Facebook Pixel

শিক্ষার মান উন্নয়ন হলে কুসংস্কার হ্রাস পায়, আবার শিক্ষার মান হ্রাস পেলে কুসংস্কার বৃদ্ধি পায়। তবে মাঝে এর ব্যতিক্রম ঘটে। ক. যুক্তিবাক্য কাকে বলে? খ. সকল বাক্যকে যুক্তিবাক্য বলা যায় না কেন? গ. উদ্দীপকের সাথে পাঠ্যপুস্তকের কোন বিষয়ের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকে প্রতিফলিত বিষয়টির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।

বিষয়: যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ যুক্তির উপাদান

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) উদ্দেশ্য এবং বিধেয় নামক দুটি পদের মধ্যে স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতি জ্ঞাপক কোনো সম্পর্কের লিখিত বা মৌখিক বিবৃতিকে যুক্তিবাক্য বলে। (খ) যুক্তিবাক্যের গঠনগত নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি যুক্তিবাক্যে দুটি পদ (উদ্দেশ্য ও বিধেয়) এবং একটি সংযোজক থাকা আবশ্যক। সকল বাক্য এই যৌক্তিক কাঠামো অনুসরণ করে না। সাধারণ ভাষায় অনেক বাক্য আবেগ, প্রশ্ন বা আদেশ প্রকাশ করে, যেগুলোতে উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদের মধ্যে কোনো যৌক্তিক সম্পর্কের বিবৃতি থাকে না। যেহেতু যুক্তিবাক্য কেবল সেই বিবৃতিকেই বলা হয় যা সত্য বা মিথ্যা হতে পারে, তাই সকল বাক্যকে যুক্তিবাক্য বলা যায় না। (গ) উদ্দীপকের সাথে যুক্তিবিদ্যার পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের বিপরীতমুখী সম্পর্কের সাদৃশ্য রয়েছে। যুক্তিবিদ্যায় পদের ব্যক্ত্যর্থ (পরিমাণ বা সংখ্যা) এবং জাত্যর্থ (গুণ বা বৈশিষ্ট্য) পরস্পর বিপরীতভাবে সম্পর্কিত। অর্থাৎ, কোনো পদের জাত্যর্থ বাড়লে ব্যক্ত্যর্থ কমে এবং জাত্যর্থ কমলে ব্যক্ত্যর্থ বাড়ে। উদ্দীপকে শিক্ষার মান (জাত্যর্থ বা গুণ) এবং কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষের সংখ্যা (ব্যক্ত্যর্থ বা পরিমাণ) নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। শিক্ষার মান উন্নত হওয়া মানে মানুষের যুক্তিবোধ বা জাত্যর্থ বৃদ্ধি পাওয়া, যার ফলে কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষের সংখ্যা বা ব্যক্ত্যর্থ হ্রাস পায়। আবার শিক্ষার মান হ্রাস পেলে মানুষের যুক্তিবোধ কমে যায়, ফলে কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। উদ্দীপকের এই সম্পর্কটি পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের ব্যস্তানুপাতিক নিয়মের সাথে হুবহু মিলে যায়। (ঘ) উদ্দীপকে প্রতিফলিত বিষয়টি হলো যুক্তিবিদ্যার পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের হ্রাস-বৃদ্ধির বিপরীতমুখী সম্পর্ক, যা যৌক্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত যথার্থ। যুক্তিবিদ্যার নিয়ম অনুযায়ী, একটি পদের জাত্যর্থ ও ব্যক্ত্যর্থের মধ্যে বিপরীতমুখী সম্পর্ক বিদ্যমান। উদ্দীপকে শিক্ষার মানকে গুণ বা জাত্যর্থ হিসেবে এবং কুসংস্কারকে ব্যক্ত্যর্থের সাথে সম্পর্কিত একটি বিষয় হিসেবে দেখানো হয়েছে। শিক্ষার মান বৃদ্ধি পাওয়া মানে মানুষের জ্ঞান ও যুক্তিবোধের গুণগত উৎকর্ষ সাধন, যা সমাজে কুসংস্কারের ব্যাপকতা বা ব্যক্ত্যর্থ কমিয়ে দেয়। একইভাবে শিক্ষার মান কমলে কুসংস্কারের বিস্তার বা ব্যক্ত্যর্থ বৃদ্ধি পায়। উদ্দীপকের শেষাংশে বলা হয়েছে, "তবে মাঝে এর ব্যতিক্রম ঘটে।" এটিও যুক্তিবিদ্যার নিয়মের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কারণ, বাস্তব জীবনে অনেক সময় উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিও কুসংস্কারে বিশ্বাস করতে পারেন, যা ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের নিয়মের সীমাবদ্ধতা নির্দেশ করে। যুক্তিবিদ্যায় এই নিয়মটি সাধারণ প্রবণতা হিসেবে কাজ করে, তবে বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বিশ্বাস বা সামাজিক পরিস্থিতির কারণে এর ব্যতিক্রম হওয়া অস্বাভাবিক নয়। সুতরাং, উদ্দীপকের বক্তব্যটি যুক্তিবিদ্যার পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের নিয়মের একটি বাস্তবসম্মত ও যথার্থ প্রয়োগ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

শিক্ষার মান উন্নয়ন হলে কুসংস্কার হ্রাস পায়, আবার শিক্ষার মান হ্রাস পেলে কুসংস্কার বৃদ্ধি পায়। তবে মাঝে এর ব্যতিক্রম ঘটে। ক. যুক্তিবাক্য কাকে বলে? খ. সকল বাক্যকে যুক্তিবাক্য বলা যায় না কেন? গ. উদ্দীপকের সাথে পাঠ্যপুস্তকের কোন বিষয়ের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকে প্রতিফলিত বিষয়টির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।