Facebook Pixel

সাখাওয়াত ও স্বপন ক্লাসে প্রতিদিন পড়া শিখে আসে। একদিন আমিন স্যার যুক্তিবিদ্যার ক্লাসে সাখাওয়াতকে জিজ্ঞেস করেন, 'পদ মানে কী?' সাখাওয়াত জবাব দেয়, ‘যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত শব্দকে পদ বলে।' তখন স্বপন দাঁড়িয়ে বলল, 'পদ বলতে সরল-অসরল, জাত্যর্থক- অজাত্যর্থক, সাপেক্ষ-নিরপেক্ষ, সার্বিক-বিশেষ ইত্যাদি পদকেই বোঝানো হয়। যুক্তি গঠনের জন্য পদ সম্পর্কে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।' ক. যৌক্তিক সংজ্ঞা কাকে বলে? খ. চক্রক সংজ্ঞা কেন হয়? গ. সাখাওয়াতের কথায় পদের সম্পূর্ণ জাত্যর্থের উল্লেখ এসেছে— ব্যাখ্যা করো। ঘ. সাখাওয়াত ও স্বপনের কথাগুলোতে কি পদ সম্পর্কে একই ধরনের বিবৃতি প্রকাশ পেয়েছে? মন্তব্য দাও।

বিষয়: যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ যৌক্তিক সংজ্ঞা

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. কোন পদের সম্পূর্ণ জাত্যর্থের স্পষ্ট প্রকাশকে যৌক্তিক সংজ্ঞা বলে। খ. পদের সংজ্ঞায় অপরিহার্য গুণ উল্লেখ না করে সংজ্ঞেয় পদের সমার্থক শব্দ ব্যবহার করলে চক্রক সংজ্ঞা অনুপপত্তি ঘটে। সংজ্ঞার তৃতীয় নিয়মে বলা হয়েছে, কোনো পদের সংজ্ঞায় সংজ্ঞেয় পদের সমার্থক শব্দ ব্যবহার করা যাবে না। কারণ সংজ্ঞেয় পদের সমার্থক শব্দ ব্যবহার করলে কোনো বৈশিষ্ট্য বা গুণই প্রকাশ পায় না। বরং একই বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি ঘটে মাত্র। এর ফলে চক্রক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ঘটে। যেমন: 'বাতাস হয় পবন'। এখানে 'বাতাস' পদের কোনো গুণ প্রকাশ না করে এর প্রতিশব্দ (পবন) ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে চক্ৰক সংজ্ঞা অনুপপত্তি ঘটেছে। গ. সাখাওয়াতের কথায় যৌক্তিক সংজ্ঞা প্রকাশ পাওয়ায় পদের সম্পূর্ণ জাত্যর্থের উল্লেখ এসেছে। কোনো পদের জাত্যর্থের সম্পূর্ণ প্রকাশকে যৌক্তিক সংজ্ঞা বলে। যৌক্তিক সংজ্ঞার মাধ্যমে পদের অপরিহার্য অর্থ তথা জাত্যর্থ প্রকাশ পায়। কারণ সংজ্ঞা প্রদানের ক্ষেত্রে আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণ উল্লেখ করতে হয়। যেমন- ত্রিভুজ পদটির আসন্নতম জাতি হচ্ছে ‘সমতল ক্ষেত্র' এবং বিভেদক লক্ষণ হচ্ছে তিন বাহু দ্বারা বেষ্টিত হওয়া। এখন আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণ হিসেবে এ দুটি দিক উল্লেখ করলেই ত্রিভুজের অপরিহার্য অর্থ প্রকাশ পাবে। অর্থাৎ ত্রিভুজের সংজ্ঞা হচ্ছে 'ত্রিভুজ হয় তিন বাহু দ্বারা বেষ্টিত একটি সমতলক্ষেত্র।' এভাবে যৌক্তিক সংজ্ঞার মাধ্যমে পদের সম্পূর্ণ জাত্যর্থের প্রকাশ করা যায়। উদ্দীপকে দেখতে পাই, একদিন আমিন স্যার যুক্তিবিদ্যার ক্লাসে সাখাওয়াতকে জিজ্ঞেস করেন, ‘পদ মানে কী?' সাখাওয়াত জবাব দেয়, যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত শব্দকে পদ বলে । এখানে 'পদ' পদটির পূর্ণ জাত্যর্থ উল্লেখ করে সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে। তাই বলা যায়, সাখাওয়াতের কথায় পদের সম্পূর্ণ জাত্যর্থের উল্লেখ এসেছে। ঘ. সাখাওয়াত ও স্বপনের কথাগুলোতে পদ সম্পর্কে যাথাক্রমে যৌক্তিক সংজ্ঞা ও বর্ণনা প্রকাশ পাওয়ায় উভয়ের মধ্যে পদ সম্পর্কে ভিন্ন ধরনের বিবৃতি প্রকাশ পেয়েছে। যৌক্তিক সংজ্ঞা হচ্ছে যথার্থ যুক্তি গঠনের জন্য যুক্তিবাক্যে ব্যবহৃত পদসমূহের অর্থকে সুস্পষ্ট করে উপস্থাপন করার প্রক্রিয়া। অর্থাৎ যৌক্তিক সংজ্ঞার উদ্দেশ্য হলো পদের অর্থকে সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট করা। এ কারণে যৌক্তিক সংজ্ঞায় পদের পূর্ণ জাত্যর্থকে সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করা হয়। তাই সংজ্ঞা হয় সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট। এ কারণে সংজ্ঞা সবসময় একই হয়ে থাকে। তাই এটি একটি বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া। অন্যদিকে, বর্ণনায় উপলক্ষণ (Proprium) বা অবান্তর লক্ষণ (Accidens) উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট পদের বিবৃতি দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে পূর্ণ জাত্যর্থ উল্লেখ করা হয় না। বর্ণনা সুনির্ধারিত বা সুনির্দিষ্ট নয়। তাই বর্ণনা ব্যক্তিভেদে আলাদা হয় বলে এটি একটি লৌকিক প্রক্রিয়া । এ কারণে সংজ্ঞা ও বর্ণনা একটি থেকে অন্যটি পৃথক। উদ্দীপকেও দেখতে পাই, আমিন স্যার ক্লাসে সাখাওয়াতকে ‘পদ মানে কী’ জিজ্ঞেস করলে সে উত্তর দেয় 'যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত শব্দকে পদ বলে।' এখানে 'পদ' পদটির সম্পূর্ণ গুণ প্রকাশ পেয়েছে। তাই এটি যৌক্তিক সংজ্ঞা। কিন্তু স্বপন ‘পদ' এর সংজ্ঞায় বলে, 'পদ বলতে সরল-অসরল, জাত্যর্থক-অজাত্যর্থক, সাপেক্ষ-নিরপেক্ষ, সার্বিক-বিশেষ ইত্যাদি পদকেই বোঝানো হয়। যুক্তি গঠনের জন্য পদ সম্পর্কে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। এখানে 'পদ' এর বিভিন্ন প্রকার উল্লেখ করে সংজ্ঞা প্রদান করায় ‘বর্ণনা' প্রকাশ পেয়েছে। আলোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকের সাখাওয়াত্রে কথায় ‘যৌক্তিক সংজ্ঞা' ও স্বপনের কথাগুলোর দ্বারা 'বর্ণনা' প্রকাশ পাওয়ায় উভয় একে অন্য থেকে ভিন্ন।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

সাখাওয়াত ও স্বপন ক্লাসে প্রতিদিন পড়া শিখে আসে। একদিন আমিন স্যার যুক্তিবিদ্যার ক্লাসে সাখাওয়াতকে জিজ্ঞেস করেন, 'পদ মানে কী?' সাখাওয়াত জবাব দেয়, ‘যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত শব্দকে পদ বলে।' তখন স্বপন দাঁড়িয়ে বলল, 'পদ বলতে সরল-অসরল, জাত্যর্থক- অজাত্যর্থক, সাপেক্ষ-নিরপেক্ষ, সার্বিক-বিশেষ ইত্যাদি পদকেই বোঝানো হয়। যুক্তি গঠনের জন্য পদ সম্পর্কে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।'

ক.

যৌক্তিক সংজ্ঞা কাকে বলে?

খ.

চক্রক সংজ্ঞা কেন হয়?

গ.

সাখাওয়াতের কথায় পদের সম্পূর্ণ জাত্যর্থের উল্লেখ এসেছে— ব্যাখ্যা করো।

ঘ.

সাখাওয়াত ও স্বপনের কথাগুলোতে কি পদ সম্পর্কে একই ধরনের বিবৃতি প্রকাশ পেয়েছে? মন্তব্য দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

‘An Introduction to Logic’ গ্রন্থটি কার ?

Connotation শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ নিচের কোনটি?

'Defination 'শব্দটি কোন শব্দ থেকে উদ্ভূত?

ক. উল্লম্ফন বিভাগ কী? খ. যৌক্তিক বিভাগ কেন প্রয়োজন? ব্যাখ্যা করো। গ. ছক-১ এ যৌক্তিক বিভাগের কোন নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছে? ব্যাখ্...

ক. ব্যাখ্যা কী? খ. পরম নিয়মের ব্যাখ্যা দেওয়া যায় না কেন? ব্যাখ্যা কর। গ. দৃশ্যকল্প-১-এ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার যে রূপ প্রতিফ...

ক. যৌক্তিক বিভাগ কী? খ. ক্ষুদ্রতম উপজাতির যৌক্তিক বিভাগ সম্ভব নয় কেন? গ. ছক-১ এ কোন ধরনের বিভাগ অনুপপত্তি ঘটেছে? ব্যাখ্য...

অতিব্যাপক সংজ্ঞাকে ইংরেজিতে কী বলে?

অধিকাংশ পদের কয়টি দিক থাকে?

অনন্তের প্রতিচ্ছবির প্রবাহ হলো সময়।" কোন সংজ্ঞা?

'অনুপপত্তি' শব্দটির ইংরেজি নিচের কোনটি?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।