ক.
কোনো জাতি বা শ্রেণিবাচক বিধেয় পদ বিশিষ্ট সদর্থক যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় পদের মধ্যে যে সকল সম্পর্ক থাকতে পারে সেই সম্পর্কসমূহকে বিধেয়ক বলে।
খ.
বিধেয় হলো যুক্তিবাক্যের একটি পদ তাই বিধেয় বিধেয়ক নয়। একটি যুক্তিবাক্য দুটি পদ থাকে যার মধ্যে একটি হলো বিধেয়। কোনো যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য পদ সম্পর্কে যা কিছু স্বীকার বা অস্বীকার করা হয় তাই বিধেয়। আর বিধেয়ক হলো একটি সম্পর্ক যা কেবল সদর্থক যুক্তিবাক্যে থাকে। বিধেয় যেহেতু একটি পদ কোনো সম্পর্ক নয়, তাই বিধেয় বিধেয়ক নয়।
গ.
উদ্দীপকের প্রথম বাক্যটিতে বিধেয়ক হিসেবে অবান্তর লক্ষণের ইঙ্গিত রয়েছে। কেননা কোনো ব্যক্তির জন্মস্থান বিধেয়ক হিসেবে ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ।
বিধেয়কের প্রকারভেদগুলোর মধ্যে সর্বশেষ প্রকরণ হলো অবান্তর লক্ষণ। যে গুণ বা গুণাবলি কোনো পদের জাত্যর্থের অংশ নয় এবং পদটির জাত্যর্থ থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয় না, সেসব গুণ বা গুণাবলিকে অবান্তর লক্ষণ বলে। বিভিন্ন প্রকার অবান্তর লক্ষণের মধ্যে একটি হলো ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ। যে অবান্তর লক্ষণ কোনো ব্যক্তি বিশেষের ক্ষেত্রে সব সময় উপস্থিত থাকে তাকে ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ বলে। যেমন— কোনো ব্যক্তির জন্মস্থান, জন্মতারিখ ব্যক্তির ক্ষেত্রে সব সময় উপস্থিত থাকে বিধায় এটি ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ।
উদ্দীপকের প্রথম বাক্যটিতে বলা হয়েছে যে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। এ বাক্যটিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মস্থান ও তাঁর পরিবারের উল্লেখ করা হয়েছে। আর কোনো ব্যক্তির জন্মস্থান আর পরিবার সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে সব সময় উপস্থিত থাকে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মস্থান ও তাঁর পরিবার ব্যক্তি হিসেবে তাঁর সাথে সব সময় উপস্থিত। তাই এটি ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের প্রথম বাক্যটিতে ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণের ইঙ্গিত রয়েছে।
ঘ.
উদ্দীপকের শেষ বাক্যটির গুণগুলো পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিভেদক লক্ষণ ও উপলক্ষণ। কেননা উদ্দীপকের শেষ বাক্যটিতে 'বুদ্ধিমান' এবং ‘বিচারশক্তিসম্পন্ন' এই দুটি গুণের উল্লেখ করা হয়েছে।
বিধেয়ক হলো এক প্রকার সম্পর্ক যা সদর্থক যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদের মধ্যে তৈরি হয়। পাঁচ প্রকার বিধেয়কের মধ্যে তৃতীয়টি হলো বিভেদক লক্ষণ বা লক্ষণ। সাধারণত বিভেদক লক্ষণ বলতে বিভেদ করার লক্ষণ বা গুণকে বোঝায়। যে গুণ বা গুণাবলি কোনো জাতির অন্তর্গত অন্যান্য উপজাতি থেকে একটি বিশেষ উপজাতিকে আলাদা করে সেই গুণ বা গুণাবলিকে বিভেদক লক্ষণ বলে। আবার, বিভেদক লক্ষণ হলো এমন গুণ যা কোনো জাতির সারসত্তাকে প্রকাশ করে। যেমন— বুদ্ধি নামক গুণটি মানুষ উপজাতিকে ‘জীব' জাতির অন্তর্গত অন্যান্য উপজাতি গরু, ছাগল, ভেড়া ইত্যাদি থেকে বিভেদ বা পৃথক করে। তাই ‘বুদ্ধিবৃত্তি’ গুণটি ‘মানুষ’ উপজাতির ক্ষেত্রে বিধেয়ক হিসেবে বিভেদক লক্ষণ। উদ্দীপকের শেষ বাক্যটিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পর্কে তাকে বুদ্ধিমান হলে অভিহিত করা হয়েছে যা বুদ্ধিবৃত্তিকে নির্দেশ করেছে। তাই 'বুদ্ধিমান' গুণটি দ্বারা বিধেয়কের প্রকারভেদ বিভেদক লক্ষণ নির্দেশিত হয়েছে।
আবার, বিধেয়কের প্রকারভেদগুলোর মধ্যে 'চতুর্থটি হলো উপলক্ষণ । সাধারণত উপলক্ষণ বলতে বোঝায় বিভেদক লক্ষণ থেকে নিঃসৃত কোনো গুণ। তাই বলা যায়, যে গুণ বা গুণাবলি কোনো পদের জাত্যর্থের অংশ নয়, তবে জাত্যর্থ বা এর কোনো অংশ থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয় তাকে উপলক্ষণ বলে । অর্থাৎ, উপলক্ষণ জাত্যর্থের অংশ না হলেও জাত্যর্থের সাথে অনিবার্যভাবে যুক্ত। উদ্দীপকের শেষ বাক্যটিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পর্কে তাকে বিচারশক্তিসম্পন্ন হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। বিচারশক্তিসম্পন্ন' গুণটি ‘মানুষ' পদের জাত্যর্থের অংশ নয় কিন্তু ‘মানুষ' পদের জাত্যর্থের অংশ 'বুদ্ধিবৃত্তি' থেকে নিঃসৃত হয়। তাই 'বিচারশক্তি সম্পন্ন' গুণটি দ্বারা বিধেয়কের প্রকারভেদ উপলক্ষণ নির্দেশিত হয়েছে।