিকদের সামাজিক, রাজনৈতিক, দলীয় ও অর্থনৈতিক অধিকার রক্ষা এবং সকল রাজনৈতিক দল তথা সম্প্রদায়কে একটি স্বাভাবিক পরিবেশে তাদের কর্ম পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্যে রাষ্ট্রের অভিজ্ঞ ব্যক্তিগণ ও বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি লিখিত সংবিধান প্রণয়ন করা হয়। ফলে নাগরিক অধিকার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। 

ক.

মদিনার পূর্ব নাম কি ছিল? 

খ.

হিজরত ও দেশত্যাগের মধ্যে পার্থক্য কি? বুঝিয়ে লেখ। 

গ.

সংবিধান প্রণয়নে উদ্দীপকের সরকার প্রধান মহানবী (সাঃ) এর কোন কর্মকান্ডকে অনুসরণ করে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত সরকারপ্রধান কর্তৃক লিখিত সংবিধান প্রণয়ন অপেক্ষা মহানবি (সাঃ) কর্তৃক গৃহীত কর্মকান্ড অধিক তাৎপর্যপূর্ণ - বিশ্লেষণ কর। 

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

United Nations General Assembly ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার সনদ ঘোষণা করে। এ সনদের উল্লিখিত ধারাসমূহে বিশ্বের প্রত...

ক. মদিনার পূর্বনাম কী ছিল? খ. মদিনা সনদকে বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধান বলা হয় কেন? গ. উল্লিখিত ছকে মহানবি (স)-এর জীবনের ক...

মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে আল-আমিন বলা হয়, কারণ তিনি-

United Nations General Assembly ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার সনদ ঘোষণা করে। এ সনদে উল্লিখিত ধারাসমূহে বিশ্বের প্রতি...

অটোমান সুলতান বায়েজিদ অঙ্গোরার প্রান্তরে তৈমুর লঙ্গের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মোকাবিলা করেন। যুদ্ধে বায়েজিদ অনেক সৈন্য বিশ্বাস...

অমুসলিমদের থেকে প্রাপ্ত নিরাপত্তা করকে কী বলে

আকাবার প্রথম শপথ কত খ্রিষ্টাব্দে অনুষ্ঠিত হয়?

আকাবার প্রথম শপথে কত জন মদিনাবাসী ছিলেন?

আকাবার শপথ মোট কতবার অনুষ্ঠিত হয়?

আক্কাশ আলী তার এলাকার পথভ্রষ্টকারী মানুষের অত্যাচারের কারণে আপন লোকজন নিয়ে অন্যত্র চলে যায়। বেশ কিছুদিন পরে প্রতিষ্ঠিত...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।