Facebook Pixel

শৌভিক ও নিলয় দুই দেশের বাসিন্দা। এরা বন্ধু হলেও আদর্শগত কারণে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব লেগেই আছে। একে অপরের বিরুদ্ধে চরমভাবে প্রচারণা চালায়। বিশ্বব্যাপী আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় উভয়ের মধ্যে প্রতিযোগিতা চরম আকার ধারণ করে। উভয়ের মধ্যে সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যায়। এদের মধ্যে কোনো প্রত্যক্ষ যুদ্ধ সংগঠিত হয়নি। ক. উইনস্টন চার্চিল কত সালে তাঁর বিখ্যাত 'ফুলটন বক্তৃতা' প্রদান করেন? খ. চার্চিলের ফুলটন বক্তৃতার মূল বক্তব্য কী ছিল? গ. উদ্দীপকে তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন দুটি দেশের আদর্শগত পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় - ব্যাখ্যা দাও। ঘ. উক্ত বিরোধিতার যে কোনো একটি পর্যায়ের বর্ণনা দাও।

বিষয়: ইতিহাস ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৭ঃ স্নায়ুযুদ্ধঃ পুঁজিবাদ ও সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের দ্বন্দ্ব

উৎস: Test Exam Question CVGC

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) ১৯৪৬ সালের ৫ মার্চ যুক্তরাজ্যের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল তাঁর বিখ্যাত 'ফুলটন বক্তৃতা' প্রদান করেন। (খ) চার্চিলের ফুলটন বক্তৃতার মূল বক্তব্য ছিল যে, সোভিয়েত ইউনিয়ন ইউরোপের দেশগুলোর ওপর এক ধরনের 'লৌহ যবনিকা' বা Iron Curtain টেনে দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, রাশিয়া শক্তি প্রয়োগ ব্যতীত অন্য কোনো ভাষা বোঝে না, তাই বিশ্বশান্তি রক্ষার জন্য রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া এবং শক্তি প্রয়োগের প্রস্তুতি রাখা প্রয়োজন। এই বক্তৃতাটি মূলত বিশ্বব্যাপী সমাজতান্ত্রিক প্রভাব বিস্তারের বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান ছিল, যা পরবর্তীতে স্নায়ুযুদ্ধের তীব্রতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। (গ) উদ্দীপকে বর্ণিত শৌভিক ও নিলয়ের আদর্শগত দ্বন্দ্ব মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর বিশ্বের দুই পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যকার আদর্শগত সংঘাতকে নির্দেশ করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পুঁজিবাদী ও গণতান্ত্রিক আদর্শের ধারক ছিল, অন্যদিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল সমাজতান্ত্রিক আদর্শের অনুসারী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মনে করত, সোভিয়েত সমাজতন্ত্র ব্যক্তি স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য হুমকি। বিপরীত দিকে, সোভিয়েত ইউনিয়ন মার্কিন নেতৃত্বাধীন পুঁজিবাদকে শোষক ও সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থা হিসেবে গণ্য করত। উদ্দীপকে শৌভিক ও নিলয়ের মধ্যে প্রত্যক্ষ যুদ্ধ না হলেও যে মনস্তাত্ত্বিক ও আদর্শগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা গেছে, তা এই দুই পরাশক্তির স্নায়ুযুদ্ধের মূল বৈশিষ্ট্য। (ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত স্নায়ুযুদ্ধের প্রথম পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো ১৯৪৯ সালে গঠিত 'ন্যাটো' (NATO) বা উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর ইউরোপে সোভিয়েত প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো এই সামরিক জোট গঠন করে। ১৯৪৯ সালের ৪ এপ্রিল ওয়াশিংটনে ১২টি দেশ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। ন্যাটো চুক্তির মূল শর্ত ছিল যে, জোটভুক্ত কোনো সদস্য রাষ্ট্রের ওপর আক্রমণ হলে তা সকল সদস্য রাষ্ট্রের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে এবং সম্মিলিতভাবে তার জবাব দেওয়া হবে। এই জোট গঠনের ফলে বিশ্ব রাজনীতিতে সামরিক মেরুকরণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এর প্রতিক্রিয়ায় সোভিয়েত ইউনিয়ন ও তার মিত্র দেশগুলো ১৯৫৫ সালে 'ওয়ারশ চুক্তি' (Warsaw Pact) গঠন করে। এভাবে ন্যাটো ও ওয়ারশ চুক্তির মাধ্যমে বিশ্ব দুটি সামরিক ব্লকে বিভক্ত হয়ে পড়ে, যা স্নায়ুযুদ্ধকে আরও জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী করে তোলে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenনির্বাচনী পরীক্ষা - Comilla Victoria Govt. College

শৌভিক ও নিলয় দুই দেশের বাসিন্দা। এরা বন্ধু হলেও আদর্শগত কারণে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব লেগেই আছে। একে অপরের বিরুদ্ধে চরমভাবে প্রচারণা চালায়। বিশ্বব্যাপী আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় উভয়ের মধ্যে প্রতিযোগিতা চরম আকার ধারণ করে। উভয়ের মধ্যে সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যায়। এদের মধ্যে কোনো প্রত্যক্ষ যুদ্ধ সংগঠিত হয়নি। ক. উইনস্টন চার্চিল কত সালে তাঁর বিখ্যাত 'ফুলটন বক্তৃতা' প্রদান করেন? খ. চার্চিলের ফুলটন বক্তৃতার মূল বক্তব্য কী ছিল? গ. উদ্দীপকে তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন দুটি দেশের আদর্শগত পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় - ব্যাখ্যা দাও। ঘ. উক্ত বিরোধিতার যে কোনো একটি পর্যায়ের বর্ণনা দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

beginarray|l|c| hline textbf'ক' রাষ্ট্র & textbf'খ' রাষ্ট্র hline textপুঁজিবাদী আদর্শে বিশ্বাসী & textকমিউনিজম আদর্শে ব...

‘NATO’ এর পূর্ণরূপ কী ?

NATO সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?

SEATO কত খ্রিষ্টাব্দে গঠিত হয় ?

আদর্শগত বিরোধ থাকলে অনেক সময় বন্ধুর সাথে বন্ধুর দ্বন্দ্ব। লেগে যায়। স্বপন ও সুদীপ্তর ক্ষেত্রে সেটিই ঘটেছিল। স্বপন সাম্...

আদর্শগত বিরোধ থাকলে অনেক সময় বন্ধুর সাথে বন্ধুর দ্বন্দ্ব লেগে যায়। স্বপন সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদের অনুসারী। অপরদিকে, স...

আধিপত্য বিস্তার ও কিছু আদর্শগত বিরোধকে কেন্দ্র করে ফুলবাড়ী ইউনিয়নের দুটি গ্রামের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ও সাংঘর্ষিত পরিস্...

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুটি দেশের মধ্যে প্রবল যুদ্ধের সম্ভাবনা দেখা দেয়। আগে থেকেই তাদের মধ্যে মতাদর্শগত দ্বন্দ্...

ইনকিলাব একটি দেশের রাজনৈতিক সংগঠন। এ সংগঠনের আদর্শ বিশ্বাসীরা তাদের দলের রাজনৈতিক আদর্শ ও দর্শন বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রে...

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন দুটি বিবদমান রাষ্ট্র। এ দুটি রাষ্ট্রের সংঘাত আরব-ইসরায়েল সংঘাত নামে পরিচিত। এ সংঘাতে দেশি-বিদেশি অ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।