Facebook Pixel

সদ্য স্বাধীনতা প্রাপ্ত দেশ হংকং। স্বাধীনতা লাভের পর দেশটির নেতা রাষ্ট্রের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কিত ৪৭ টি ধারা সমন্বয়ে একটি সংবিধান প্রণয়ন করেন, যা রাষ্ট্রে সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টিতে অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। ক. মদিনার পূর্ব নাম কি? খ. 'হিলফুল ফুজুল' বলতে কি বুঝ? ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সংবিধানের সাথে মহানবী (সা.) কর্তৃক গৃহীত কোন পদক্ষেপের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকের আলোকে মহানবী (সা.) কর্তৃক গৃহীত সংবিধানের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)

উৎস: Board Exam Question CB 2022

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. মদিনার পূর্ব নাম ইয়াসরিব। খ. হিলফুল ফুজুল বলতে কিশোর বয়সে মহানবী (সাঃ) প্রতিষ্ঠিত একটি শান্তিসংঘকে বোঝায়। মহানবী (সাঃ) ছিলেন শান্তির দূত। বালক বয়সে তিনি পাঁচ বছর ধরে চলা হারবুল ফিজার যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখেন। যুদ্ধের রক্তপাত ও মানুষের দুর্ভোগ দেখে কিশোর মুহাম্মদ (সাঃ) এর অন্তর কেঁদে উঠলো। এর পরিপ্রেক্ষিতেই তিনি সমমনা কয়েকজন উৎসাহী তরুণ-যুবক ও পিতৃব্য যুবাইরকে নিয়ে ৫৯০ খ্রিস্টাব্দে গড়ে তুলেছিলেন হিলফুল ফুজুল নামের শান্তিসংঘটি। এতে গোত্রীয় যুদ্ধের অবসান সহ সমাজের শান্তি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা মানুষের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষা কাজ করতো। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সংবিধানের সাথে মহানবী (সা.) কর্তৃক গৃহীত মদিনা সনদের সাথে মিল রয়েছে। নিম্নে তা ব্যাখ্যা করা হলো : একটি দেশ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার মূল চাবিকাঠি হচ্ছে সংবিধান। আর তাই যে কোন দেশ স্বাধীনতা লাভের পর তাদের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ইত্যাদি নিশ্চিত করে একটি সংবিধান প্রণয়ন করে। উদ্দীপকেও হংকং সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত একটি দেশ। আর স্বাধীনতা লাভের পর রাষ্ট্রের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও দায়িত্ব কর্তব্য সম্পর্কিত একটি সংবিধান প্রণয়ন করেন দেশটির নেতা। সংবিধানটি কে ছিল ৪৭ টি ধারা। আর এই সংবিধানটি রাষ্ট্রে সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টিতে অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। মহানবী (সা.) মদিনায় ইসলামী রাষ্ট্র গঠনের পর মদিনায় বসবাসরত বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য ও সদ্ভাব গড়ে তোলা এবং সবার অধিকার রক্ষার উদ্দেশ্যে মদিনা সনদ প্রণয়ন করেন। ৬২২ খ্রিস্টাব্দে মহানবী (সা.) হিজরতের পর মদিনা ও তার আশেপাশে বসবাসকারী মুসলিম, ইহুদি, খ্রিস্টান ও পৌত্তলিকদের মধ্যে সম্প্রীতি স্থাপনের লক্ষ্যে সব গোষ্ঠীর জন্য একটি সনদ প্রণয়ন করেন, যা মদিনা সনদ হিসেবে পরিচিতি পায়। আর এই মদিনা সনদ বা সংবিধান মদিনার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের মতামতের ভিত্তিতে প্রণয়ন করেন। তিনি মদিনাকে প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করেন এবং একই সাথে সকল সম্প্রদায়কে নিয়ে একটি সাধারণ জাতি গঠন করে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করেন। সনদে প্রত্যেকপর ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা এবং অসহায় ও দুর্বলদের সহযোগিতার বিধান রেখেছিলেন তিনি। এ সংবিধানের মাধ্যমে তিনি মদীনায় বসবাসরত সকল সম্প্রদায়কে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ করেন এবং একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে সক্ষম হন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত সংবিধানের সাথে মহানবী (সা.) কর্তৃক গৃহীত মদিনা সনদের সাথে মিল রয়েছে। ঘ. উদ্দীপকের আলোকে নিম্নে মদিনা সনদের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো : মহানবী (সা.) মদিনায় হিজরতের সময় মদিনার রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা ছিল শোচনীয়। মদিনা সনদ প্রণয়নের মাধ্যমে মহানবী মদিনার রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার সংস্কার সাধন করেন। উদ্দীপকের সংবিধানের মাধ্যমে ও সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল। মদিনা সনদের ফলে ও মদিনায় রাজনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন হয়েছিল। মদিনা ও তার আশেপাশে বসবাসকারী মুসলিম, ইহুদি, খ্রিস্টান ও পৌত্তলিকদের মধ্যে সম্প্রীতি স্থাপনের লক্ষ্যে সব গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের মতামতের ভিত্তিতে মদিনা সনদ প্রণয়ন করেন। মদিনা সনদ প্রণয়নের পর বিভিন্ন গোত্রের মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিরসন হয়। এছাড়াও একই সাথে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি হিংসা, বিদ্বেষ ও কলহ ভুলে বিপদে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়। এসময় দীর্ঘদিন ধরে বিবাদে লিপ্ত আউস ও খাযরাজ গোত্রসহ সবার মধ্যে দ্বন্দ্বের নিরসন হয়। এছাড়াও এর মাধ্যমে মদিনায় গোত্রভিত্তিক শাসন ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়। ফলে মদিনায় আল্লাহর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় এবং মহানবী (সা.) ইসলামের শাসনতন্ত্র কায়েম করেন। এভাবে মহানবী (সা.) মদিনা সনদ প্রণয়নের মাধ্যমে মদিনায় রাজনৈতিক পরিবেশ সুস্থিতিশীল করেন। এর ফলে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় এবং যুদ্ধের প্রবণতা হ্রাস পায়। তাই বলা যায়, মদিনায় জাতীয় ঐক্য গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে মদিনা সনদের গুরুত্ব অপরিসীম।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenCumilla Board (2022)

সদ্য স্বাধীনতা প্রাপ্ত দেশ হংকং। স্বাধীনতা লাভের পর দেশটির নেতা রাষ্ট্রের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কিত ৪৭ টি ধারা সমন্বয়ে একটি সংবিধান প্রণয়ন করেন, যা রাষ্ট্রে সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টিতে অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে।

ক.

মদিনার পূর্ব নাম কি?

খ.

'হিলফুল ফুজুল' বলতে কি বুঝ? ব্যাখ্যা কর।

গ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত সংবিধানের সাথে মহানবী (সা.) কর্তৃক গৃহীত কোন পদক্ষেপের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উদ্দীপকের আলোকে মহানবী (সা.) কর্তৃক গৃহীত সংবিধানের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

United Nations General Assembly ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার সনদ ঘোষণা করে। এ সনদের উল্লিখিত ধারাসমূহে বিশ্বের প্রত...

ক. মদিনার পূর্বনাম কী ছিল? খ. মদিনা সনদকে বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধান বলা হয় কেন? গ. উল্লিখিত ছকে মহানবি (স)-এর জীবনের ক...

মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে আল-আমিন বলা হয়, কারণ তিনি-

United Nations General Assembly ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার সনদ ঘোষণা করে। এ সনদে উল্লিখিত ধারাসমূহে বিশ্বের প্রতি...

অটোমান সুলতান বায়েজিদ অঙ্গোরার প্রান্তরে তৈমুর লঙ্গের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মোকাবিলা করেন। যুদ্ধে বায়েজিদ অনেক সৈন্য বিশ্বাস...

অমুসলিমদের থেকে প্রাপ্ত নিরাপত্তা করকে কী বলে

আকাবার প্রথম শপথ কত খ্রিষ্টাব্দে অনুষ্ঠিত হয়?

আকাবার প্রথম শপথে কত জন মদিনাবাসী ছিলেন?

আকাবার শপথ মোট কতবার অনুষ্ঠিত হয়?

আক্কাশ আলী তার এলাকার পথভ্রষ্টকারী মানুষের অত্যাচারের কারণে আপন লোকজন নিয়ে অন্যত্র চলে যায়। বেশ কিছুদিন পরে প্রতিষ্ঠিত...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।