Facebook Pixel

রাজিব যে সমাজে বসবাস করত সে সমাজটি নানা জাতিভেদ প্রথা ও শ্রেণি বৈষম্যে বিভক্ত ছিল। সেখানে উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত-এ চার শ্রেণির মানুষ বসবাস করত। সমাজে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য ছিল প্রকট। অধিকাংশ লোক নিম্নমধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত শ্রেণিতে বসবাস করলেও তাদের তেমন কোনো অধিকার বা সামাজিক মর্যাদা ছিল না। প্রথম দুই শ্রেণিই সমাজের সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত এবং তাদের হাতেই ছিল মূলত সকল ক্ষমতা। ক. মুসলিম বিজয়ের প্রাক্কালে সিন্ধুর রাজধানী কোথায় ছিল? খ. ভারতবর্ষকে 'নৃতত্ত্বের জাদুঘর' বলা হয় কেন? গ. উদ্দীপকে বর্ণিত সমাজের সাথে প্রাক মুসলিম ভারতের কোন সমাজের বৈষম্যের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সমাজের অবস্থা যেন প্রাক মুসলিম ভারতবর্ষের আর্থসামাজিক চিত্র- পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ভারতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা

উৎস: Board Exam Question SB 2025, Board Exam Question JB 2025, Board Exam Question BB 2025, Board Exam Question DB 2025, Board Exam Question RB 2025, Board Exam Question CB 2025, Board Exam Question ChB 2025

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) মুসলিম বিজয়ের প্রাক্কালে সিন্ধুর রাজধানী ছিল আলোরে। (খ) ভারতীয় উপমহাদেশে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বাস। আর্যদের আগমন থেকে শুরু করে আধুনিককালে ইউরোপীয়দের আগমন পর্যন্ত বহু জাতি ভারতে প্রবেশ করেছে। প্রাচীন যুগে আর্য, দ্রাবিড়, পারসিক; মধ্যযুগে আরব, তুর্কি, আফগান, মুঘল এবং আধুনিক যুগে ইউরোপীয়রা এখানে বসতি স্থাপন করে। ফলে ভারতবর্ষ এক মহামানবের সাগরে পরিণত হয়েছে। মূলত এই জাতিগত বৈচিত্র্যের কারণেই ঐতিহাসিক স্মিথ ভারতবর্ষকে 'নৃতত্ত্বের জাদুঘর' বলে আখ্যা দিয়েছেন। (গ) উদ্দীপকে বর্ণিত সমাজের সাথে প্রাক-মুসলিম ভারতের হিন্দু সমাজের বৈষম্যের সাদৃশ্য রয়েছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, রাজিব যে সমাজে বসবাস করত তা জাতিভেদ প্রথা ও শ্রেণি বৈষম্যে বিভক্ত ছিল। সেখানে উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত, আর নিম্নবিত্তদের কোনো সামাজিক মর্যাদা বা অধিকার ছিল না। এই চিত্রটি প্রাক-মুসলিম ভারতের হিন্দু সমাজের বর্ণভেদ প্রথার অনুরূপ। আরবদের সিন্ধু বিজয়ের পূর্বে ভারতীয় সমাজ ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র এই চারটি বর্ণে বিভক্ত ছিল। ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয়রা সমাজে মর্যাদাবান ছিল এবং সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত। অন্যদিকে, বৈশ্য ও শূদ্ররা ছিল অবহেলিত ও বঞ্চিত। এমনকি ব্রাহ্মণরা শূদ্রদের অস্পৃশ্য মনে করত এবং তাদের সাথে সামাজিক মেলামেশা নিষিদ্ধ ছিল। সুতরাং, উদ্দীপকের সমাজের শ্রেণি বৈষম্য প্রাক-মুসলিম ভারতের বর্ণভেদ প্রথারই প্রতিফলন। (ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত সমাজের অবস্থা প্রাক-মুসলিম ভারতবর্ষের আর্থ-সামাজিক চিত্রেরই প্রতিফলন, যা পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করা হলো: মুহাম্মদ বিন কাসিম ও সুলতান মাহমুদের ভারত আক্রমণের সময় ভারতের সামাজিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত শোচনীয়। সমাজটি কঠোর বর্ণনীতির আওতায় বিভক্ত ছিল। ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র এই চার শ্রেণির মধ্যে সামাজিক লেনদেন বা বিবাহ কল্পনাই করা যেত না। এই বৈষম্য জাতীয় চেতনা গঠনের পথে প্রধান অন্তরায় ছিল। ব্রাহ্মণরা ধর্ম-কর্ম ও আচার-অনুষ্ঠানে ব্যস্ত থাকত, ক্ষত্রিয়রা যুদ্ধবিগ্রহে, বৈশ্যরা ব্যবসায় এবং শূদ্ররা কৃষি ও সাধারণ বৃত্তি পেশায় নিয়োজিত ছিল। গবেষক মুহাম্মদ ইনাম-উল-হক উল্লেখ করেছেন যে, হিন্দুদের এই শ্রেণিবিভাগ নীতি নিম্নস্তরের লোকদের ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল। সামাজিক কুসংস্কারের প্রভাব ছিল প্রকট। সমাজে সতীদাহ প্রথা প্রচলিত ছিল, যেখানে স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীকে চিতায় পুড়িয়ে মারা হতো। এছাড়া অস্পৃশ্যতা প্রথা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল। মৌর্য যুগে দাসপ্রথা সামাজিক অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায়, যেখানে নারীদের হাটবাজারে ক্রয়-বিক্রয় করা হতো। অর্থনৈতিকভাবে সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজা, ব্রাহ্মণ ও অভিজাতদের তুলনায় নিম্নবর্ণের মানুষ ও কৃষককুল নিদারুণ কষ্ট ভোগ করত এবং তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হতো। ড. ঈশ্বরীপ্রসাদের মতে, ধর্ম কুসংস্কারে ভারাক্রান্ত ছিল এবং কঠোর বর্ণ নীতি বিভিন্ন দলের মধ্যে ঐক্য স্থাপন অসম্ভব করে তুলেছিল। অতএব, উদ্দীপকের সমাজের বৈষম্যমূলক চিত্রটি প্রাক-মুসলিম ভারতবর্ষের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতারই একটি প্রতিচ্ছবি।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenSylhet Board (2025)Jessore Board (2025)Barisal Board (2025)Dhaka Board (2025)Rajshahi Board (2025)Cumilla Board (2025)Chattogram Board (2025)

রাজিব যে সমাজে বসবাস করত সে সমাজটি নানা জাতিভেদ প্রথা ও শ্রেণি বৈষম্যে বিভক্ত ছিল। সেখানে উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত-এ চার শ্রেণির মানুষ বসবাস করত। সমাজে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য ছিল প্রকট। অধিকাংশ লোক নিম্নমধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত শ্রেণিতে বসবাস করলেও তাদের তেমন কোনো অধিকার বা সামাজিক মর্যাদা ছিল না। প্রথম দুই শ্রেণিই সমাজের সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত এবং তাদের হাতেই ছিল মূলত সকল ক্ষমতা। ক. মুসলিম বিজয়ের প্রাক্কালে সিন্ধুর রাজধানী কোথায় ছিল? খ. ভারতবর্ষকে 'নৃতত্ত্বের জাদুঘর' বলা হয় কেন? গ. উদ্দীপকে বর্ণিত সমাজের সাথে প্রাক মুসলিম ভারতের কোন সমাজের বৈষম্যের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সমাজের অবস্থা যেন প্রাক মুসলিম ভারতবর্ষের আর্থসামাজিক চিত্র- পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

অটোমান সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সুলতান উসমানের নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এশিয়া মাইনরে বিদ...

অটোমান সিংহাসনে আরোহণ করে সুলতান সুলেমান সুসজ্জিত সামরিক বাহিনী গঠন করেন। তিনি সাম্রাজ্যের সমৃদ্ধি ও সীমান্ত অঞ্চলের নির...

অটোমান সুলতান অরখান জেনিসারি বাহিনী গঠন করে বিভিন্ন রাজ্যে অভিযান পরিচালনা করেন। এসব রাজ্য থেকে অর্থ-সম্পদ লুণ্ঠন করে তি...

অটোমান সুলতান দ্বিতীয় মুরাদ ইউরোপীয় রাষ্ট্রবর্গের সম্মিলিত শক্তির নেতৃত্বদানকারী হাঙ্গেরির বিখ্যাত সেনাপতি হুনিয়াদির কাছ...

আফ্রিকার একটি উপজাতি সূর্য দেবতার মন্দিরকে সবচেয়ে নিরাপদ ও শক্তির আধার মনে করে তাদের সকল ধন-সম্পদ যেখানে গচ্ছিত রাখে। তা...

আরব কর্তৃক সিন্ধু বিজিত হয় কত খ্রিষ্টাব্দে?

আরবদের সিন্ধু আক্রমণের পরোক্ষ কারণ ছিল- i. দেবল বন্দরে জলদস্যুদের জাহাজ লুণ্ঠন ii. সীমান্তের নিরাপত্তা বিধান iii. পারস্য...

'আরবদের সিন্ধু বিজয় একটি নিষ্ফল উপাখ্যান'- উক্তিটি কার?

আলাউদ্দিন হোসেনকে 'জাহানসুজ' বলার কারণ- i. গজনি অধিকার ii. হিরাত অধিকার iii. উক্ত নগরী ধ্বংস সাধন নিচের কোনটি সঠিক?

আহমদ শাহ ১৭৪৮ খ্রিষ্টাব্দে সিরহিন্দ আক্রমণ করেন। কিন্তু সিরহিন্দের শাসক মইন-উল-মুলক মানপুরের প্রথম যুদ্ধে তাকে পরাজিত কর...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।