Facebook Pixel

রফিক সাহেব ক্লাসে এমন কিছু চিন্তাবিদের নাম বললেন, যাদের গবেষণা কিংবা চিন্তা চেতনা বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতি জানতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। পরবর্তীতে ব্রিটিশ শাসন আমলে এ ধারা আরও সমৃদ্ধ হয়। আধুনিককালে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অপরাধপ্রবণতা সম্পর্কে জানতে এই বিষয়টি কার্যকরী ভূমিকা পালন করছে। এ বিষয়ের জ্ঞান দ্বারাই সমাজের যেকোনো পরিকল্পনা প্রণয়ন করা সম্ভব। ক. বাংলাদেশের সমাজ বিজ্ঞানের জনক কে? খ. সমাজবিজ্ঞান চর্চায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞান চর্চার পটভূমি ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকে সমাজবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়েছে - উক্তিটি মূল্যায়ন কর

বিষয়: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চার বিকাশ

উৎস: Board Exam Question DB 2022

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. বাংলাদেশের সমাজ বিজ্ঞানের জনক অধ্যাপক এ. কে. নাজমুল করিম। খ. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞান চর্চার চূড়ান্ত প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি রচিত হয়। ১৯৫৭-৫৮ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে সমামবিজ্ঞান বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভহগটি যাত্রা শুরু করার পর বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞান চর্চায় ব্যাপক দ্বার উন্নত উন্মোচিত হয়। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করেই বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের প্রাতিষ্ঠানিক পঠন-পাঠন ও আলোচনা বিস্তৃতি লাভ করেছে। তাই বলা যায় বাংলাদেশের সমাজ বিজ্ঞান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ. বাংলাদেশে সমাজ বিজ্ঞান চর্চার পটভূমি নিম্নে উদ্দীপকের আলোকে তুলে ধরা হলো : আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশে সমাজে চিন্তার ইতিহাস প্রায় দুই হাজার বছরের পুরনো। মৌর্য যুগের কূটনীতিবিদ কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র, গুপ্ত যুগের দার্শনিক বাৎসায়নের কামসূত্র, পারস্যের পন্ডিত আবু রাইয়ান আলবেরুনীর ভারততত্ত্ব, সুলতান মাহমুদের সভাসদ, মুঘল যুগের ইতিহাসবিদ আবুল ফজল এর আইন ই আকবরী, আকবর নামা ইত্যাদি গ্রন্থে সমাজ ও সংস্কৃতির চমৎকার বিবরণ পাওয়া যায়। এছাড়াও ব্রিটিশ আমলে ইতিহাসবিদ ও ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিসের সদস্য উইলিয়াম উইলসন হান্টার এর সামাজিক তথ্যের আকর গ্রন্থ The Imperial Gazetteer প্রকাশিত হলে উপমহাদেশে সমাজ নিয়ে চিন্তাভাবনা নতুন গতি লাভ করে। তাদের পাশাপাশি বাঙালি বুদ্ধিজীবীরাও সমকালীন রাজনীতি , অর্থনীতি, ইতিহাস ও প্রথাপদ্ধতির ছবি ফুটিয়ে তুলেছিলেন। যেমন বঙ্কিম চট্টোপাধ্যায়ের “লোক রহস্য”, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের “বোধোদন” ইত্যাদি। বিশের দশকে প্রতিষ্ঠিত শিখা গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত লেখকদের রচনাও আমাদের দেশের সমাজবিজ্ঞান চর্চার একটি পটভূমি তৈরি করেছিল। উদ্দীপকেও দেখা যায় রফিক স্যার সমাজবিজ্ঞানের চর্চার পটভূমিতে এমন কিছু চিন্তাবিদদের কথা ইঙ্গিত করেছেন। কেননা তাদের চিন্তা-ভাবনা আমাদের সমাজ ও সংস্কৃতি স্বরূপ জানতে সহায়তা করেছে। ঘ. উদ্দীপকে সমাজবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। নিম্নে উক্তিটি মূল্যায়ন করা হলো : সমাজ বিজ্ঞান অধ্যয়নের মাধ্যমে সামাজিক পরিবেশ সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জানা যায়। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ, তাদের সম্পর্ক, গোষ্ঠী, আচরণ, প্রভৃতি সম্পর্কে জানতে ও সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান অত্যন্ত প্রয়োজন সমাজের মানুষের আচার-আচরণ, অনুষ্ঠান, রীতিনীতি, মূল্যবোধ, প্রথা-প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে গভীর অনুসন্ধানের জন্য সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান প্রয়োজন। এছাড়াও পরিবার বিবাহ ও জ্ঞাতি সম্পর্কে এর ভূমিকা অনুধাবনেও সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান বিশেষ প্রয়োজন। পাশাপাশি কোন ঘটনার বা সামাজিক সমস্যার স্বরূপ উদঘাটন এবং তা সমাধানের জন্য সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান সহায়তা করে। দারিদ্র দূরীকরণ এবং এ সম্পর্কে পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে ও সমাজবিজ্ঞান ভূমিকা রাখে। সমাজবিজ্ঞান অধ্যয়নের মাধ্যমে সামাজিক পরিবর্তনের গতি-প্রকৃতি অনুধাবন করা যায়। সর্বোপরি মানুষকে তার অধিকার ও দায়িত্ববোধের বিষয়ে সচেতন করার পাশাপাশি সুনাগরিক গুণাবলী অর্জনে সমাজ বিজ্ঞান ভূমিকা পালন করে। উদ্দীপকেও বলা হয়েছে এ আধুনিক কালের জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং অপরাধ প্রবণতা এই সমস্যাগুলো সম্পর্কে জানতে সমাজবিজ্ঞান কার্যকরী ভূমিকা রাখে। এছাড়াও সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞানের মাধ্যমে যেকোনো সামাজিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা সম্ভব। সমাজবিজ্ঞানের শুধু এই কতিপয় গুরুত্ব উদ্দীপকে তুলে ধরা হলেও সামগ্রিকভাবে সমাজবিজ্ঞানের ব্যাপ্তি আরও বেশি। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে সমাজবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় নি।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenDhaka Board (2022)

রফিক সাহেব ক্লাসে এমন কিছু চিন্তাবিদের নাম বললেন, যাদের গবেষণা কিংবা চিন্তা চেতনা বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতি জানতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। পরবর্তীতে ব্রিটিশ শাসন আমলে এ ধারা আরও সমৃদ্ধ হয়। আধুনিককালে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অপরাধপ্রবণতা সম্পর্কে জানতে এই বিষয়টি কার্যকরী ভূমিকা পালন করছে। এ বিষয়ের জ্ঞান দ্বারাই সমাজের যেকোনো পরিকল্পনা প্রণয়ন করা সম্ভব।

ক.

বাংলাদেশের সমাজ বিজ্ঞানের জনক কে?

খ.

সমাজবিজ্ঞান চর্চায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।

গ.

উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞান চর্চার পটভূমি ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উদ্দীপকে সমাজবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়েছে - উক্তিটি মূল্যায়ন কর

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।