Facebook Pixel

রনি ছুটি পেলেই বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে যায়। বৌদ্ধধর্মের স্বর্ণযুগ বলে খ্যাত এবার সে সেখানে বেড়াতে আসে। এখানে সে বৌদ্ধদের দার্শনিক দিকের নিদর্শন হিসেবে সাক্ষী তিনটি স্তূপ দেখেছে। আসার সময় সে মায়ের জন্য শংকর ধাতুর একটা অলংকার নিয়ে আসে । ক. দ্রাবিড় কারা ? খ. ' শিলাদেবীর ঘাট ' সম্পর্কে যা জানো লেখ । গ. উদ্দীপকে ‘ শংকর ধাতু প্রত্নতত্ত্বের কোন স্তরকে নির্দেশ করে ? ব্যাখ্যা কর। ঘ. রনি কোন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে বেড়াতে গিয়েছিল উক্ত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের প্রত্নতাত্ত্বিক বিষয়সমূহ বিশ্লেষণ কর ।

বিষয়: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ প্রত্নতত্ত্বের ভিত্তিতে বাংলাদেশের সমাজ ও সভ্যতা

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. দক্ষিণ , মধ্য ও পশ্চিম শ্রীলঙ্কার অধিবাসী একটি বিশাল জনগোষ্ঠী , সেই জনগোষ্ঠীর মানুষকে দ্রাবিড় বলে । খ. মহাস্থানগড়ের দুর্গের বাইরে উল্লেখযোগ্য একটি স্থান হচ্ছে শীলাদেবীর ঘাট। রাজা পরশুরামের বড় বোন ছিলেন শীলাদেবী। কথিত আছে শীলাদেবী তান্ত্রিকসিদ্ধা ছিলেন এবং করতোয়া নদীর তীরে বসে তিনি দিব্যলোকে যান এবং সেজন্য ঐ স্থানটি হিন্দুদের নিকট মহাস্থান বলে পরিচিত। আবার এও কথিত আছে , সুলতান মাহি সওয়ারের নেতৃত্বে রাজা পরশুরাম পরাজিত ও নিহত হন এবং শীলাদেবী বন্দী হন। নিজ সম্মান রক্ষার্থে তিনি মুসলমান সুলতান মাহি সাওয়ারকে হত্যা করে করতোয়া নদীতে আত্মবিসর্জন দেন। শীলাদেবী যে স্থান থেকে নদীতে ঝাঁপ দেন সে স্থানটি ' শীলাদেবীর ঘাট ' নামে পরিচিত। গ. উদ্দীপকের শংকর ধাতু ' প্রত্নতত্ত্বের ব্রোঞ্জ যুগকে নির্দেশ করে। খ্রিস্টপূর্ব ৩ , ৫০০ থেকে ১ , ১০০ অব্দের মধ্যে ব্রোঞ্জ যুগ মেসোপটেমিয়া , মিসর , ভারত এবং চীনে শুরু হয়। অতঃপর ধীরে ধীরে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সময়ে এ যুগটির আবির্ভাব ঘটে। যেমন — খ্রিস্টপূর্ব ১৯০০ অব্দে ব্রিটেনে ব্রোঞ্জ যুগের সূচনা হয় এবং ১৪০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তা স্থায়ী হয়। ব্রোঞ্জ একটি ধাতব পদার্থ। এটি তামা ও টিনের সংমিশ্রণে তৈরি হয়। এ কারণে এ ধাতুকে সংকর ধাতুও বলা হয়। নব্যপ্রস্তর যুগের পর মাত্র কয়েকশত বছর তাম্র যুগ কাটে। তারপরেই ব্রোঞ্জ যুগের সূচনা হয়। এ সময় হাতিয়ার নির্মাণে ব্রোঞ্জের ব্যবহার দেখা যায়। এ কারণে শিকার করা মানুষের জন্য সহজ হয়। তবে একথা ঠিক যে , নতুন প্রস্তর যুগের পাথর নির্মিত হাতিয়ার একেবারে লোপ পেয়ে যায়নি তখনও। বরং শিকারের ক্ষেত্রে এবং গৃহস্থলীর কাজে পাথর নির্মিত দ্রব্যের ব্যবহারে বৈচিত্র্য আসে। উদ্দীপকের রনি ছুটি পেলেই বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে যায়। এবার সে বৌদ্ধধর্মের স্বর্ণযুগ বলে খ্যাত স্থানে বেড়াতে যায় এবং আসার সময় মায়ের জন্য শংকর ধাতুর একটি অলংকার নিয়ে আসে। শংকর ধাতু বলতে দুটি ভিন্ন ধাতুর সংমিশ্রণকে বোঝায়। আর ব্রোঞ্জ যুগে তামা ও টিন মিলিয়ে ব্রোঞ্জ নামক শংকর ধাতু তৈরি করা হতো। তাই বলা যায় , উদ্দীপকে শংকর ধাতু প্রত্নতত্ত্বের ব্রোঞ্জ যুগকে নির্দেশ করছে। ঘ. রনি পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার নামক প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে বেড়াতে গিয়েছিল । বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুর নামক স্থানে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার অবস্থিত। উক্ত বিহারের মতো এত বড় বৌদ্ধবিহার ভারতবর্ষের আর কোথাও আজ পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়নি। এখানে আবিষ্কৃত সোমপুর মহাবিহার , সত্যপীর ভিটা , জৈনবিহার প্রভৃতি নিদর্শনের কারণে পাহাড়পুর মহাবিহারকে বৌদ্ধধর্মের স্বর্ণযুগ মনে করা হয়। উদ্দীপকের রনি যেখানে বেড়াতে যায় সেটিও বৌদ্ধর্মের স্বর্ণযুগ বলে খ্যাত। এছাড়া সে সেখানে বৌদ্ধদের দার্শনিক দিকের নিদর্শন দেখেছে। এ থেকে বোঝা যায় , রনি পাহাড়পুরে ঘুরতে গিয়েছিল। পাহাড়পুর বিহারে প্রাপ্ত ঐতিহাসিক নিদর্শনসমূহ বাংলাদেশের সমাজ ও সভ্যতার ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। পাহাড়পুরে উদ্ধারকৃত প্রাচীন সম্পদের মধ্যে প্রস্তর মূর্তি অন্যতম। এখানে বৌদ্ধমূর্তি ছাড়াও হিন্দুদের অনেক দেবীর মূর্তি পাওয়া গিয়েছে। প্রস্তর মূর্তি ছাড়াও পাহাড়পুরে অনেকগুলো পোড়ামাটির ফলক পাওয়া গিয়েছে। কিছু পোড়ামাটির ফলকে - বৌদ্ধ ও ব্রাহ্মণ দেব - দেবীর চিহ্ন দেখা যায়। একদিকে যেমন পদ্মপাণি , মঞ্জুশ্রী ইত্যাদি মহাযানপন্থি বৌদ্ধ দেব - দেবীর মূর্তি পাওয়া গিয়েছে অন্যদিকে শিব , ব্রহ্ম , বিষ্ণু , গণেশ , সূর্য প্রভৃতি ব্রাহ্মণ দেবতার মূর্তিও স্থান পেয়েছে। পাহাড়পুরে অসংখ্য মুদ্রাও আবিষ্কৃত হয়েছে , যার প্রায় অধিকাংশ মুদ্রাই মুসলিম আমলের। এখানে বাগদাদের প্রসিদ্ধ খলিফা হারুন - অর রশীদের একটি রৌপ্যমুদ্রাও পাওয়া গিয়েছে। বাংলার সঙ্গে বাগদাদের যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল এ মুদ্রা তাই প্রমাণ করে। পাহাড়পুরের বেশির ভাগ মুদ্রাই ষোড়শ শতাব্দীর। পরিশেষে বলা যায় , পাহাড়পুর আবিষ্কৃত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহ তৎকালীন মানুষের পুরকৌশল এ স্থাপত্যবিদ্যার উৎকর্ষকে ফুটিয়ে তোলে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

রনি ছুটি পেলেই বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে যায়। বৌদ্ধধর্মের স্বর্ণযুগ বলে খ্যাত এবার সে সেখানে বেড়াতে আসে। এখানে সে বৌদ্ধদের দার্শনিক দিকের নিদর্শন হিসেবে সাক্ষী তিনটি স্তূপ দেখেছে। আসার সময় সে মায়ের জন্য শংকর ধাতুর একটা অলংকার নিয়ে আসে ।

ক.

দ্রাবিড় কারা?

খ.

'শিলাদেবীর ঘাট' সম্পর্কে যা জানো লেখ ।

গ.

উদ্দীপকে ‘শংকর ধাতু প্রত্নতত্ত্বের কোন স্তরকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

রনি কোন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে বেড়াতে গিয়েছিল উক্ত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের প্রত্নতাত্ত্বিক বিষয়সমূহ বিশ্লেষণ কর ।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A = সমাজের বৈশিষ্ট্য = i. যাযাবর জীবনযাপন করত ii. হস্তকুঠার, তীরধনুক ব্যবহার iii. আগুনের আবিষ্কার। B = সমাজের বৈশিষ্ট্য ...

Geographia গ্রন্থটি কে রচনা করেন?

ক. ময়নামতি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন কোথায় অবস্থিত? খ. "নব্যপ্রস্তর যুগের মানুষেরা বিভিন্ন কুসংস্কার বিশ্বাস করত"-ব্যাখ্যা...

ক. উয়ারী-বটেশ্বর কোন জেলায় অবস্থিত? খ. শালবন বিহার সম্পর্কে যা জানো লেখো। গ. উদ্দীপকে কীসের স্তরবিন্যাস দেখানো হয়েছে? উক...

ক. উয়ারী-বটেশ্বর কোথায় অবস্থিত? খ. শালবন বিহার সম্পর্কে যা জানো লেখো। গ. উদ্দীপকের A যে প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানকে নির্দেশ ...

ক. Culture শব্দটি সর্বপ্রথম কে ব্যবহার করেন? খ. আকাশ সংস্কৃতি বলতে কী বোঝায়? বুঝিয়ে লেখো। গ. ছক-২-এ বাংলাদেশের কোন প্রত্...

ক. লৌহের প্রথম ব্যবহার হয় কোথায়? খ. "সিন্ধু সভ্যতা ছিল নগরকেন্দ্রিক"- ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকের ছক-ক-এ নির্দেশিত যুগের ...

ক. প্রত্নতত্ত্বের প্রধান উদ্দেশ্য কী? খ. প্রাচীন প্রস্তর যুগের বৈশিষ্ট্যসমূহ লেখ। গ. প্রদর্শিত ১নং চিত্রটি কোন যুগের ইঙ্...

ক. লৌহ সংস্কৃতির আদি উৎপত্তিস্থল বলা হয় কাকে? খ. উয়ারী-বটেশ্বরের অধিবাসীদের ধর্মীয় বিশ্বাসের স্বরুপ ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্...

ক. ওজন ও পরিমাপ পদ্ধতির আবিষ্কার হয় কোন সভ্যতায়? খ. প্রত্নতত্ত্ব বলতে কী বোঝ? গ. ছক-১: কোন প্রত্নতাত্ত্বিক যুগকে চিহ্নিত...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।